ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

আবু কাওছার আহমেদ, টাঙ্গাইল॥

১০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:০১

ধূমপান মুক্ত টাঙ্গাইল গড়ার লক্ষে দৌড় শুরু শাহ্জাহানের

402_5.jpg
মির্জা শাহ্জাহান
 মানুষ কর্মের মাধ্যমে মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকে। যারা কর্মের মাধ্যমে সমাজে বড় হয় ইতিহাসের পাতায় তাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়। ঠিক তেমনি কাজের মাধ্যমে মৃত্যুর পরও মির্জা শাহ্জাহান নাম রাখতে চান সমাজে। তার বয়স ৬৫ বছর। সরকারি নিয়ম অনুযায়ি ৬০ বছর পার হলে তিনি প্রবীণ। আর প্রবীণরা কোন কঠিন কাজে অংশ গ্রহণ করতে পারেন না। সারা জীবন কাজ শেষে সমাজে প্রবীণরা সাধারণত ধর্মীয় কাজ ও অবসর সময় পার করে থাকেন খুব সাদা-সিধে ভাবে। তেমনি মির্জা শাহ্জাহানেরও এখন অবসর সময় পার করার কথা। কিন্তু তিনি অনিয়ম-অন্যায়ের প্রতিবাদ, সমাজের মানুষের বিভিন্ন দাবি আদায়ের জন্য অবসর নিতে পারছেন না। ধর্ষণ, হত্যার প্রতিবাদ, পুলিশ সদস্যের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার দেয়াসহ নানা আন্দোলন করছেন তিনি। কিছুদিন আগে শুরু করেছেন ধূমপান মুক্ত টাঙ্গাইল গড়ার আন্দোলন। টাঙ্গাইলকে ধুমপানমুক্ত করার দাবি নিয়ে তিনি শুরু করেছেন দৌড়।
বর্তমান সময়ে সাধারণ মানুষ রাস্তায় হাটে প্রয়োজনীয় কাজের জন্য। কিন্তু শাহ্জাহান দৌড়ান মানুষের দাবি, অন্যায়ের প্রতিবাদ ও সুন্দর সমাজ গড়ার লক্ষে। তাকে নিয়ে গত ১৬ অক্টোবর দৈনিক কালের কন্ঠে ‘দৌড়ে চলেছেন শাহ্জাহান’ ও স্থানীয় দৈনিক প্রগতির আলোতে ‘বুট বাদাম কলা খাই, ৬৫ তে দৌড়াই’ বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়। তার পর থেকে তিনি আরও উৎসাহী হয়ে ওঠেন। বর্তমানে শাহ্জাহান বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মাদক ও বাল্য বিয়ের কুফল এবং প্রকৃত মানুষ হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন শিক্ষার্থীদের।
টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের সময় প্রায়ই তাকে দেখা যায় দৌড়াতে কিংবা সাইকেল চালাতে। সাইকেলের সামনে লেখা ধুমপান করি না, বুট বাদাম কলা খাই, ৬৫তে দৌড়াই। পরনের গেঞ্জিতে লেখা ধূমপান করি না। তিনি ৬৫ বছর বয়সেও একটানা ১৩ কিলোমিটার দৌড়াতে পারেন মাত্র ১ ঘন্টা ১৫ মিনিটে। তিনি বিসিক রোড থানাপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। কথা হয় তাঁর সাথে।

১ জানুয়ারি সোমবার সকালে প্রকাশ্যে ধূমপান বন্ধ করার জন্য আইনের বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়ে মির্জা শাহ্জাহানের আমৃত্যু ৬ কিলোমিটার দৌড়ের উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. শরিফ হোসেন খান। এ দাবিতে তিনি প্রতি সোমবার টাঙ্গাইলের বিভিন্ন রাস্তায় ৬ কিলোমিটার দৌড়াবেন। বর্তমানে দৌড়ের মাধ্যমে নিজেকে নতুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন সমাজে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ ও হত্যা করা হয় ঢাকার আইডিয়াল কলেজের আইন বিভাগের মেধাবী ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপাকে। এঘটনার প্রতিবাদে শাহজাহান মিয়া ধর্ষক ও হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি বুধবার সকাল ১০ টায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বর থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড়ান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রুপা হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে দৌড় অব্যাহত রাখবেন তিনি। শুধু তাই নয় তিনি অসুস্থ থাকলে ১০ কিলোমিটার সাইকেল চালাবেন ফাঁসির দাবিতে। সেটাও যদি না পারেন তাহলে প্রতি বুধবার ১০ কিলোমিটার হুইল চেয়ার চালাবেন।

গত ৭ জুলাই কুমিল¬া বাসস্ট্যান্ডে এক ডোবায় যাত্রীবাহী বাস পড়ে যায়। সেখানে সাধারণ মানুষ দর্শকদের মতো চেয়ে দেখছিলেন সে দৃশ্য। কিন্তু পুলিশ সদস্য পারভেজ মিয়া জীবনের তোয়াক্কা না করে শিশুসহ ২৬ জনকে উদ্ধার করেন। পারভেজ মিয়াকে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়ার দাবিতে টাঙ্গাইলে হাফ মেরাথন (২১ কি.মি.) দৌড়ের আয়োজন করেছেন শাজাহান মিয়া। গত ১৫ ডিসেম্বর সকাল ৮ টায় এসপি লেক থেকে দৌড় উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মুহাম্মদ আসলাম খান। এসময় জেলা শিক্ষা অফিসার লায়লা খানমও উপস্থিত ছিলেন। দৌড়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মুহাম্মদ আসলাম খান ও জেলা শিক্ষা অফিসার লায়লা খানমও অংশ নেন।

মির্জা শাজাহান মিয়া বলেন, মানুষ, সমাজ তথা দেশের জন্য কাজ করতে চাইলে বয়সটা বিষয় না। নিজের ইচ্ছা শক্তি বড় বিষয়। এটা দিয়েই সমাজের সকল উন্নয়ন মূলক কাজে অংশীদার হতে চাই। সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি যে যার অবস্থান থেকে অন্যায়-অত্যাচার, নির্যাতন, বাল্য বিয়ে, মাদক, ধূমপান ও উন্নয়ন মূলক সকল কাজে অংশ নেয় তাহলে অতি অল্প সময়ের মধ্যে সমাজ তথা দেশের সার্বিক উন্নয়ন করা সম্ভব। টাঙ্গাইলে প্রকাশ্যে যতদিন ধূমপান বন্ধ না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আমার দৌড় অব্যাহত থাকবে।