ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১০ জুন ২০১৮, ১১:০৬

পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র মাহে রমজান। এই মহিমান্বিত মাসে বিশ^ মানবতার মুক্তির সনদ হিসেবে মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিল হয়েছে। আর এই মাসেই ইসলাম ও কুফরের মর্যাদার লড়াই বদর যুদ্ধও সংঘঠিত হয়েছিল। সে যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যেমে সমকালীন বিশে^ মুসলমানরা একটি অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল।  তাই এই মাসের মর্যাদা অন্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি। মূলত এই মহিমান্বিত মাস তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধি অর্জনের মাস। মানুষ যাতে নিজের প্রবৃতি তথা নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে সুন্দর ও সুকুমার বৃত্তির চর্চায় আত্মনিয়োগ করতে পারে এ জন্যই এই মাসে সিয়াম পালনকে অত্যাবশ্যকীয় করে দেয়া হয়েছে।
মূলত সুবহে সাদিক ও হতে সুর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় পানাহার ও কামাচার থেকে বিরত থাকার নামই হচ্ছে সিয়াস সাধণা। আর এই সিয়াম সাধনার মাধ্যমেই মানুষ ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মু্িক্ত অর্জন করতে পারে। হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, সে ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল অথচ গোনাহ মাস করে নিতে পারলো না। তাই এই বরকতময় মাসে আমাদেরকে সিয়াম ও কিয়াম পালনের মধ্যেই এই মাসের কল্যাণকে যথাযথভাবে কাজ লাগাতে হবে। তাহলেই আমরা এ মাস থেকে প্রকৃত কল্যাণ অর্জন করতে পারবো।
এই মোবারক মাসেই এক মহিমান্বত রজনী রয়েছে। পবিত্র কালামে পাকে যে মাসকে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ এই বরকতময় রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদাত-বন্দেগীতে মশগুল থাকলে তা হাজার মাসের ইবাদাত অপেক্ষা উত্তম হবে। আল কুরআনে ঘোষিত হয়েছে, ‘ আমি এ (কুরআন) নাযিল করেছি ক্বদরের রাতে। আপনি কি জানেন এই ক্বদরের রাত কি ? ক্বদরের রাত হাজার মাস হাজার মাসের চাইতেও উত্তম’। (সুরা আল ক্বদর, আয়াত-১-৩) হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ি যে ব্যক্তি ক্বদরের রাতে ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে রাত্রি জাগরণ করে ইবাদাত-বন্দেগীতে কাটিয়ে দিলে আল্লাহ তার সকল গোনাহ মাফ করে দেবেন।
মূলত কুরআন-হাদিসের ভাষ্য ও ইসলামী চিন্তাবিদদের গবেষণার তথ্যে-উপাত্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর এক বরকতময় মহিমান্বিত রজনী।  এই রাত রমজানের শেষ দশকের বিজোর রাত্রীতে বিশেষ করে ২৭ রমজান রাত্রীতে হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। মূলত  রমজানের শেষ দশকের বিজোর রাতগুলোতে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা জরুরি। এই মোবারক রজনীর গুরুত্বকে কাজে লাগিয়ে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি লাভ করতে হলে এই রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ, তাসবীহ-তাহলীল, কুরআন তেলাওয়াত ও ইসলাম নিয়ে গবেষণায় ব্যস্ত থাকতে হবে। মূলত লাইতুল ক্বদর বান্দার গোনাহ মাফের মোক্ষম সুযোগ। এই মাসের কল্যাণকে যে কাজে লাগাতে পারলো আসলেই সে সৌভাগ্যবান। আর যারা ব্যর্থ হলো তারা নিঃসন্দেহে ভাগ্য বিড়ম্বিত।
মূলত, লাইলাতুল ক্বদর এক মহিমান্বিত রজনী। তাই রাত ইবাদত-বন্দেগী, তাসবীহ-তাহলীলে কাটিয়ে দিতে পারলেই তা থেকে পুরোপুরি উপকৃত হওয়া সম্ভব। আল্লাহ আমাদের সকলকে সে তাওফিক দান করুন-আমীন।