ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১৬ মে ২০১৮, ১৫:০৫

আহলান সাহলান মাহে রমজান !

রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির মহান বারতা নিয়ে বছর ঘুরে আবারও আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে পবিত্র মাহে রমজান। এই মোবারক মাসেই বিশ^ মানবতার মুক্তির সনদ মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিল হয়। এই মহিমান্বিত মাসে নাযিল হয় বলেই কুরআনের বিশেষ মর্যাদা। আর কুরআন নাযিলের কারণেই মাহে রমজান বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে। এ মাসে সিয়াম পালন করে আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনকে ফরজ করা হয়েছে। পবিত্র কালামে পাকে ঘোষিত হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ ! তোমাদের ওপর সিয়াম পালনকে অত্যাবশ্যকীয় করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর অত্যাবশ্যকীয় ছিল; যেন তোমরা খোদাভীতি তথা তাকওয়া অর্জন করতে পার’। হাদিস শরীফে এ মাসের প্রথম দশকে রহমত, দ্বিতীয় দশকে মাগফিরাত ও শেষ দশককে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অন্যত্র বলা হয়েছে,‘ যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে রমজান মাসে সিয়াম পালন করে আল্লাহ তার পূর্বের সকল গোনাহ মার্জনা করে দেন এবং যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে কিয়াম পালন করে আল্লাহ তার সব গোনাহ মাফ করে দেন’। এই মাসের গুরুত্ব ও মর্যাদা অপরিসীম।
এ মাসের মর্যাদা বর্ণনায় রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সে ব্যক্তি ধবংস হোক যে জীবনে রমজান মাস পেল অথচ গোনাহ মাফ করাতে পারলো না’। এই মহিমান্বিত ও মোবারক মাসেই বিশ^ মানবতার মুক্তির সনদ মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিল করা হয়। যা শুধু একটি ধর্মগ্রন্থই নয় বরং পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। এই মাসেই ‘লাইলাতুল ক্বদর’ নাম এক মহিমান্বিত রজনী রয়েছে। কালামে পাকে এ রাতকে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই এই রাতের গুরুত্ব ও মর্যাদা অনুধাবন করে তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য খুবই জরুরী। অতএব আমাদেরকে একনিষ্ঠভাবে সিয়াম, কিয়াম পালন এবং মাহে রমজানের মর্যাদা রক্ষা করে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন  মুক্তি অর্জন করতে হবে।
পবিত্র মাহে রমজান আত্মসংযম, প্রশিক্ষণ, তাকওয়া অর্জন ও আত্মগঠনরে মাস। হাদিসে রাসুল (সা.) এ সিয়ামকে মু’মিনের জন্য ঢাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসে কুদসীতে বলা হয়েছে, ‘ আল্লাহ বলেন সিয়াম আমার জন্য, আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব’। অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, ‘ রোজাদারদের জন্য সুসংবাদ দু’টি। একটি হলো ইফতারের সময় আর অপরটি হলো আল্লাহর সান্নিধ্যর সময়’। মূলত তাকওয়া, তাজকিয়া ও আত্মগঠনের মাধ্যমে শোষণ ও বঞ্চণামুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টায় হচ্ছে সিয়াসের প্রকৃত শিক্ষা। এই মহিমান্বিত মাসেই ইসলামের মর্যাদা রক্ষার প্রথম যুদ্ধ ‘বদর যুদ্ধ’ সহ ইসলামের ইতিহসের বড় বড় ঘটনাগুলো সংঘঠিত হয়েছিল। এ মাসের একটি নফল ইবাদত অন্য মাসের একটি ফরজের  এবং  একটি ফরজ ইবাদত অন্য মাসের ৭০ টি ফরজের সমতুল্য। তাই এই মহিমান্বিত মাসের গুরুত্ব কাজে লাগিয়ে আমাদেরকে তাকওয়া ও আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
মূলত সিয়ামের শিক্ষা ও মর্যাদা সম্পর্কে গণসচেতনা সৃষ্টি ও পবিত্রতা রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।  পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে দ্রব্যমূল্য কমানো হলেও আমাদের দেশ তার ব্যতিক্রম। কারণ, রমজান শুরু হওয়ার  আগেই আমাদের দেশে অনাকাঙ্খিত দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটে। মূলত সরকারের উদাসীনতা ও একশ্রেণির অতি মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের কারণেই এই মূল্যস্ফীর্তির ঘটনা ঘটে। এমনকি এই মোবারক ও মহিমান্বিত মাসে নগ্নতা, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, অবৈধ প্রদর্শনী ও দিনের বেলা হোটেল রেস্তোরা খোলা রাখা হয়। যা মাহে রমজানে মর্যাদা ও গুরুত্বের সাথে মোটেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বস্তুত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সিয়াম পালনে নানাবিধ জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। তাই দেশের সকল শ্রেণির মানুষের সিয়াম পালননে নিবিঘর্œ ও স্বাচ্ছন্দপূর্ণ করতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ সহ অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টির দায়িত্ব সরকারের। আর রমজানের পবিত্রতা রক্ষার দায়িত্বও সরকার কোন ভাবেই উক্ষো করতে পারে না।  আমরা আশা করবো সরকার সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে। আসুন আমরা প্রত্যেকেই সিয়াম ও কিয়াম পালনে একনিষ্ঠ হই এবং কল্যাণ লাভ করি!‘আহলান সাহলান মাহে রমজান !!!’ এই হোক আমাদের স্লোগান !