ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি ডেস্ক

১৩ মে ২০১৮, ১১:০৫

বিশ্বকাপে বড় ভুল!

3320_6.jpg
‘ভুল’-এর সাথে ‘শূল’-এর একটা মিলা আছে। চাইলে ছন্দ মিলিয়ে ছড়াও লেখা যায়। কিন্তু ফুটবলারদের জন্য এই শব্দযুগল নিদারুণ এক বাস্তবতা। ভুল করলেই যে চড়তে হয় শূলে! এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ আসরগুলো শুধু অসাধারণ ফুটবলীয় কীর্তির জন্ম দেয়নি; জন্ম দিয়েছে কিছু হাস্যকর, কিছু মর্মান্তিক এবং কিছু ঐতিহাসিক ভুলের।
মস্ত ভুল?
প্রথম বিশ্বকাপ জিততে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল ব্রাজিলকে। অথচ সেই শিরোপা আসতে পারত তৃতীয় আসরেই। সেমিফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইতালির মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। তাদের সমর্থকেরা বিস্ময়ের সাথে আবিষ্কার করল, গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে দলে নেই আগের তিন ম্যাচে পাঁচ গোল করা লিওনিডাস দা সিলভা। অতি আত্মবিশ্বাসী কোচ আদমেয়ার পিমেনতা জানালেন, ‘তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে ফাইনালের জন্য।’ মস্ত বড় ভুল!
২-১ গোলে হেরে গেল ব্রাজিল। ওই আসরে তৃতীয় হওয়ার সান্ত্বনা নিয়ে দেশে ফিরল দল। বিতর্কের মুখে আগের ভাষ্য পাল্টে ফেললেন কোচ। জানালেন, লিওনিডাসকে খেলানো হয়নি ইনজুরির কারণে। এমনও শোনা গেল, ইতালির ফ্যাসিবাদী নেতা বেনিতো মুসোলিনির চাপেই নাকি দলের সেরা খেলোয়াড়টিকে বসিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছিল ব্রাজিল!
অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড
শুধু ‘বিখ্যাত’ হওয়ার জন্য এমন একটা কাণ্ড করে বসবেন! কী করেছেন ইলুঙ্গা মেপু? জানতে হলে ফিরে যেতে হবে ১৯৭৪ বিশ্বকাপে। আগের ম্যাচে ০-৯ গোলে যুগোস্লাভিয়ার কাছে হেরে যাওয়া জায়ারে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি ব্রাজিলের। ব্রাজিলের পক্ষে ফ্রি-কিকের বাঁশি। বল জায়গামতো বসিয়ে ব্রাজিলের পক্ষ থেকে কেউ কিক নেয়ার আগেই ওয়াল থেকে এগিয়ে গিয়ে কিক মেরে বসলেন মেপু! এতটাই হাস্যকর কাণ্ড, পরে ফ্যান্টাসি ফুটবল লিগ নামের একটি টিভি অনুষ্ঠানে গিয়ে সেটির অভিনয়ও করে দেখাতে হয়েছে তাকে। সন্দেহ নেই, এই উদ্ভট কাণ্ড কিছুটা হলেও খ্যাতি এনে দিয়েছিল তাকে। ‘আমার নাম ইতিহাসে লেখা থাকবে। এই ঘটনা স্মরণীয় হয়ে থাকবে মেপুর কৌশল হিসেবে’—পরে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন এই সাবেক ডিফেন্ডার। স্মরণীয় হয়ে আছে বৈকি; মেপুর ‘কৌশল’ নয়, অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড হিসেবে!
‘ঈশ্বরের হাত’
পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি উচ্চতার দিয়েগো ম্যারাডোনা লাফিয়ে উঠে ছাপিয়ে গেলেন ছয় ফুট এক ইঞ্চির পিটার শিলটনকেও। হেড করতে সুবিধা হচ্ছে না দেখে বাঁ হাতে বল ঠেলে দিলেন জালে। রেফারির লম্বা বাঁশি। ইংলিশ খেলোয়াড়েরা তো বটেই, ম্যারাডোনার সতীর্থরাও হতভম্ব। পরে ম্যারাডোনাই ফিসফিসিয়ে বললেন, ‘আরে আমাকে জড়িয়ে ধরো শিগগিরই। নইলে রেফারি না আবার গোলটা বাতিল করে দেয়!’ ১৯৮৬ বিশ্বকাপে তিউনিশিয়ান রেফারি আলি বিন নাসেরের ভুল জন্ম দিল হ্যান্ড অব গড!
ভুলের মাশুল!
প্রাণের বিনিময়ে ভুলের মাশুল দিতে হয়েছিল আন্দ্রে এসকোবারকে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি কলম্বিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের মিডফিল্ডার জন হারকেসের ক্রস ক্লিয়ার করতে মরণপণ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এই ডিফেন্ডার। ফল হলো উল্টো। পায়ে লেগে বল চলে গেল নিজেদের জালে! ভুলের ক্ষতিপূরণ নয় দিন পর দিতে হয়েছিল এসকোবারকে। কলম্বিয়ায় এক পানশালার সামনে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন তিনি। উন্মত্ত সেই আততায়ীর ১২টি বুলেটে বিদ্ধ হয়ে সেখানেই মারা যান তিনি। কলম্বিয়ার উন্মাদ সমর্থক, নাকি দল দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়া বাজিকরদের কাণ্ড—এ নিয়ে ধোঁয়াশা আছে এখনো।
চাপ
প্রাণ দিতে না হলেও রবার্তো ব্যাজ্জোর কাছ থেকেও চড়া মাশুল আদায় করেছে ওই ১৯৯৪ বিশ্বকাপ। ফাইনালে ইতালি মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিলের। নির্ধারিত সময়ে গোল করতে ব্যর্থ দুই দলই। অবশেষে টাইব্রেকই ভাগ্যের নিয়ন্তা। প্রথম দুটো শটই মিস দিয়ে শুরু করল দুই দল... নাহ্, এসব কিছু নয়। ম্যাচ শেষে ব্যাজ্জোর সেই ভুল এখনো নিশ্চয়ই বিঁধে আছে তাঁর বুকে! মহা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা পঞ্চম শটটি নিতে এলেন ব্যাজ্জো। মিস করলেই দুঙ্গার হাতে উঠবে শিরোপা। চাপে ভেঙে পড়লেন ইতালির ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকাও। বল মারলেন ওপর দিয়ে!
ফাঁদ
টোটাল ফুটবল নামের অব্যর্থ এক মারণাস্ত্র নিয়ে ১৯৭৪ বিশ্বকাপে হাজির হয়েছিল নেদারল্যান্ড। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে উঠে এসেছিল রাইনাস মিশেলস আর ইয়োহান ক্রুইফের দল। জার্মানিকে হারাতে পারলেই বহু আরাধ্যের শিরোপা উঠবে হাতে। নেদারল্যান্ডের পক্ষেই বাজি ধরার লোক ছিল বেশি।
কিন্তু এরই মধ্যে ফন্দি আঁটল জার্মান ট্যাবলয়েড বিল্ড। ফাইনালের আগে ডাচ খেলোয়াড়দের হোটেলে একদল তন্বী-তরুণীকে পাঠিয়ে দিলো পত্রিকাটি। হোটেলের পুলে স্নানরত ডাচ খেলোয়াড়েরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই তরুণীর দল বিবস্ত্র হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল পানিতে। লুকিয়ে থাকা ক্যামেরায় বন্দী হলো সেই ছবি। পরদিন ফলাও করে ছাপা হলো বিল্ড-এর প্রথম পাতায়। শিরোনাম: ক্রুইফ, শ্যাম্পেন, বিবস্ত্র বালিকারা এবং একটি শীতল স্নান!
ফাইনাল নিয়ে ছক কষবেন কী, ক্রুইফকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাতে হলো ফোনে, ও প্রান্তে ক্রুদ্ধ ক্রুইফের স্ত্রী। ফাইনালে কিন্তু জার্মানরা বলের ছোঁয়া পাওয়ার আগেই পেনাল্টি থেকে গোল পেয়ে গেল নেদারল্যান্ড। মনে হচ্ছে, ভালোই প্রতিশোধ নেবে তারা। বেশ আত্মবিশ্বাসীও দেখাচ্ছিল। কিন্তু অতি আত্মবিশ্বাসই কাল হলো। শেষ পর্যন্ত ১-২ গোলের হার। নেদারল্যান্ডের শিরোপা জেতাই হলো না। কোন সুদূর ভবিষ্যতে সোনালি ট্রফিটা ধরা দেবে তাদের হাতে—কে জানে!
ইনজুরি
ফ্রান্সের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপে খেলেছেন। জিতেছেন ১৯৮৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপও। কিন্তু সাবেক ফরাসি ডিফেন্ডার প্যাট্রিক ব্যাটিস্টন স্মরণীয় হয়ে আছেন অন্য কারণে। ১৯৮২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল জার্মানি-ফ্রান্স। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন ব্যাটিস্টন। ১০ মিনিটের মতো খেলা হয়েছে। মিশেল প্লাতিনির বাড়িয়ে দেয়া বল নিয়ে ডিফেন্ডারদের পাশ কাটিয়ে ঢুকে গেলেন ব্যাটিস্টন। সামনে শুধু গোলরক্ষক হ্যারল্ড শুমাখার। শট নিলেন। মিস! শূন্যে লাফিয়ে ওঠা শুমাখার গিয়ে পড়লেন ব্যাটিস্টনের মুখের ওপর। সাথে সাথে জ্ঞান হারিয়ে একদম কোমাতেই চলে গেলেন রক্তাক্ত ব্যাটিস্টন। প্লাতিনি পরে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, প্যাট্রিক বুঝি মরেই গেছে!’
নায়ক-খলনায়ক
‘ট্র্যাজিক হিরো’র যথার্থ বাংলা কী? খুঁজে পাওয়া মুশকিল হলে ২০০২ বিশ্বকাপের অলিভার কানকে দিয়েই বুঝে নিন! টুর্নামেন্টজুড়ে কী দুর্দান্তই না খেললেন। অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হয়। গোলরক্ষকদের তো আর সেই সুযোগ নেই। তবে পেছন থেকে যোগ্য নেতৃত্বটাই দিলেন। ওই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হিসেবে গোল্ডেন বলও জিতেছেন। কিন্তু ফাইনালে করে বসলেন ছেলেমানুষী ভুল। যে ভুলের ফায়দা লুটলেন রোনালদো, পঞ্চম শিরোপা জিতল ব্রাজিল। ফাইনালের আগ পর্যন্ত মাত্র একটা গোল খাওয়া কান ওই ম্যাচে নিজের ভুলে খেলেন দুটো গোল!