ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

স্টাফ রিপোর্টার:

১২ জুন ২০১৮, ১৪:০৬

খালেদা জিয়াকে সিএমএইচে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রস্তাব দেয়া হবে

4239_kamaljpeg.jpg
রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল-সিএমএইচে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আজই প্রস্তাব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট বলেও জানান তিনি।

ইউনাইটেড হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা করানোর জন্য মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন তার ভাই শামীম ইস্কানদার।

তিন সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে এসে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিএনপি চাইলে খালেদা জিয়াকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হবে। সিএমএইচকে অগ্রাহ্য করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ সবচেয়ে সমৃদ্ধ হাসপাতাল এটি।

এদিকে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে আজ চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে আনার কথা থাকলে আনা হয়নি।

কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। কিন্তু তিনি বিএসএমএমইউতে যাবেন না বলে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তাই আজ তাকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়া গুলশানের বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

এর আগে সকালে বিএসএমএমইউর পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ-আল-হারুন জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়াকে বেলা ১১টায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে আনা হবে।

সোমবার কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়া রাজি থাকলে আজ সকালে তাকে চিকিৎসার জন্য নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগার থেকে শাহবাগের বিএসএমএমইউ হাসপাতালে আনা হবে।

কারা মহাপরিদর্শক নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের মহিলা ওয়ার্ডে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেন, তিনি চাইলে তাকে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে নেয়া হবে।

তবে ওই সময় খালেদা জিয়া জানান, তিনি এর আগেও বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। এখন আর তিনি এ হাসপাতালে যেতে চান না। তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার আগ্রহের কথা বলেন।

বিএনপির পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়া বিএসএমইউতে চিকিৎসার বিষয়ে আস্থাশীল নন। তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চান।

তবে সোমবারই কারা মহাপরিদর্শক ইফতেখার উদ্দিন বলেছেন, জেল কোড অনুযায়ী সরকারি অর্থ খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, বিএসএমএমইউ চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী সর্বোচ্চ সরকারি প্রতিষ্ঠান। যদি সেখানে তার চিকিৎসার বিষয়ে কোনো সুযোগ-সুবিধার অভাব থাকে, তাহলে বেসরকারি হাসপাতালে নেয়ার প্রশ্ন আসে।

এ বিষয়ে সোমবার বিকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রিজভী বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতালে উন্নতমানের চিকিৎসার দাবি উপেক্ষা করে সরকার খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার কথা বলে চলেছে।

বিএনপি মুখপাত্র অভিযোগ করেন, বিএসএমএমইউতে সব দলবাজ চিকিৎসক। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তো আগেই সেখান থেকে চাকরিচ্যুত করে বিদায় দিয়ে দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের দলবাজ চিকিৎসকদের দিয়ে তার যথাযথ চিকিৎসা হবে না।

বিএসএমএমইউর চিকিৎসকদের প্রতি খালেদা জিয়ার কোনো আস্থা নেই দাবি করে রিজভী অভিযোগ করেন, তারপরেও সরকার জবরদস্তিমূলকভাবে তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার কথা বলা দুরভিসন্ধিমূলক ও সুপরিকল্পিত চক্রান্ত।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন।

পুরাতন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে খালেদা জিয়াকে প্রথমে জেল সুপারের পরিত্যক্ত কক্ষে রাখা হয়েছিল। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মহিলা ওয়ার্ডে।

বন্দি জীবনে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার দাবি করার পর গত এপ্রিলের শুরুতে তাকে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে বিএসএমএমইউতে আনা হয়েছিল।

তবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে ওই দিনই তাকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেরত নেয়া হয়।

এরপর এপ্রিল ও মে মাসে একাধিকবার বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কারাগারে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

গত শনিবার খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা দেখে এসে বলেছিলেন, গত ৫ জুন বিএনপি নেত্রীর ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হয়েছিল বলে তারা ধারণা করছেন। সে কারণে তিনি পড়ে গিয়েছিলেন।