ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা

১২ মে ২০১৮, ১২:০৫

‘কার্বন কপি’র নির্বাচন কমিশন !

নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এই কমিশনের দায়িত্ব হলো জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে যাতে জনমতের প্রতিফলন ঘটে এবং সরকার জনপ্রতিনিধিত্বশীল হয় সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রের নির্বাচন কমিশনই এই মহতি দায়িত্বই পালন করে আসছে। অবশ্য আমাদের দেশের নির্বাচন কমিশনের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথায় প্রচলিত আছে। তা  খুবই স্বাভাবিকও বটে। কারণ, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আমাদের কোন নির্বাচন কমিশনই বিতর্কমুক্ত ছিল না বা থাকার কথাও নয়। কারণ, কমিশন যাদের নিয়ে গঠিত হয় তারা সকলেই মানুষ। তাই মানবীয় ভুলত্রুটি হওয়া তাদের জন্য মোটেই অস্বাভাবিক নয়। সঙ্গত কারণেই অতীতের সকল নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক ছিল, আছে এবং আগামী দিনেও থাকবে। এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোন সুযোগ আছে বলে মনে হয় না।
মূলত মানুষের কোন কাজই বিতর্কের উর্দ্ধে নয়। কিন্তু কেউ বা কোন পক্ষ যদি এই শতসিদ্ধ বিষয়টিকে অজুহাত বানিয়ে মানবীয় ভুলের ছদ্মাবরণে অপরাধমূলক কাজ করে তা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অবশ্য এসব যারা করেন তাদের কর্ম অপরাধের সংজ্ঞার মধ্যে পড়লেও  সংশ্লিষ্টরা তা মানবীয় ভুল বলেও স্বীকার করতে চায় না। এমনকি তারা এসব গর্হিত কাজের সাফাই গাইতেও কুন্ঠাবোধ করেন না বরং  অপরাধ করে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলতেই তাদেরকে স্বাচ্ছন্দবোধ করতে দেখা যায়। আসল বিপত্তিটা সেখানেই।
আগেই উল্লেখ করেছি যে, আমাদের দেশের কোন নির্বাচন কমিশনই বিতর্কের উর্দ্ধে ছিল না। তবে বহুল আলোচিত ও সমালোচিত নির্বাচন কমিশন ছিল সাবেক আমলা কাজী রকিব উদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন ‘রকিব কমিশন’। জনশ্রুতি আছে যে, এই কমিশনের কাজ ছিল জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা নয় বরং নাগরিকদের ভোটাধিকার কিভাবে হরণ করে মহল বিশেষ আনুকুল্য দেয়া। একথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, আমাদের দেশের ভঙ্গুর গণতন্ত্রের পিঠে শেষ পেরেকটি গেঁথে দিয়েছিল এই রকিব কমিশনই। শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয় বরং বিশ^ ইতিহাসের এমন মেরুদন্ডহীন ও আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশন আর কখনো এসেছে বলে জানা যায় না। মূলত রকিব কমিশনের পৌণপৌণিক ব্যর্থতা ও আজ্ঞাবাহী ভূমিকা কারণেই আমাদের দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এখন খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে। যা থেকে উত্তরণ শুধু কষ্টসাধ্য নয় বরং ক্ষেত্র বিশেষে দুঃসাধ্য বলেও মনে করার কারণও দৃশ্যমান।
আসলে রকিব কমিশন ছিল আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশন। সরকার বিরোধীদের অভিযোগ ছিল এই কমিশন ছিল মেরুদন্ডহীন। কোন এক অদৃশ্য সুতার টানেই এই  কমিশনের কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়। পুতুল নাচের পুতুল ছাড়া এই কমিশনকে অন্য কিছু বলার সুযোগ ছিল না। কারণ, তারা বিশেষ গোষ্ঠীর অঙ্গলী হেলনেই সব কিছু করেছেন। দেশের প্রচলিত নির্বাচনী আইনগুলোকে সংশোধন মহল বিশেষকে অনুকুল্য দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। অকারণে বা সামান্য ছলছুতায় অনেকের প্রার্থীরা বাতিল করা হলেও ক্ষেত্র বিশেষে আবার ঘটেছে তার উল্টোটা। কেউ নির্বাচন করতে না চাইলেও তাকে জোরজবরদস্তি করে নির্বাচন করানো হয়েছে। মূলত দেশে গোষ্ঠীতন্ত্র ও সামন্তবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করা দরকার এই কমিশন তার সবকিছুই করেছে।  ৫ জানুয়ারির নির্বাচন থেকে নিজেকে ও দলকে নির্বাচন থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। কিন্তু রকিব কমিশন সাবেক রাষ্ট্র্রপতির প্রার্থীতা প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ করেন নি। কোন নির্বাচনে অংশ নেয়া বা না নেয়া ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু ইসি সে অধিকার থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতিকে বঞ্চিত করেছে। এমনকি  তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ না দিলেও কমিশনের তেলেসমাতিতে বিজয়ী হয়ে এমপি হয়েছেন।  যা রকিব কমিশনের সংবিধান ও আইন লঙ্ঘনের শামিল এতে কোন সন্দেহ থাকে না। সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত থেকে এমন সংবিধান ও আইন লঙ্ঘনের ঘটনা অতীতে কখনো দেয়া যায়নি। আর ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভব না খুবই কম।
মূলত একটি একতরফা ও প্রহসনের নির্বাচনকে বৈধতা দেয়ার জন্য রকিব কমিশন এমন অন্যায় ও গর্হিত কাজটি করেছিল। কথিত এই নির্বাচনে ভোটারদের কোন আগ্রহ ছিল না। শুধুমাত্র রাজধানীর ২৯টি কেন্দ্রে কোন ভোটারই ভোট প্রদান করেনি। কিন্তু রকিব কমিশন ঘোষিত ফলাফলে ভৌতিক ভোটের কোন অভাব হয় নি। বিশে^র কোন গণতান্ত্রিক দেশে এমন বিনাভোটের ভেলকিবাজী  বিশ^বাসী কখনো প্রত্যক্ষ করেছে বলে এখনও জানা যায়নি। রকিব কমিশনের এমন ন্যাক্কারজনক ব্যর্থতা ও নির্লজ্জ দলবাজীর পরও তাদেরকে কখনো অনুশোচনা করতে দেখা যায় নি বরং বিদায় মহুর্তে বিদায়ী কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার  বেশ গর্ব করেই বলেছিলেন, ‘ নতুন কমিশন বিদায়ী কমিশনের নিরপেক্ষতার ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে’। তার কথা কেউ আমলে না নিলেও  তিনি যে জনগণের হাসির পাত্র হয়েছিলেন তা বোঝার জন্য পন্ডিত হওয়ার দরকার নেই।
যাহোক কেউ নিজের ব্যর্থতা কোন দিনই স্বীকার করেন না। তাই রকিব সাহেবের এমন ভৌতিক দাবির মধ্যে কেউ অভিনবত্ব খুঁজে পাননি। কিন্তু রকিব কমিশনের বিদায়ে কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন ‘হুদা কমিশ’ নিয়ে জনমনে কিছুটা হলে আশার সঞ্চার হয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে কিছু পদক্ষেপ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কিছু সাহসী বক্তব্য আমরা অনেকটাই আশান্বিতই হয়েছিলাম। কিন্তু সে আশায় ‘গুঁড়ে বালি’ হতে চলেছে। আমরা যে দুর্ভাগা জাতি সে কথার প্রমাণ হতে খুব একটা সময় লাগেনি। সংসদের বাইরের বিরোধী দলগুলো ই-ভোটিং নিয়ে বারবার আপত্তি তোলার পরও তা হুদা কমিশনের কাছে কেন তা ‘যক্ষের ধন’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে তা কারো কাছেই বোধগম্য হচ্ছে না।
আমাদের মত দ্রারিদ্র পিড়ীত দেশের নির্বাচন কমিশন কেন ‘ঘোড়া রোগ’ এ আক্রান্ত হলো তাও রীতিমত দুর্বোধ্য। নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য সকল নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিয়োগের দাবি তোলা হলেও ‘সংবিধানে সেনাবাহিনীকে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সংজ্ঞায় আনা হয়নি’ সরকারি দলের এমন বক্তব্যে ঐশ^ী নির্দেশনার মত অলঙ্ঘনীয়ই মনে করছে  বর্তমান কমিশন কমিশন। তাই নিন্দুকদের বলতে শোনা যাচ্ছে রকিব কমিশনের প্রেতাত্মা হুদা কমিশনের ঘাড়ে চেপে বসেছে। কিন্তু এমন তীর্ষক মন্তব্য করার পরও নির্বাচন কমিশনকে সকল পক্ষকে আস্থায় আনার মত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না। মূলত লাউ আর কদুর মধ্যে কোন তফাৎও খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। আমাদের দুর্ভাগ্যটা তো সেখানেই।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাবেক সিইসি রকিব সাহেবের কথায় আবারও আলোচনা এসেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে, বিদায়ী কমিশনের মত নতুন কমিশন তাদের ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে। বাস্তবতাও বোধহয় সেদিকেই অগ্রসর হচ্ছে। কারণ, বর্তমান কমিশনও মহল বিশেষের  কোন কথার বাইরে যেতে পারছে বলে মনে হয় না বরং যন্ত্রীর তালে তালে তারাও ইতোমধ্যেই নৃত্য করতে শুরু করেছেন। বাউল শিল্পিরা ‘মানুষ ভজন’ এর জয়গান গাইলেও আমাদের নির্বাচন কমিশনকে ‘ক্ষমতা কীর্তন’ এ ব্যস্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে।  জানা গেছে, বিরোধী দলগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও এমপিরা যাতে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময় প্রচার চালাতে পারে তার পক্ষে মত দিয়েছে ইসি। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আইন, বিধি-বিধান প্রণয়ন কমিটির এক সভায় এ প্রস্তাব তোলা হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এ সুযোগ চান। তবে ইসির সঙ্গে বৈঠক করে এর বিরোধিতা করেছিলেন বিরোধী দলীয় প্রতিনিধি। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশন কারো কোন কথাকে আমলে না নিয়েই ক্ষমতাসীনদের পক্ষে একতরফা মতামত প্রদান করেছে। যা দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারে।
মূলত নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা  এখন দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। আর এই প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কর্মতৎপরতায় আলোচনায় এসেছে। তারা কার স্বার্থে কাজ করছে; তারা জনস্বার্থে কাজ করছে কি না- এনিয়ে অনেকের জনমনে সন্দেহ সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ঢাকা সিটি উত্তর নির্বাচন নিয়ে তো রীতিমত নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে বলেই মনে করা হয়। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নিয়ে একই দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও আপীল বিভাগ সম্প্রতি নির্বাচন করার পক্ষেই রায় দিয়েছে। মূলত নির্বাচন কমিশনের সর্বসাম্প্রতিক অবস্থান জনস্বার্থের পরিপন্থী বলেই মনে করছেন দেশের সচেতন মানুষ। এর মাধ্যমে ভোটারদের ভোটাধিকার লঙ্ঘন ও সংবিধান লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। জনগণ দারুণভাবে সংক্ষুব্ধ হচেছন এবং হুদা কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা ও ভরসা এখন রীতিমত তলানীতে।
আসলে হাইকোর্টের আদেশে একের পর এক নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পরও কার্যকর কোনো ভূমিকা না নেয়া, ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ করতে না পারা, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের কারণে সীমানা পুননির্ধারণ থেকে পিছু হটা এবং বিরোধী দলগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও সংসদ সদস্যদের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রচারণার সুযোগ দেয়ার উদ্যোগসহ নানা কারণে আস্থার সংকটে পড়েছে নির্বাচন কমিশন । এসব কারণে দায়িত্বভার গ্রহণের দেড় বছর না হতেই তাদের পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা ইসির কাজে শিথিলতা দেখছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, কার স্বার্থে কাজ করছেন তারা? কিন্তু হুদা কমিশন এসব প্রশ্নে কোন গ্রহণযোগ্য জবাব দিতে পারছে না। ফলে ইতোমধ্যেই হুদা কমিশন নৈতিক পরাজয় মেনে নিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের পক্ষে বিশেষ মহল ও গোষ্ঠীকে আনুকুল্য দেয়া ও পৌণপৌণিক ব্যর্থতার পরও তারা এসব অভিযোগ কবুল করতে একেবারেই নারাজ। কমিশনের পক্ষে দাবি করা হচ্ছে,  সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানের কোনো ব্যর্থতা নেই। সবকিছু ঠিকঠাকভাবেই চলছে। ঢাকার দুই সিটির পর গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। এছাড়া ঢাকা সিটি নির্বাচন স্থগিতের পর এ নির্বাচন করার বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ইসির ‘উদ্দেশ্য’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। কিন্তু এসব অভিযোগ অসার প্রমাণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।
নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে গত ৬ মে সীমানাবিরোধ নিয়ে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ওপর হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দেন। সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি শোনার পর ওই নির্বাচনের সব কর্মকান্ড বন্ধ ঘোষণা করে ইসি। ওইদিনই গণমাধ্যমের সূত্রের বরাত দিয়ে নির্বাচন কমিশন গাজীপুর সিটি নির্বাচন স্থগিত করে দেয়।  কিন্তু বর্তমান কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে,  নির্বাচন কমিশন নির্বাচন-সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের খবর গণমাধ্যমে দেখেও ‘লিখিত অভিযোগ না পাওয়া’র কথা বলে কোনো ব্যবস্থা নেয় না।  নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের মতে,  গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশের পর নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে শিথিলতা রক্ষা করা গেছে। এর আগেও ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে একই ঘটনা ঘটেছিল। গাজীপুর তারই কার্বন কপি।
মূলত ভোট গ্রহণের খুব কাছাকাছি এসেই গাজীপুর সিটির  নির্বাচন স্থগিত হয়। কিন্তু ইসি এই বিষয়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এর আগে ডিএনসিসি নির্বাচন স্থগিত করা হলেও ইসি একই ভুমিকা পালন করেছিল। তারা এসব স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে কোন আইনী পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি বা কোন ভাবেই আত্মপক্ষ সমর্থন করেনি। ডিএনসিসি নির্বাচনের স্থগিতাদেশের এক মাস পর তারা (ইসি) আপিলে গিয়েছিল। কিন্তু এর ফলাফল কী হয়েছে তা এখনো আমাদের কাছে অজানায় রয়ে গেছে। সঙ্গত কারণে নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে।’  মূলত ‘হাইকোর্ট স্থগিত করলেও তার ওপর তো অ্যাপিলেট ডিভিশন আছেন; চেম্বার জজ আছেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে ধরি মাছ না ছুই পানির ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা গেছে। কমিশন দাবি করছে যে,  রায়ের লিখিত কপি না আসলে কিছু করার থাকে না। কিন্তু লিখিত কপি  পাওয়ার আগেই না (ইসি) রায়ের কথা শুনেই সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনের সব কাজ স্থগিত করে দিয়েছেন। এতে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য শুধু দায়সারা গোছেরই নয় বরং মহল বিশেষের অনুকুলেই বলেই মনে করছেন আত্মসচেতন মানুষ।
মূলত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ করতে পারছে না ইসি-এ অভিযোগ তো বেশ জোড়ালো। গত বছর ডিসেম্বরের মধ্যে সংসদীয় আসনের সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশের কথা থাকলেও তা করেছে ৩০ এপ্রিল। ৩৮টি আসনের সীমানা পরিবর্তন এনে ৩০০ আসনের খসড়া গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে শুনানি শেষে ২৫টির পরিবর্তন আনা হয়। কিন্তু চূড়ান্ত সংসদীয় সীমানা বিশ্লেষণ করে দেখে গেছে, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা খসড়া তালিকাতে থাকলেও পরে তাতে পরিবর্তন আনা হয়নি। এ কারেণে বিরোধী দলগুলো ইসির নতুন সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে।
গত ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাঁচটি আইন ও নয়টি বিধিমালার সংস্কার চূড়ান্তের কথা থাকলেও এগুলোর কোনোটি এখনও শেষ হয়নি। নির্বাচন সামনে রেখে অংশীজনদের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংলাপ শেষ করতে পারলেও সময়মতো সংশ্লিষ্টদের  কাছে পাঠানোর কথা থাকলেও তা শেষ করতে এপ্রিল পার হয়ে যায়। মূলত  ইসির বিতর্কিত কর্মকান্ড আস্তে আস্তে দৃশ্যমান হচ্ছে। সব নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আছে। কারণ এ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। ইসি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে। তাই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবিও তোলা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে।
সার্বিক দিক বিবেচনায় হুদা কমিশন রকিব কমিশনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করছে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে। তাই চলমান স্থানীয় সরকার নির্বাচন সহ জাতীয় নির্বাচনগুলো যে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে এমনটা আশা করাটা বেশ দূরূহ বলেই মনে হচ্ছে। তাই জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ‘হুদা কমিশন কি রকিব কমিশনের কার্বন কপি ’?