ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি ডেস্ক

৭ মে ২০১৮, ১১:০৫

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ জন প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ

3162_5.jpg
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ জন প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন। আমেরিকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করা মুসলিম ব্যক্তিদের মধ্য থেকে এই ২৫ জনকে বেছে নেওয়া হয়। শতাধিক মানুষের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করেছে সিএনএন।
তবে চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া কিছু ব্যক্তি সিএনএনের এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। ব্যক্তিগত কারণের কথা উল্লেখ করে এ কথা বলেন তাঁরা। অবশ্য বেশির ভাগ মানুষই এতে স্বেচ্ছায় অংশ নিয়েছেন। শতাধিক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ২৫ জন প্রভাবশালীর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হয়। তাঁদের মধ্যে আছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। আছেন কমেডিয়ান, কংগ্রেস সদস্য, অলিম্পিকে অংশ নেওয়া ক্রীড়াবিদ থেকে শুরু করে ফ্যাশন ডিজাইনারও।

প্রতিটি বিভাগে পাঁচজন মুসলিম নারী-পুরুষকে নির্বাচিত করেছে সিএনএন। তাঁরা হলেন:
সংস্কৃতি
১. হাসান মিনহাজ: বেশ কয়েক বছর ধরে ‘দ্য ডেইলি শো’ নামের জনপ্রিয় একটি অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেছেন হাসান মিনহাজ। প্রতি সপ্তাহে কমেডি সেন্ট্রাল নামের স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচারিত হয় ‘দ্য ডেইলি শো’। স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান হিসেবে হাসান মিনহাজের খ্যাতি আছে যুক্তরাষ্ট্রে। সম্প্রতি নিজের একক টক শো প্রচারের জন্য নেটফ্লিক্সের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি।

২. ইবতিহাজ মুহাম্মদ: এই মুসলিম নারী একজন সফল ক্রীড়াবিদ। ২০১৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনে প্রথম মুসলিম-আমেরিকান হিসেবে হিজাব পরে অংশ নিয়েছিলেন ইবতিহাজ। শুধু অংশগ্রহণই নয়, ব্রোঞ্জপদকও জিতেছিলেন তিনি। এবার বিশ্ব ফেনসিং চ্যাম্পিয়নশিপকে লক্ষ্যে রেখে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তিনি।
৩. রামি নাশাশিবি: ‘মুসলিম অ্যাকশন নেটওয়ার্ক’ নামের একটি সংগঠন চালান রামি। বিভিন্ন শহরের নানা সম্প্রদায়ের মধ্যে কার্যক্রম চালায় এই সংস্থা। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কার্যালয়ের একজন উপদেষ্টা ছিলেন তিনি।

৪. জি. উইলো উইলসন: উইলো একজন কার্টুনিস্ট। কমিকস নিয়ে কাজ করেন তিনি। ‘সুপারম্যান’ নামের একটি কমিকসের দুটি ইস্যুতে অতিথি লেখক হিসেবে ছিলেন এই নারী। তাঁর লেখা কমিকসগুলো প্রায়শই বেস্ট সেলারের মর্যাদা পেয়ে থাকে।
নাইলা লিমাস
৫. নাইলা লিমাস: ফ্যাশনিস্তা হিসেবে খ্যাতি আছে নাইলার। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে খুব দ্রুত উত্থান হয়েছে এই মুসলিম নারীর। ২০১৫ সালে নিজের ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান ও মডেলিং এজেন্সি খোলেন নাইলা। ফ্যাশনে আগ্রহী যেকোনো নারীকে সুযোগ দেওয়ার পক্ষে নাইলা লিমাস।

শিক্ষা
১. শেখ হামজা ইউসুফ: খুব কম বয়সেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন শেখ হামজা ইউসুফ। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন শিক্ষাবিদের সঙ্গে প্রায় দুই দশক কাটিয়েছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে ২০০৯ সালে তিনি জায়তুনা কলেজ নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ তাঁকে পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ইসলামি শিক্ষাবিদ বলে মনে করে থাকেন।

২. শারম্যান জ্যাকসন: তিনি একজন আফ্রিকান-আমেরিকান মুসলিম। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ইসলামি চিন্তা ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শারম্যান। এ ছাড়া আমেরিকান লার্নিং ইনস্টিটিউট ফর মুসলিমসের সহপ্রতিষ্ঠাতা তিনি।

৩. ফেরিয়াল সালেম: ইলিনয় রাজ্যে বেড়ে ওঠা এই নারী শিক্ষাবিদ ধর্মীয় প্রতিনিধিত্বমূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে থাকেন। নতুন প্রজন্মের কাছে ফেরিয়াল সালেম অত্যন্ত পরিচিত। দ্য মুসলিম ওয়ার্ল্ড নামের একটি জার্নালের সহযোগী সম্পাদক তিনি।
 ইবু প্যাটেল
৪. ইবু প্যাটেল: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট পাওয়া ইবু উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বড় আন্তসম্প্রদায়গত সংস্থা চালান। তাঁর সংস্থার বাজেট প্রায় সাড়ে আট মিলিয়ন ডলার। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা কাউন্সিলের একজন সদস্য ছিলেন ইবু প্যাটেল। তিনি একজন আমেরিকান-মুসলিম।
সুয়াদ আবদুল খবির
৫. সুয়াদ আবদুল খবির: তিনি একজন শিক্ষাবিদ ও শিল্পী। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে মুসলিম-আমেরিকান স্টাডিজ বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন সুয়াদ আবদুল খবির।
 কিথ এলিসন
রাজনীতি
১. কিথ এলিসন: প্রথম মুসলিম-আমেরিকান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একজন সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন কিথ এলিসন। কোরআন শরিফের ওপর হাত রেখে শপথ নিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন তিনি।

২. লিন্ডা সারসাওয়ার: এই নারী রাজনীতিককে মার্কিন মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন আপসহীন নেত্রী হিসেবে অভিহিত করে থাকেন অনেকে। একটি ফিলিস্তিনি অভিবাসী পরিবারে জন্ম নেওয়া লিন্ডা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া বার্নি স্যান্ডার্সের প্রচারণা দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

৩. অ্যান্ডার কারসন: ১‍৬ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন অ্যান্ডার। স্থানীয় একটি মসজিদে পুলিশ ঢোকার ঘটনায় বাধা দেওয়া গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে মার্কিন পুলিশ বাহিনীতেই যোগ দিয়েছিলেন অ্যান্ডার। কংগ্রেসের দুজন মুসলিম সদস্যের মধ্যে তিনি একজন।

৪. ফারহানা খেড়া: নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা ফারহানা যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের বিচার বিভাগীয় কমিটিতে কাজ করেছিলেন। সাংবিধানিক আইন বিষয়ে তিনি একজন বিশেষজ্ঞ। তাঁর আইন প্রতিষ্ঠান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছিল।

৫. ইলহান ওমর: ইলহানের জন্মস্থান সোমালিয়া। ওই দেশ থেকে আসা প্রথম আমেরিকান-মুসলিম আইনপ্রণেতা তিনি। ২০১৬ সালে মিনেসোটার হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভের সদস্য নির্বাচিত হন এই নারী। অভিবাসী ও শরণার্থী ইস্যু নিয়ে কাজ করে থাকেন ইলহান।

বিশ্বাস ও চর্চা
১. ইমাম জাইদ শাকির: বিমানবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে কানেটিকাটে ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইমাম জাইদ শাকির। ওর মাধ্যমে মাদক ও সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করছেন তিনি। তাঁকে অন্যতম প্রধান মুসলিম শিক্ষাবিদ বলে মনে করা হয়।

২. হিন্দ মাক্কি: যুক্তরাষ্ট্রের মসজিদগুলোয় নারীদের নামাজ পড়ার ভালো ব্যবস্থা না থাকায় বিরক্ত হয়েছিলেন হিন্দ মাক্কি। সাইড এন্ট্রান্স নামের একটি ব্লগ চালান এই নারী। সেখানে এ নিয়ে আলোচনা তোলেন তিনি। এভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মসজিদের ছবি আদান-প্রদানের একটি কর্মসূচি শুরু করেন হিন্দ মাক্কি। সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল। এভাবে মুসলিম সম্প্রদায়ে লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

৩. ইমাম ওমর সুলেইমান: ইমাম হিসেবে কাজ করেন ওমর সুলেইমান। ইয়াকিন ইনস্টিটিউট ফর ইসলামিক রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি তিনি।

৪. এম. হাসনা মাজনাভি: হাসনা একজন লেখক ও কমেডিয়ান। তাঁর স্বপ্ন ছিল যুক্তরাষ্ট্রে একটি সুপরিসর মসজিদ নির্মাণ করা। ২০১৫ সালে নারীদের জন্য বিশেষ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন হাসনা। আমেরিকায় শুধু নারীদের জন্য নির্মিত প্রথম মসজিদ এটি।
ইমাম সুহাইব ওয়েব
৫. ইমাম সুহাইব ওয়েব: ‘স্ন্যাপচ্যাট ইমাম’ হিসেবে খ্যাতি আছে সুহাইবের। কায়রোর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা সুহাইব ইমামতি করার জন্য বেছে নিয়েছেন স্ন্যাপচ্যাট নামের মেসেজিং অ্যাপকে। বিশ্বের নানা প্রান্তের মুসলিম তরুণ-তরুণীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন সুহাইব।

গণমাধ্যম
১. ডিন ওবেইদাল্লাহ: সিরিয়াসএক্সএম নামের একটি রেডিও শো সঞ্চালনা করেন ডিন। আইনজীবী থেকে কমেডিয়ান বনে যাওয়া এই ব্যক্তি প্রথম আমেরিকান-মুসলিম হিসেবে রেডিও শো পরিচালনার দায়িত্ব পান।

২. দালিয়া মোগাহেদ: গ্যালাপ সেন্টার ফর মুসলিম স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন দালিয়া। কোটি কোটি মুসলিম কী ভাবছেন, তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তা বের করে ফেলেছেন তিনি। বর্তমানে ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল পলিসি অ্যান্ড আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন দালিয়া।

৩. রেজা আসলান: ১৯৮০-এর দশকে ইরান থেকে রেজার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসে। তখন তাঁর বয়স ছিল মোটে সাত। ধর্মবিষয়ক বেশ কয়েকটি বেস্ট সেলার বই লিখেছেন রেজা আসলান। লেখক হিসেবে মার্কিন মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁর বেশ প্রভাব আছে। তাঁকে নিয়ে বিতর্কও আছে।
 আমানি আল-খাতাহ্তবেহ
৪. আমানি আল-খাতাহ্তবেহ: MuslimGirl.com নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালান আমানি। এই অনলাইন ম্যাগাজিন যেকোনো ‘অযৌক্তিক ধর্মীয় নির্দেশনা’ বিরুদ্ধে কথা বলে থাকে।
 ওয়াজাহাত আলী
৫. ওয়াজাহাত আলী: ‘মুসলিম ফায়ারম্যান’ হিসেবে খ্যাতি আছে ওয়াজাহাতের। গার্ডিয়ান, নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন বিখ্যাত পত্রিকায় লিখে থাকেন ওয়াজাহাত। তিনি একজন লেখক, আইনজীবী ও পরামর্শক।

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, তালিকায় থাকা প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বদের মধ্যে কেউ ছিলেন কট্টরপন্থী, কেউ আবার উদারপন্থী। তাঁদের বেশির ভাগই অভিবাসীর সন্তান এবং আফ্রো-আমেরিকান। প্রায় শত বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন তাঁদের পরিবার। এঁদের সমন্বয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের অন্যতম উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে।