ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

দেলোয়ার হোসেন

২৪ মে ২০১৮, ১৬:০৫

মাদকের বিষাক্ত ছোবলে আক্রান্ত বাংলাদেশ

3664_madook.jpg
মাদকাসক্তির মর্মান্তিক ঘটনার চিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিনিয়ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশ আজ মাদকের ছোবলে জর্জরিত। প্রতিটি শহর ,উপশহর ,এমনকি গ্রামে সকল ধরণের মাদক সহজ ভাবে পৌছে যাচ্ছে । এতে আসক্ত হচ্ছে জাতির চালিকা শক্তি যুব সমাজ, হাজার হাজার কচি কোমলমুখ স্কুল পড়ুয়া উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণী । নেশা দ্রব্যকে ঘিরে নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্তদের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে বিরাট ব্যবসা-বানিজ্য ।

দেশের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে মাদক নেই । মাদকের ছোবলে জাতি ধ্বংসের পথে, দ্রুত ধাবিত হচ্ছে অন্ধকারের দিকে । নষ্ট হচ্ছে মেধা,চিন্তা শক্তি , হারিয়ে যাচ্ছে তরুণ সমাজের সম্ভাবনাময় শক্তি। তরুণ প্রজন্মেরর একটা অংশ অকর্মণ্য ও অক্ষম হয়ে পড়ছে। এতে বিভিন্ন প্রকার সামাজিক অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে । জরিয়ে যাচ্ছে অনৈতিক কাজে। সন্ত্রাস,ধর্ষণ,চাদাবাজি,ছিনতাই,খুন,রাহাজানি ইত্যাদি বেড়েই চলছে। মাদকাসক্তি জীবনকে সর্বনাশের দিকে ধাবিত করছে,নিঃস্ব করে দিচ্ছে অনেক পরিবারকে। নেশার টাকার জন্য বাবা-মা,ভাই-বোন,এমনকি যে কাউকে আক্রমন করতে দ্বিধা করেনা, ফলে জন্ম নিচ্ছে ঐশীদের মত তরুণ-তরুণী। মাদকাসক্তির মর্মভেদী যন্ত্রণা, মর্মস্পর্শী ক্রন্দন পরিবারের প্রতিটা সদস্য যথাযথ ভাবে অনুভব করছে। পারিবারিক ও সামাজিক একটু শান্তি আজ শুধুই মরিচিকা ।

দেশের মাদক ব্যবসায়ীরা সুপ্রতিষ্ঠিত ক্ষমতার ছত্রছায়ায় বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এতে প্রসাশন কিছুই করতে পারছেনা। বেশির ভাগ সময়ই তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। চোরাকারবারীরা পার্শবর্তী দেশ থেকে ইয়াবা,ফেন্সিডিল সংগ্রহ করে থাকে । পেশী শক্তি আর ক্ষমতার অপব্যবহারে জমকাকালো ভাবে চালিয়ে যায় মাদক ব্যবসা। এতে অনেকেই মাদক সম্রাট , মাদক বাবা নামে খ্যাতি অর্জন করেছে। আবার অনেকে পর্দার আড়ালেই রয়ে গেছে। সমাজের ভদ্র লোকজন কিছু বলতে চাইলেও ক্ষমতাধর সন্ত্রাসীদের ভয়ে মুখ খুলে কিছুই বলতে পারছেননা। এক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা সহস্যজনক ,অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ পাওয়া যায় এসব অবৈধ কর্মকান্ডে প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তি জড়িত রয়েছে। যাদের সহযোগিতায় সীমান্ত হয়ে মাদক দ্রব্য দেশে প্রবেশ করে। এ যদি হয় দেশের অবস্থা তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকায়।

বিভিন্ন সময় দেখা যায় পুলিশের পক্ষ থেকে জোরালো বক্তব্য আসে 'মাদকের শিকড় উপরে ফেলা হবে ,মাদকের সাথে যুক্ত সকলকে গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে , চল যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে' ইত্যাদি । ঢাকঢোল পিটিয়ে , মাইকিং করে এগুলো কি সমাধান করা যাবে? ঘোষনা অনুযায়ী তৎপরতাও লক্ষ্য করা যায়, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কিছু সাধারণ মাদক সেবিকে গ্রেফতারও করা হয় , এতে টুকাই বা নিন্ম শ্রেণীর লোকই বেশী থাকে । এদেরকে ধরে কি তেমন কোন সুফল পাওয়া যাবে ? হ্যাঁ এদেরকেও ধরতে হবে, তবে তার আগে উচিত ছিলো মাদক বিক্রেতার এজেন্ট, মাদক সম্রাট , এদের আশ্রয় প্রশয় ও লালন-পালনকারী এবং পর্দার আড়ালের গডফাদারদেরও ধরে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। তা-না করে লোক দেখানো অভিযানে কিছু সংখ্যক লোককে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হচ্ছে। যা মাদক প্রতিরোধে তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারে না । আগে রাঘব-বোয়ালদেরকে ধরে আইনের আওতায় নিয়ে আশার নজির স্থাপন করা দরকার। চুনোপুটি সে-ই তাপেই ..............।

সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ভয়ংকর এইসব মাদক দ্রব্যের বিরোদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে । আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মাদক পাচার ও বিস্তার রোধে সততা ও ন্যায়নিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মাদকাসক্তদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহযোগিতা করতে হবে ।

সর্বোপরি মাদক থেকে দেশ-জাতিকে বাঁচাতে হলে সর্বাগ্রে প্রশাসনকে ভেজাল মুক্ত হতে হবে। প্রশাসন পারেনা এমন কোন কাজ নেই। প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমেই সমাজ মাদক নামের ভয়ংকর অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে পারে।মাদকের বিষাক্ত ছোবলে আক্রান্ত দেশ