ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

প্র্রথম আলোর খবর

৩ জুন ২০১৮, ১৫:০৬

বিশেষ সাক্ষাৎকার

ফুটবল কাগজে খেলা হয় না

3950_6.jpg
দেশম
রাশিয়া বিশ্বকাপের ৩২টি দলের মধ্যে দিদিয়ের দেশমই একমাত্র কোচ, যাঁর খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ও ইউরো জেতার অভিজ্ঞতা আছে। ইউরো জেতার সুযোগ এসেছিল কোচ হিসেবেও। কিন্তু ২০১৬ ফাইনালটা যে শেষ হাসি হাসতে দেয়নি দেশমকে। ব্রাজিল বিশ্বকাপের পর রাশিয়ায়ও ফ্রান্সের ডাগআউটে থাকছেন ৪৯ বছর বয়সী সাবেক ফরাসি মিডফিল্ডার। ইউরোর ফাইনালে খেলা সেই তরুণ দলটাই বিশ্বকাপেও আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে দেশমকে—


প্রশ্ন: ফ্রান্সকে তো অন্যতম ফেবারিট বলে ভাবা হচ্ছে...

দিদিয়ের দেশম: দেখুন, যতগুলো দল বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে সবাই-ই শিরোপা জিততে চায়। আমরাও আলাদা নই। কিন্তু অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে আমাদের। শুরুতে যে তিনটি দলের সঙ্গে খেলতে হবে আমাদের, তাদের নামটা জানি। ওদের শক্তি-সামর্থ্য বুঝে প্রস্তুতি নিচ্ছি। সবার আগে আমাদের দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশাবাদী এবং বিশ্বকাপে যত দূর সম্ভব যেতে চাই। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এগোতে হবে ধাপে ধাপে।

প্রশ্ন: তো, আপনাদের স্বপ্ন ছোঁয়ার পথে বাধা হতে পারে কোন দলগুলো?

দেশম: অনেকে দলই। জার্মানি, স্পেন, ব্রাজিল, এমন অনেক দল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সাফল্যের মানদণ্ডে এরা সবাই বড় দল। গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট জয়ের অভিজ্ঞতা আছে এদের সবার। সবারই সামর্থ্য আছে শেষ পর্যন্ত যাওয়ার।

প্রশ্ন: ২০১৬ ইউরোর ফাইনাল...

দেশম: সেটাই কিন্তু আমাদের সমর্থকদের এই বিশ্বকাপের জন্য আশাবাদী করে তুলেছে। আমাদের দলটা তুলনামূলকভাবে তরুণ। অনেকেরই এটা প্রথম বিশ্বকাপ। আর প্রথমবারের মতো এমন বড় মঞ্চে পারফর্ম করাটা চাট্টিখানি কথা নয়! আমাদের প্রথম লক্ষ্য হছে দ্বিতীয় রাউন্ড। আর সেটার জন্য কঠোর পরিশ্রম ও নিয়ম-কানুনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সেখানে পৌঁছানোর সংকল্পও থাকতে হবে।

প্রশ্ন: একজন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আপনি। জাতীয় দলের কোচিংয়ে সেটা কতটা সাহায্য করে?

দেশম: করে তো বটেই। তবে এ জন্য না যে, বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ছিলাম। সহযোগিতা করে কারণ, আমিও পেশাদার খেলোয়াড় ছিলাম, এমন সব মুহূর্তের মধ্য দিয়ে আমিও গিয়েছি। ভূমিকাটা যদিও আলাদা। তবু একজন খেলোয়াড় ও তার মনস্তত্ত্ব বুঝতে সাহায্য করে। আমি বুঝতে পারি। কারণ আমার খেলোয়াড়ি জীবনে আমিও এমনই ছিলাম। আমার দায়িত্ব হচ্ছে যারা ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করে, সবাইকে সাহায্য করা। দেশকে সেবা করার এটাও একটি সুযোগ। এটা আমার জন্য সম্মানের। একই সঙ্গে দায়িত্বটা মধুরও।

প্রশ্ন: দিদিয়ের-বেনজেমা ঝামেলা তো রয়েই গেছে, মনে হচ্ছে?

দেশম: একটা কথা বলতে চাই আমি, করিমের (বেনজেমা) সঙ্গে আমার কোনো ঝামেলা নেই। আমার দায়িত্ব হলো সেরা দল খুঁজে বের করা। সেসব খেলোয়াড়কে খুঁজে বের করা যাদের নিলে দলটা শক্তিশালী হবে। আর আমার পছন্দ-অপছন্দ খেলোয়াড়ি কারণে, ব্যক্তিগত নয়। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, এখানে দেশের নাম জড়িত। তো, আমি সেভাবেই কাজটা করার চেষ্টা করি। কয়েক বছর আগে যখন পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে ঝড় উঠছিল, তখন আমাকে নিশ্চিত করতে হয়েছিল যে এটা দলের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলবে না। খেলোয়াড়েরাও সেটাই করার চেষ্টা করেছিল। আমরা কিন্তু ইউরোর ফাইনালে পৌঁছেছিলাম। হ্যাঁ, ফাইনালে হেরেছিলাম। কিন্তু আমি জানি খেলোয়াড়েরা তাঁদের সেরা পারফরম্যান্সটাই দিয়েছিল। মাঠ কিংবা মাঠের বাইরে, সবখানেই আমরা একমত ছিলাম।

প্রশ্ন: তুলনামূলকভাবে কমবয়সী ফুটবলারদের সঙ্গে কাজ করতে কেমন লাগে?

দেশম: আমি তাদের সঙ্গে আলোচনায় বিশ্বাসী। মানুষ হিসেবে তাদের প্রত্যেকেরই কিছু নিজস্ব গুণাবলি আছে, খেলোয়াড় হিসেবে তারা আত্মবিশ্বাসী। একটু শুধু পথ দেখিয়ে নিতে হবে তাদের।

প্রশ্ন: ডেনমার্ক, পেরু ও অস্ট্রেলিয়া আছে আপনাদের গ্রুপে। দ্বিতীয় পর্বে পৌঁছানো তো খুব কঠিন হওয়ার কথা না...

দেশম: ফুটবল তো আর কাগজে খেলা হয় না! কোনো কিছু এতটা সহজভাবে নিলে সেটি কিন্তু বিপদই ডেকে আনে। আর এটা তো বিশ্বকাপ। অস্ট্রেলিয়া নিয়মিতই যেখানে খেলছে। পেরু এসেছে অন্য মহাদেশ থেকে, অন্য ঘরানার ফুটবল নিয়ে। আর ডেনমার্ক ভয়ংকর। আমাদের সব সময়ই সতর্ক থাকতে হবে।


প্রশ্ন: এটা তো কোচ হিসেবে আপনার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। সেটা কি বাড়তি চাপ?

দেশম: নাহ, কোনো বাড়তি চাপ নেই। কারণটা সহজ। আমি কাজটা করতে ভালোবাসি। খেলার জন্য এই ভালোবাসাটাই আমাকে সব সময় পথ দেখায়। আমার খেলোয়াড়ি জীবনেও আমাকে পথ দেখিয়েছে, এখনো দেখিয়ে চলেছে। এটা একটা খেলা আর সেখানে আনন্দ থাকা উচিত, আমি সব সময়ই এটাই মাথায় রাখি।

প্রশ্ন: ইউরোর ফাইনালে হেরে যাওয়াটা কতটা হতাশার ছিল?

দেশম: নিজের দেশে ওই হারের চেয়ে হতাশার আর কী হতে পারে? বিশ্বকাপটাও তো আমরা আমাদের দেশেই জিতেছিলাম। ইউরোতেও আমরা স্বাগতিক ছিলাম। কিন্তু পর্তুগাল আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছিল। আমরা গোল করতে পারিনি। যা হোক, ওটা আমাদের জন্য একটা বড় শিক্ষা ছিল। আমরা সেটা ইতিবাচকভাবেই নিয়েছি। আশা করি, সেটা আমাদের রাশিয়ায় সাহায্য করবে।


একনজরে

পুরো নাম: দিদিয়ের ক্লদ দেশম

জন্ম: ১৫ অক্টোবর ১৯৬৮।

জন্মস্থান: বায়ন, ফ্রান্স।

যখন খেলতেন: ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার।

ফ্রান্সের হয়ে: ম্যাচ ১০৩, গোল ৪

কোচিং শুরু: ২০০১

ফ্রান্সের কোচ: ২০১২

অর্জন

কোচ হিসেবে

রানার্সআপ ইউরো ২০১৬

খেলোয়াড় হিসেবে

বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ১৯৯৮

ইউরো চ্যাম্পিয়ন ২০০০