ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১০ জুন ২০১৮, ১১:০৬

পথশিশুদের ঈদ আনন্দ

আত্মশুদ্ধি ও আত্মগঠনের মাস পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দশক চলছে। প্রায় দীর্ঘ এক মাস সিয়াম ও কিয়াম পালনের পর পবিত্র ঈদ উল ফিতর  অত্যাসন্ন। সঙ্গত কারণেই সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যেই একটা উচ্ছাসভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাই ঈদের আনন্দকে যথাযথভাবে উপভোগ করার জন্য উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্তের মানুষে মধ্যে একটা সাজ সাজ রব অবস্থা চলছে। সকলেই নিজ নিজ সাধ্য ও সামর্থ অনুযারি ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। রাজধানী ঢাকা সহ দেশের অভিজাত মার্কেট ও বিপনী কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে বিপনীকেন্দ্রগুলো নারী ও শিশুদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। কারণ, পুরুষদের তুলনায় কেনাকাটায় নারী ও শিশুদের আগ্রহটা বেশি থাকে। বিশেষত ঈদ মানেই হচ্ছে শিশুদের আনন্দবিনোদন।
খুব সঙ্গত কারণেই বিপনী কেন্দ্রগুলোতে নারী-পুরুষরা তাদের পছন্দমত ও রুচীসম্মত পরিচ্ছদ কেনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকে তাদের পিতা-মাতা, ভাইবোন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং প্রিয়জনদের জন্য নতুন নতুন পরিচ্ছদ ও ঈদ কার্ড কেনায় ব্যস্ত রয়েছেন। ঈদ আসলেই শিশুদের মধ্যে একটা প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যায়। ঈদে তাদের প্রধান আকর্ষণ থাকে বর্ণাঢ্য নতুন জামা-কাপর। বিশেষ করে রং বেরংয়ের পাজামা-পাঞ্জাবী, শেরওয়ানী-কটি ও নকশাজাত টুপির প্রতি আদের আগ্রহ থাকে বেশি। মুরব্বীদের কাছে নতুন নোটে ঈদি তথা সেলামী আদায়ও শিশুদের শিশু আনন্দের অন্যতম অনুসঙ্গ। ঈদ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে আনন্দভ্রমনও শিশুদের ঈদ আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত ও উৎসব মুখর করে  তোলে। মূলত ঈদ হয়ে ওঠে শিশুদের জন্য এক মহামিলন মেলা।
মূলত ঈদ নিয়ে এত আনন্দ ও উৎসবের কথা বলা হলেও সমাজে এর বিপরীত চিত্রও লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দিকে তাকালে আমরা এর ভিন্ন চিত্রই লক্ষ্য করি। কারণ, তাদের জীবনে ঈদ আনন্দের পসরা নিয়ে হাজির হয় না।  ঈদ আসলে সমাজের সক্ষম মানুষরা ঈদ আনন্দে মেতে ওঠেন, তখন তারা নিরব দর্শকের মত সবকিছু চেয়ে দেখেন। ঈদে শিশুরা যখন নতুন পরিচ্ছদ সহ রকমারী উপকরণ নিয়ে ঈদ আনন্দে মেতে ওঠে তখন পথশিশু একখন্ড পুরাতন কাপড়ের জন্য অন্যের মুখাপেক্ষা হয়ে করুন দুষ্টিতে চেয়ে থাকে। হয়তো তাও কখনো জোটে না। ঈদের দিনে হয়তো তাদের ভাগ্যে জুটে যায় মানুষের উচ্ছিষ্ট খাবার। যা এই সভ্যতার যুগে মানবতার সাথে নির্মম পরিহাস ছাড়া কিছু নয়।
ইসলাম এই সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সাদাকাতুল ফিতরের ব্যবস্থা করেছে। প্রত্যেক সক্ষম ও সামর্থ্যবান মানুষকে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগী করার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ রয়েছে। আর আল্লাহর এই বিধান পালনের মাধ্যমে আমরা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারি। সমাজের বিত্তবান মানুষরাও এই মহতি কাজের জন্য এগিয়ে আসতে পারেন। মূলত তাদের একটুখানি সদিচ্ছায় সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুদের ঈদকে কিছুটা হলেও আনন্দঘন করে তুলতে পারে।
আসলে, ঈদ যাতে শ্রেণি বিশেষের আনন্দ না হয়ে সর্বজনীন হয়ে ওঠে এজন্য আমাদের প্রত্যেককে সাধ্য অনুযায়ি ভূমিকা রাখতে হবে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও পথশিশুরা যাতে ঈদের আনন্দে শরীক হতে পারে সে দায়িত্ব আপনার আমার সকলের।