ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

স্টাফ রিপোর্টার:

৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১৫:০১

প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছেন শিক্ষকরা

313_photo-1514969268.jpg

বেতন-ভাতার সরকারি অংশের (এমপিওভুক্তি) দাবিতে আন্দোলেন থাকা শিক্ষকরা আর কাউকে বিশ্বাস করতে চাইছেন না। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আশ্বাস না আসা পর্যন্ত তাঁরা তাঁদের আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

পাশাপাশি আজকের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো সমাধান সরকারের পক্ষ থেকে না এলে আগামীকাল থেকে স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তাঁরা।

আজ বুধবার টানা চতুর্থ দিনের মতো নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে শিক্ষকরা আমরণ অনশন পালন করছেন। এখন পর্যন্ত ৪৪ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে নীতিমালা অনুসারেই নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার আশ্বাস দেন। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেননি। এ কারণে আমরণ অনশনে থাকা শিক্ষক-কর্মচারীরা শিক্ষামন্ত্রীর এই আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করে নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

সকালে অনশনে স্যালাইন নিয়ে শুয়ে থাকা ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহামুদুন্নবী ডলার বলেন, ‘মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে আমরা সেই ২০১২ সাল থেকে দফায় দফায় বৈঠক করেছি। কোনো কাজ হয়নি। তিনি শুধুই সময়ক্ষেপণ করেছেন। তাই আমরা আর কাউকেই বিশ্বাস করছি না। আমরা চাই, প্রধানমন্ত্রী আমাদের কিছু বলুক। তিনি নিশ্চয় আমাদের দুঃখ বুঝবেন।’

অনশনের সমন্বয়কারী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই পর্যন্ত ৪৪ জন অসুস্থ হয়েছেন। তাঁদের প্রায় সবাই এখানে স্যালাইন নিয়ে শুয়ে আছে। যত অসুস্থ হচ্ছে, অনশন তত বেগবান হচ্ছে। আমরা খবর পেয়েছি, আজ সারা দিনে আরো অনেক শিক্ষক এসে যোগ দেবেন অনশনে।’

সকালে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি জানান লেখক-কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। তিনি বলেন, সরকারের টাকার অভাব নেই, অভাব আছে অন্তরিকতার। প্রতিদিন বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে, লুটেরারা লুট করছে। এগুলো বন্ধ করুন। সেই টাকা মানুষ গড়ার কারিগরকে দিন। আজ দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হচ্ছে, শিক্ষকদের এখন শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা ছিল; কিন্তু তাঁরা আছেন রাস্তায়।’

সৈয়দ আবুল মকসুদ আরো বলেন, ‘আজকের ভেতরে সরকারকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। আর এই অনশন থেকে যদি কোনো শিক্ষক মারা যান, তবে এর দায় সরকারের নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী, আপনি শিক্ষকদের দিতে তাকান।’

আমরণ অনশনে থাকা আরো অনেক শিক্ষক জানান, তাঁদের আর কোনো উপায় খোলা নেই সামনে। তারা তাঁদের দাবি পূরণ করেই কেবল অনশন ভাঙবেন। এর আগে তাঁরা একটুও নড়বেন না। সরকার যদি দাবি না মানে, আগামীকাল থেকে আন্দোলন আরো বেগবান হবে বলেও জানান শিক্ষকরা।