ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

মিজানুর রহমান

১৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:০১

খেলার তালিকায় স্থান পাচ্ছেনা যেসব খেলা!

532_imagesতত.jpg
সভ্যতার ক্রমবিকাশ আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা। খেলাধুলা সংস্কৃতির উদ্ভব ও বিকাশ লাভ করে গ্রাম বাংলা থেকে। গ্রামীন খেলা আমাদের আদি ক্রীড়া সংস্কৃতি। গ্রামীন খেলা আমাদের সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করত। এখন এই খেলাগুলো হঠাৎ দেখা মিলে। আগে অলিতে দেখা যেতো শিশুদের কানামাছি খেলতে, পুতুল খেলতে, চোখ  টোকা খেলতে। আর এখন অলিতে গলিতে শিশুরা মেতে উঠে ক্রিকেট খেলা নিয়ে, মোবাইলের নতুনত্ব গেমস নিয়ে।

 তাছাড়া এখন আর শিশুদের কাছে খেলার কথা জানতে চাইলে তারা শুধু জানে জনপ্রিয় ক্রিকেট এর কথা, ফুটবলের কথা, মোবাইলে নতুনত্ব গেমস এর কথা। এখন শিশুদের সব জায়গায় দেখা যায়  ক্রিকেট, ফুটবল খেলা করতে । কিন্ত দেখা যায় না গ্রামীন খেলা খেলতে। দেখা যায়না আজপাড়াগাঁয়ের কন্যা শিশুদের বউ-পুতুল, চিরচেনা কিশোরদের ডাংঙ্গুলি, কাবাডি, দাঁড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, কানামাছি খেলা গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করতে। শৈশবে যেসব খেলাধুলায় দিন কাটিয়েছেন আজকের বয়-বৃদ্ধরা, তারাও এখন ভুলতে বসেছেন সেইসব খেলার নাম।

ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে আমাদের পাশ্ববর্তি রাষ্ট্র ভারতের কিছু রাজ্যে যেমন পাঞ্জাবে, হরিয়ানায় উত্তর প্রদেশের কিছু জেলায় বাৎসরিক ভাবে গ্রামীণ ক্রীড়ার আয়োজন করে বিভিন্ন সংগঠন। কখনও সরকারি উদ্যোগে কখনও গ্রামীণ সংগঠন, সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্টপোষকতায়। ভারতের একটি রাজ্যে গ্রামীণ ক্রীড়ার মিনি অলিম্পিক আসর বসে এবং  এই খেলার আসর দেখতে বিপুল জন সমাগম হয়। কিন্ত দূ:খের বিষয় আমাদের দেশে সেরকম কোনও উদ্যোগ না থাকায় শৈশবে যেসব খেলাগুলি খেলেছিলেন আজকের বৃদ্ধরা সেসব খেলাগুলি না দেখতে পেয়ে তারাও এখন বহু খেলার নাম ভুলে গেছেন।

এক  সময় গ্রামের শিশু ও যুবকেরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় অভ্যস্ত ছিল। তারা অবসরে গ্রামের খেলার মাঠে দলবেঁধে খেলত এসব খেলা। আর খেলাধুলোর মাধ্যমে শৈশবে দুরন্তপনায় জড়িয়ে থাকতো ছেলেমেয়েরা। কিশোর-কিশোরীদের প্রিয় খেলা ছিল কানামাছি, দাড়িয়াবান্দা, গোল্লাছুট, ছি-বুড়ি ইত্যাদি। হাতে হাত রেখে ঘুরতে ঘুরতে হাঠাৎ দৌড়ে চুপটি চুপটি করে বসে থাকা বৌচি’র কাছে যাওয়া কিংবাদ চোখ বেঁধে পতিপক্ষকে ধরতে অথবা দাগকাটা ঘরে দাঁড়িয়ে অপর জনকে ছোঁয়ার প্রাণবন্ত যেন হারিয়ে গেলাম সেই ছোট বেয়ায়।

জন প্রিয়তার শীর্ষে থাকা ফুটবল আর হা-ডু-ডু’র উম্মাদনা প্রায় ভুলতে বসেছে মানুষ। কানামাছি, ডাংগুলি, মার্বেল, দাড়িয়াবান্দা, ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা এখন আর কিশোর মনে দাগ কাটে না। খেলাগুলোর প্রতি যত্নশীল না হওয়ায় ক্রমেই স্মৃতির ক্যানভাসে স্থান পেতে চলেছে বলে সাধারণ মানুষের ধারণা। এই সেদিনে কথা ৯০’র দশকের কথা। সেদিনও দেখেছি রাস্তার মোড়ে বা চায়ের দোকানে রেডিও কিংবা টিভিতে ফুটবল খেলা দেখার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকা। পক্ষ-বিপক্ষ নেওয়া কেহ জয়ী হলে উল্লাস করা। সেখান কার কোন কষ্ট যেন কোন কষ্টই না।

গ্রামীন খেলার মধ্যে জনপ্রিয় ও মর্যদার খেলা হলো হা-ডু-ডু। ৮/১০ গ্রাম থেকে আসতো টিম। বাছাই করা খেলোয়াড়। দুর-দূরান্ত থেকে আসতে শত শত দর্শক। নিজ গ্রামের মর্যদা ধরে রাখতে খেলোয়াররা উজার করে দিত তাদের মন-প্রাণ। হা-ডু-ডু’র শব্দের সাথে কাউকে ছুঁয়ে আসতে পারলে  উচ্ছাসিত বিজয় ধ্বনিতে দশর্কেরা আওয়াজ ছড়িয়ে দিত দিক-দিগন্তে। ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা আর উম্মাদনা পক্ষকাল ব্যাপী চলত। তারিখ নিধারিত হবার পর পাশ^বর্তী গ্রামগুলোমে চলত ঘুড়ি বানানোর কাজ। হরেক রকমের ঘুড়ি। প্রতি পক্ষের ঘুড়িকে কুপোত করার জন্য  সুতোয় কাঁচের গুরো আটার সাথে মিশিয়ে মাঞ্জা দিত। নিদিষ্ট দিনে বাংলার আকাশে উড়ছে পাখিরমত হরেক রকমের ঘুড়ি। সবার দৃষ্টি থাকত আকাশের দিকে। কারও ঘুড়ির সুতো কাটা গেলে হৈ হৈ করে আনন্দ-উল্লাসে সবাই মেতে উঠতো।

আমাদের দেশের মেয়েদের মাঝে সবচেয়ে প্রিয় দুটি খেলা হলো টোপাটুপি খেলা ও পুতুল খেলা। এছাড়াও আছে এক্কা দোক্কা, কড়ি খেলা, ঘুট খেলা, এলাটিং বেলাটিং, ওপেনটি বায়োস্কোপ ইত্যাদি।

হারিয়ে যাচ্ছে যেসব খেলা:-

কাবাডি, দাঁড়িয়াবান্দা, গোল্লাছুট, বৌছি, কানামাছি, হা-ডু-ডু, মন্দুরুজ, ডাংগুলি, চিক্কা. এ্যাঙ্গো, কুতকুত, ল্যাংচা, কিং কিং খেলা, হড়িভাঙ্গা, বুদ্ধিমন্তর, চাঁ খেলা, কাঠিছোঁয়া, দড়ি লাফানো, দড়ি টানাটানি, চেয়ার সেটিং, রুমালচুরি, চেখ বুঝাবুঝি, ওপেন্টি বাইস্কোপ, নৌকাবাইচ, ব্যাঙ্গের মাথা, লাঠিখেলা, বালিশখেলা, বলীখেলা, আইচ্চা ভাঙ্গা, এক্কাদোক্কা, কুৎ কুৎ, রাম সাম যদু মদু, চোর ডাকাত, মার্বেল, সাতচাড়া, ষোলগুটি, ষাঁড়ের লড়াই, মোরগ লড়াই, চিলমোরগ, বুঝাবুঝি, লাপা লাপি, ডালিম খেলা অন্যতম। ঐতিহ্যবাহী হারিয়ে যাওয়া এসব খেলা আর তেমন চোখে পড়ে না।

জনপ্রিয় খেলা-

বর্তমান বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতের মধ্যে জনপ্রিয় খেলার মধ্যে অন্যতম হলো- ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, টেনিস,কাবাডি, ব্যাটমিন্টন ইত্যাদি। বাংলাদেশের অলিতে গলিতে, রাস্তা-ঘাটে, মাঠে-ময়দানে দেখা যায় ছোট ছেলে-মেয়েদের ক্রিকেট খেলতে। এটি গ্রাম পরিমন্ডলে সিঁধকেটে শহরে ঢুকে । আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

ক্রিকেট:-

ক্রীড়াজগতে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বিশ^ব্যাপী খেলা ফুটবল, বর্তমানে ক্রিকেটও দিনদিন দর্শকপ্রিয় হচ্ছে। মূলত ক্রিকেটের আদি যুগ পার করে আধুনিক যুগে আসার পর থেকেই ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। একসময় ক্রিকেট  ম্যাচের কোন দৈর্ঘের কোনো সময়সীমা ছিল না। একটানা অনেকদিন চলতে থাকত একেকটা ম্যাচ, তারপর সংক্ষিপ্ত হতে হতে বর্তমান তিন ঘন্টার ম্যাচে এসে পৌঁছেছে। যা এখন বেশ জনপ্রিয়। শহর-গ্রাম সব জায়গায় অলিতে-গলিতে ছেলে-মেয়েদের এই খেলা খেলতে দেখা যায়। আগে ফুটবল ম্যাচের আসর গ্রামে-গ্রামে, পাড়ায়-পাড়ায়, ইউনিয়ন বা  উপজেলা পর্যায়ে বসত। সেই ফুটবল কে পেরিয়ে এখন স্থান দখল করে নিয়েছে ক্রিকেট।

ক্রিকেট খেলার কথা শুনলে সবার মাঝে একটা কৌতুহলের সৃষ্টি হয়, মাঠে, ঘাটে, টিভিতে খেলা দেখেতে বেশ সমাগম দেখা যায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (আইসিসি) মাঝে মধ্যে বড় ক্রিটের আয়োজন করে। দেশীয় ক্রিকেটের মাঞ্জা দিতে বাংলাদেশ আয়োজন করে বিপিএল। ভারত আয়োজন করে আইপিএল। পাকিস্তান আয়োজন করে পিপিএল। এছাড়াও টেস্ট ম্যাচ, ওয়ানডে ম্যাচের আয়োজন করে ক্রিকেট প্রেমীরা।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জতীয় ক্রিকেট দল “দ্য টাইগার” নামে প্রতিনিধিত্ব করে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এটি পরিচালনা করে। বাংলাদেশ আইসিসি’র টেস্ট এবং ওয়ানডে ক্রিকেট স্টাটাসপ্রাপ্ত স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর অন্তভুক্ত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ সুনাম কুরিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। তাইতো বর্তমানে  বাংলাদেশ আইসিসি টেস্ট ও টি-২০ ক্রিকেটে ৯ম এবং ওয়ানডে ক্রিকেটে রেটিংয়ে অষ্টম স্থানে অবস্থান করছে।

ফুটবল:-

ক্রীড়া জগতের গ্রামীণ ঐতিহ্য থেকে দেশীয় আন্তর্জাতিক জনপ্রিয় খেলার নাম হলো ফুটবল। বিশে^র জনপ্রিয় খেলার মধ্যে এটি অন্যতম। ফুটবলের বড় আয়োজনের মধ্যে বিশ^কাপ ফুটবল। অনেক জমকালো এবং অনেক জনপ্রিয় করে তোলে পুরো বিশ^কে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফুটবলের জাদুকর বা ভাল খেলোয়ারের নাম লিওনেল মেসি। তাকে সবাই চিনে। ফুটবল বাংলাদেশে তেমন উন্নতি করতে পারেনি। খেলার  জন্য বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ষ্টোডিয়াম ছাড়া অন্য কোন উন্নতমানের মাঠও নেই। তারপরও এই খেলা জনপ্রিয়। ফুটবল খেলা সবাই বোঝে। যার ফলে-কৃষক, কামার, জেলে, মুচি, চাকুরে সকলেই খেলতে পারে । সবাই খেলতে পারা, সবাই বুঝতে পারা এবং সময় কম লাগার কারনেই এই খেলা বেশী জনপ্রিয়।

হকি:-

ক্রীড়া জগতে এদেশের অদ্ভুত এক মেঘ-রৌদ্রের খেলার নাম হকি। গৌরবজনক ঐতিহ্য থাকলেও অজানা কারণে হকি বাংলাদেশে তার প্রাপ্য স্থান অর্জন করতে পারেনি। সম্ভাবনার দুয়ার কয়েকবার খুলেছে। কিন্ত কোন অদৃশ্য শক্তি বারবার সে দুয়ার বন্ধ করে দিয়েছে তাই বোঝাই যাচ্ছে না। আর তাই জনপ্রিয়তার যে অবস্খানে এখন থাকার কথা, এদেশের হকি তার ধারে কাছেও নেই।
বহু বছর আন্তর্জাতিক হকি বলতে পাক-ভারত উপমহাদেশকেই বোঝাতো। এ দুটি দেশের একচেটিয়া আধিপত্যের মধ্যেই বাংলাদেশের হকি বেড়ে উঠেছে। তারপরও এদশের  হকি না পেয়েছে এ দুটি দেশের মতো জনপ্রিয়তা, না পেয়েছে সাফল্যে।
কাবাডি:-

হা-ডু-ডু বা কাবাডি বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। বালাদেশের জাতীয় খেলা এটি। বর্তমানে কাবাডি আন্তর্জাতিক ভাবেও খেলা হয়। এই খেলা সাধারণত কিশোর থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক সব ধরনের ছেলেরা খেলে থাকে। সাধারণত বিশেষ উৎসব বা পালা-পার্বনে বেশ আড়ম্বরপূর্ণভাবে হা-ডু-ডু খেলার আয়োজন করা হয়। কাবাডি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশে কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হয়েছে। পূবে কেবল মাত্র গ্রামে এই কাবাডি খেলার প্রচলন দেখা গেলেও বর্তমানে সব জায়গায় কাবাড খেলা প্রচলিত হয়েছে।

আমার কাছে কেমন জানি মিলে না মিলে না লাগে। হাচাই কি কাবাডি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা? বর্তমানে দেশের সব জায়গায় কাবাডি খেলার প্রচলিত আছে? সবাই এই খেলা উপভোগ করে।

ক্রিকেট আমাদের জাতীয় খেলা নয়, আমি ক্রিকেট ভালো বুঝিও না তার পরও এমন লাগে কেনো? ক্রিকেট খেলা দেখার সময় একেকটা উইকেট পড়ে আর শরীরটা কেমন যেনো উত্তেজিত হয়ে পড়ে। জোরে জোরে নি:শ্বাস নেই। কাম আছে, কিন্ত ডেস্ক থেকে উঠতে ইচ্ছা করেনা, কি জানি এই ফাকে আরেকটা উইকেট পড়ে যায়!!!