ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনামুল আনাম, কি‌শোরগঞ্জ প্রতিনিধি

৩ মে ২০১৮, ১৫:০৫

বিশ্ব মুক্ত গনমাধ্যম দিবসে- ইয়ং জার্নালিস্ট ফোরামের আলোচনা সভা

3103_Kishoregang.jpg

কিশোরগঞ্জ জেলা শহ‌রে, "কি‌শোরগঞ্জ ইয়ং জার্নালিস্ট ফোরাম" এর উদ্দ্যোগে বিশ্ব মুক্ত গনমাধ্যাম দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পেশাদার সাংবাদিকদের দ্রুত তালিকা প্রনয়ণ, সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে যুগউপযোগী আইন বাস্তবায়ন ও জাতীয় গনমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

আজ বৃহস্প‌তিবার সকাল ১০ টায় শহরের (অস্থায়ী) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনের সাধারন সম্পাদক তানভীর আহমেদ তনয়ের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন তরুণ সাংবাদিক ও ইয়ং জার্নালিস্ট সভাপতি আল মামুন। সভায় শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি এস কে রাসেল। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার হৃদয়, অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, দপ্তর সম্পাদক রাজন মিয়া, দৈনিক শতাব্দীর কন্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সৈয়দ শাহজাহান, পাকুন্দিয়া প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার স্বপন হোসেন, দেশেরবার্তা'র বিশেষ প্রতিনিধি আবু হানিফ, দৈনিক বজ্রশক্তি'র হোসেনপুর প্রতিনিধি আজিজুল হক, ডি-বার্তা চ্যানেলের বিশেষ প্রতিনিধি মোখলেছুর রহমান, ভোরের বার্তা'র হোসেনপুর প্রতিনিধি সোহেল মিয়া প্রমূখ।

সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক আল মামুন বলেন, সাংবাদিকতা আজ সত্য, ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার অবিরাম প্রয়াস। এই প্রয়াসের মূল চালিকাশক্তি একজন সাংবাদিকের নিজ পেশার প্রতি আপসহীন নীতি, দায়িত্ববোধ ও সাহস। সাংবাদিকদের এই সাহসিকতা রোধে সুবিধাবাদী গোষ্ঠী বরাবরই সাংবাদিক সমাজে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করতে চায়। তা করা হয় হুমকি, হত্যা, জেলে পুরে, মামলা দিয়ে কিংবা সাংবাদিকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের মাধ্যমে।

তাছাড়াও বক্তারা আরও বলেন, আমরা যারা এই পেশার সঙ্গে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে যুক্ত, কেবল তারাই ভালো জানি সাংবাদিক নির্যাতনের এই বহুমাত্রিক পথ আমাদের এই গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় দিনকে দিন কতটা প্রসারিত হচ্ছে। এর পেছনে মূলত দায়ী জাতীয় কিংবা স্থানীয় রাজনীতির ক্ষমতার নষ্ট বলয়ে বেড়ে ওঠা কায়েমি স্বার্থবাদী মহল, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ব্যক্তির আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক দলের সমর্থক ও বিভিন্ন পেশাজীবী গোষ্ঠী। যাদের মূল কাজ অন্যের বা সরকারি সম্পদ জবরদখল বা দখল করতে সহায়তা করা এবং অবৈধ ব্যবসা, ঘুষ, তদবির ও অন্যায় পথে বাধা সৃষ্টিকারীদের ওপর নির্যাতন, গুম ও খুন।

স্বাগত বক্তব্যে সাংবাদিক এস কে রাসেল বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকরা। সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের অনিয়মের বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন করতে গেলে পড়তে হচ্ছে প্রতিবন্ধকতার মুখে। শিকার হতে হচ্ছে নির্যাতনের। সাংবাদিকদের ওপর এমন নির্যাতনের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলছে!
ঊস্তুনিষ্ঠ সত্য কোন সংবাদ প্রকাশ হলেই তাদের ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। যেটা কোনো সভ্য দেশের মানুষ আশা করে না। বিগত দিনে আমাদের দেশে যে সমস্ত সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদের বিচার না হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, হয়রানি ও আক্রমণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অপরাধীরা একজোট হয়ে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হচ্ছে। অপরাধী চক্রের মতো যেন পিছিয়ে নেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দায়িত্ব যাদের হাতে সেই পুলিশই এখন একের পর এক সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে।

অন্যান্যদের বক্তব্যে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক হত্যার বিচার এবং হয়রানি-নির্যাতনের ঘটনার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ না হওয়ায় এ সব ঘটনা বেড়ে গেছে। দ্বিধাবিভক্তি দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে না পারলে এ সব ঘটনা প্রতিরোধ করা যাবে না। সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের পাশাপাশি একটি কার্যকর সুরক্ষা কৌশল ও নীতিমালাও জরুরী। বিচারহীনতার কারণে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশ, সন্ত্রাসী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা নির্যাতন এবং হয়রানি করছে। হত্যাকান্ডসহ সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের ঘটনার সঠিক বিচার হলে এসব ঘটনা মারাত্মক অবস্থায় পৌঁছাতো না।