ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ মে ২০১৮, ১৪:০৫

মাহাথির মোহাম্মদ : চিকিৎসক থেকে প্রধানমন্ত্রী

3252_Mhathir.jpg
৯২ বছর বয়সী মাহাথির মোহাম্মদ আবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। ২২ বছর ক্ষমতায় থাকার পরে ২০০৩ সালে তিনি অবসরে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার ভাষায়, জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সংশোধন করার জন্য তিনি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হলেন।

শুধুমাত্র তার একসময়ের শিষ্য নাজিব রাজাককেই তিনি পরাজিত করেননি, তার দল 'ইউনাইটেড মালয়িস ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন'কে হারিয়ে এক সময়ের প্রতিপক্ষ পাকাতান হারাপান কোয়ালিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তিনি দুই বছর ক্ষমতায় থাকতে চান। এরপর তিনি কারাবন্দী নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।

মাহাথির মোহাম্মদের উত্থান

২১ বছর বয়সে রাজনীতি শুরু করেন মাহাথির মোহাম্মদ। তখন তিনি তার সাবেক দল ইউএমএসওতে যোগ দেন। যদিও পরবর্তী সাত বছর একজন চিকিৎসক হিসাবে তিনি প্রাকটিস অব্যাহত রাখেন।

১৯৬৪ সালে তিনি কেদাহ প্রদেশ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু ১৯৬৯ সালে তিনি সেই আসনটি হারান আর দল থেকেও বহিষ্কৃত হন, কারণ তখনকার প্রধানমন্ত্রী টাঙ্কু আবদুল রহমানের সমালোচনা করে তিনি একটি প্রকাশ্য চিঠি লিখেছিলেন।

এরপর তিনি 'মালয় ডিলেমা' নামের একটি বিতর্কিত বই লেখেন। সেখানে তিনি মন্তব্য করেন, দেশটির মালয় জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এটি দলের তরুণদের তার পক্ষে টেনে নিয়ে আসে এবং তাকে পুনরায় দলে ফেরত নেয়া হয়। ১৯৭৪ সালে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন এবং শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরের চারবছরের মধ্যে তিনি ইউএমএমও দলের উপ নেতা নির্বাচিত হন।

১৯৮১ সালে তিনি প্রথম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তার শাসনামলে মালয়েশিয়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। যদিও তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কিছু অভিযোগ আছে, কিন্তু অর্থনৈতিক সাফল্য তাকে মালয়েশিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তোলে।

গণতন্ত্রের কালো অধ্যায়

বহু বিতর্কিত ইন্টারনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের আওতায় অনেক বিরোধী রাজনীতিবিদকে কারাগারে পাঠানো হয়।

১৯৯৮ সালে তার উপপ্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে বরখাস্তের পর দুর্নীতি আর সমকামিতার অভিযোগে কারাগারে পাঠানো হয়।

পশ্চিমা দেশগুলো নিয়ে তার সমালোচনা বহির্বিশ্বেও তাকে আলোচিত করে তোলে।

প্রধানমন্ত্রী থেকে ২০০৩ সালের অক্টোবরে অবসরের সময় তিনি বলেন, ''আমি অসন্তুষ্ট...কারণ সফল হওয়ার জন্য আমি যেসব অর্জন করতে চেয়েছিলাম, তার সামান্যই অর্জন করতে পেরেছি।''
তবে অবসরের পরেও তিনি রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাননি।

২০০৮ সালের নির্বাচনের দলের খারাপ ফলাফল জন্য তিনি তার উত্তরসূরি আবদুল্লাহ বাদাইর প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। আবদুল্লাহর পদত্যাগের পর নাজিব রাজাক ক্ষমতায় আসেন।

প্রথমদিকে নাজিব রাজাককে সমর্থন করলেও, দেশটির একটি বিনিয়োগ তহবিলে নাজিব রাজাকের দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ার পর তা পাল্টে যায়।

এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ও পার্টির পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দলের নেতাকর্মীদের সমর্থন দাবি করেন মাহাথির মোহাম্মদ। কিন্তু সেখানে সাড়া না পাওয়ার পর ২০১৬ সালে তিনি এবং আরো কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা দল থেকে পদত্যাগ করেন এবং বিরোধী পক্ষে যোগ দেন।
এ বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেন।

বিরোধীদের মূল্যায়ন

অনেককে অবাক করে মাহাথির মোহাম্মদ স্বীকার করেছেন, তিনি জীবনে অনেক ভুল করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে আনোয়ার ইব্রাহিমকে বরখাস্ত করা।

তবে আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে জোট বাধার পর তাকে এক নম্বর অভিনেতা বলে বিদ্রূপ করেছেন নাজিব রাজাক।

ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় নিয়ে লেখা একটি বইয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ বাদাই বলেছেন, ''মাহাথির তার নিজের পথেই চলেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, তার পথই একমাত্র পথ।''
যে কৌশলে বুড়ো বয়সে ভেলকি দেখালেন মাহাথির

মালয়েশিয়ার সাধারণ নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছেন দীর্ঘ দিন পর রাজনীতিতে ফিরে আসা ৯২ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।

দেশটিতে স্বাধীনতার পর থেকেই ক্ষমতায় থাকা তারই সাবেক দল বারিসান ন্যাশনাল কোয়ালিশন এই প্রথমবারের মতো হারলো।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মাহাথিরের নেতৃত্বে বিরোধী জোট পাকাতান হারাপান অ্যালায়েন্স মোট আসন পেয়েছে ১১৫টি। সরকার গঠনে তাদের দরকার ছিল ১১২টি আসন।

তারই একসময়ের শিষ্য, যার কাছে তিনিই ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন, সেই নাজিব রাজাকের দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতির কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে অবসর জীবন থেকে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হন মাহাথির।

সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, আমরা প্রতিশোধ নিতে চাই না, আমরা শুধুমাত্র আইনের শাসন পুনর্বহাল করতে চাই।

বৃহস্পতিবারই শপথ নিতে চান মাহাথির মোহাম্মদ। এরপর তিনিই হবেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রধানমন্ত্রী। ১৯৫৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকেই দেশটিতে ক্ষমতায় রয়েছে বোরিসান ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স। কিন্তু দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের জনপ্রিয়তা কমেছে।

২০১৩ সালেও বিরোধীরা অনেক ভোট পেয়েছিল, কিন্তু সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন পায়নি। তখনকার বিরোধী নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ এনে কারাগারে পাঠানো হয়।

ইব্রাহিমের দাবি ছিল, এটি রাজনৈতিক হয়রানিমুলক মামলা। ২০১৬ সালে বোরিসান অ্যালায়েন্স ত্যাগ করে আলাদা দল গঠন করেন মাহাথির মোহাম্মদ। পরে তিনি বিরোধীদের নিয়ে জোট গঠন করেন।