ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

শহীদুল ইসলাম

১৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:০১

রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা কাটছেনা

515_images.jpg
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণের দিকে জাতি তাকিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোন স্বস্তি মেলেনি।আগামী ১১শ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে তা থেকে বেরিয়ে এসে জাতিকে একটি স্বস্তির খবর দেয়ার মত কিছু নেই।তিনি আবারো বর্তমান সংবিধান মোতাবেক আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথাই বলেছেন। তার অর্থ হলো শেখ হাসিনার অধিনেই নির্বাচন হবে। আপত্তি যেখানে শেখ হাসিনার দৃঢ়তাও সেখানেই।তার এই অবস্থানের কারণে আপাতত কোন স্বস্তি দেখা যাচ্ছেনা রাজনীতিতে।

বর্তমান সরকারের ৪ বছরপূর্তি উপলক্ষে গত ১২ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধায় টেলিভিশন ও বেতারে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে একাদশ সংসদ নির্বাচন কখন ও কিভাবে অনুষ্ঠিত হবে, সে সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অবস্থান তুলে ধরেন।তিনি বলেন,সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষদিকে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা আমাদের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। সংবধিান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার সর্বোতভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যেই স্পষ্ট যে,তিনি আগের অবস্থানেই আছেন।অথচ সংসদ ও সরকারের বাইরে থাকা ২০ দলীয় জোটসহ সকাল রাজনৈতিক দল,সুশীল সমাজ এবং সাধারণ মানুষ চায় যে আগামী নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধিণে হবে। যাতে করে সব দল অংশগ্রহন করে। জনগনের সত্যিকার প্রতিনিধিরাই দেশ পরিচালনা করুক। এটা যেমন দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাম্য তেমনি তা বিদেশী বন্ধুদেরও।কিন্তু শেখ হাসিনার ভাষণে তার কোন ইঙ্গিত নেই।অন্যদিকে ২০ দলীয় জোট তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে। তারা নির্বাচনকালিন নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবেনা। এই ধরনের নির্বাচন সরকার করতে চাইলে তা প্রতিরোধ এবং প্রতিহত করারও ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই জোট।সেক্ষেত্রে কি হতে পারে? উভয় পক্ষ যার যার অবস্থানে অটল থাকলে দেশ আবারও সংঘাতের দিকে যাবে এমন আশঙ্কা জনগণকে তাড়া করছে।

 নির্বাচন কমিশন নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক নিয়েও কথা বলেছেন,প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন,রাষ্ট্রপতি অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। এই কমিশন ইতোমধ্যে দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কিছু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। আমি আশা করি, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবে।’

২০ দলীয় জোট শেখ হাসিনার অধিণে নির্বাচনে না গিয়ে তা প্রতিরোধর জন্য কর্মসূচি দিলে কি হবে সে বিষয়েও তিনি কথা বলেছেন।  শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনও কোনও মহল আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করতে পারে। আপনাদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণ অশান্তি চায় না। নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনের নামে জনগণের জানমালের ক্ষতি করবেন- এটা আর এদেশের জনগণ মেনে নেবে না।’তিনি বলেন, ‘আপনারাই সব ক্ষমতার মালিক। কাজেই লক্ষ্য আপনাদেরই ঠিক করতে হবে- আপনারা কী চান! আপনারা কি দেশকে সামনে এগিয়ে যাওয়া দেখতে চান, না বাংলাদেশ আবার পেছনের দিকে চলুক, তাই দেখতে চান। একবার ভাবুন তো মাত্র ১০ বছর আগে দেশের অবস্থানটা কোথায় ছিল?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা উন্নয়নের যে মহাসড়কে যাত্রা শুরু করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি, সেখান থেকে আর পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সমৃদ্ধি ও প্রগতির পথে সব বাধা দূর করার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। আসুন, দলমত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়, এ বিষয়ে সচেতন হয়ে দেশবাসীকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবার আহ্বান জানান সরকার প্রধান।

 শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলবো। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনি ইশতেহারের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা দিন বদলের সনদ ঘোষণা দিয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলছি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনাদের জীবনমান সহজ করা এবং উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আপনারা আজ  সেসব সেবা পাচ্ছেন। দেশে ১৩ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আট কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল বলছেন,২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একতরফা নির্বাচনের পথেই হাটছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ এবং সরকারের পদস্থ মন্ত্রী ও তাদের শরিকদের বক্তব্য সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।শেখ হাসিনার অধিণে নির্বাচন যদি বয়কট করে ২০ দলীয় জোট এবং তা প্রতিরোধে কর্মসূচি দেয় তাহলে পরিস্থিতি কি দাড়াবে। অভিজ্ঞরা বলছেন, দৈব কিছু না ঘটলে নির্বাচন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবেনা।অতিতের অভিজ্ঞতা হলো বিএনপি কোথায় দুর্বল তা আ’লীগ জেনে ফেলেছে। আর তা হলো-মামলা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দয়ভাবে ব্যবহার করা। মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাদের আটক করে তারা আগে সফল হয়েছে। আগের মামলা এখনো ঝুলছে। আর নতুন মামলাই বা দিতে কতক্ষণ।ধারন করা হচ্ছে যে,বেগম খালেদা জিয়াকেও এবার জেলখানায় থাকতে হবে। সেই সাথে প্রথম,দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সারির নেতাদের সাথে তৃণমূল পর্যায়ের অধিকাংশ নেতা কর্মীকেই আটক করা হবে।ফলে আন্দোলন করার মত কোন কর্মীই বিএনপি পাবেনা।ফলে নির্বাচন ঠেকানো সম্ভব হবেনা।

অন্যদিকে একতরফা নির্বাচন জায়েজ করার জন্য আওয়ামীলীগের সাথে তার সহযোগি বামদলগুলো থাকবে জোটে। জোট থেকে বেরিয়ে যেতে পারে এরশাদের জাতীয় পার্টি। তিনি ইতোমধ্যে ৫৮ দলীয় জোট করেছেন।এই জোট ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে চমক সৃষ্টি করতে চাইবে। বিরোধী দলের ভুমিকা থাকবে তাদের। আবার সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে সম্প্রতি গঠিত জোটও নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।জামায়াত ছাড়া কতিপয় ইসলামপন্থী দলও সেই নির্বাচনে আসতে পারে।এরুপ নির্বাচনের আয়োজনে হয়তো নির্বাচন হয়েও যেতে পারে। তবে সংঘাত অনিবার্য বলেই মত দিচ্ছেন অভিজ্ঞ মহল।
লেখক-সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিষ্ট