ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১৯ জুলাই ২০১৮, ১১:০৭

পাটের হারানো গৌরব ফিরে আনতে হবে

পাটকে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ বলা হয়। বহির্বিশে^ও বাংলাদেশী পাটের সমাদর ছিল ঈশর্^নীয় পর্যায়ে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমরা পাট ও পাটজাত দ্রব্য বিদেশে রফতানী করতাম। পাটের  বৈশি^ক চাহিদার প্রায় অর্ধাংশই রফতানী হতো বাংলাদেশ থেকে। মূলত পাট ছিল আমাদের রফতানী পণ্যের অন্যতম। মোট বৈদেশিক আয়ের সিংহভাগ আসতো পাট খাত থেকে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে পাট অতীত গৌরব হারিয়েছে। পাষ্টিক জাতীয় দ্রব্য ও পলিথিনের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় পাট ও পাটজাত দ্রব্যের গুরুত্ব অনেক ক্ষেত্রেই কমে গেছে। আমাদের উদাসীনতা ও ব্যর্থতার কারণেই পাটের অতীত গৌরব ধরে রাখতে পারিনি। প্লাষ্টিক জাতীয় দ্রব্য ও পলিথিনের ব্যবহারের বিপরীতে পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহারকে আমরা জনপ্রিয় করে তুলতেও ব্যর্থ হয়েছি। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে যেমন পাাটের সমাদর কমেছে, ঠিক তেমনিভাবে আমরা হারিয়েছি আন্তর্জাতিক বাজারও। ফলে এই খাত থেকে রেমিটেন্স প্রবাহও কমেছে আশঙ্কাজনক হারে।
মূলত পাটজাত দ্রব্যই পরিবেশ বান্ধব। তাই পাট ও পাটজাত দ্রব্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য গণসচেতনা সৃষ্টি খুবই জরুরি ছিল। কিন্তু সে ক্ষেত্রে আমাদের ব্যর্থতার কারণেই পরিবেশবান্ধব পাটজাত দ্রব্যের পরিবর্তে প্লাষ্টিকজাতীয় দ্রব্য ও পলিথিন সে স্থান দখল করে নিয়েছে। প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার অনেকটা সহজতর হলেও তা মোটেই পরিবেশ বান্ধব নয়। প্লাষ্টিক ও পলিথিন জাতীয় দ্রব্যের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণেই পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থায়ও মারাত্মক প্রতিকুলতা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তাই জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত পণ্যের ব্যবহারকে উৎসাহী করার আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে।
আসলে প্লাষ্টিকজাত দ্রব্যের জয়জয়কারের মধ্যে এখনও পাটজাত দ্রব্যের আবেদন শেষ হয়ে যায়নি বরং যত দিন যাচ্ছে ততই আত্মসচেতন মানুষ পরিবেশ বান্ধব দ্রব্যের দিকেই অগ্রসর হচ্ছেন। পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ও পরিবেশ বিপর্যয় থেকে বাঁচতে গবেষকগণ পাট নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রেখেছেন। গবেষকগণ ইতোমধ্যেই ‘সোনালী ব্যাগ’ নাম দিয়ে পাটজাত পরিবেশ বান্ধব ‘বায়োডিগ্রেডেবল পলিব্যাগ’ তৈরি করতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন। যা পাটের অধিকতর ব্যবহার ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে গবেষকগণ এ বিষয়ে বিনিয়োগকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই বিজ্ঞানীদের এই সাফল্যকে কাজে লাগাতে হলে এ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। এ বিষয়ে সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও শিল্প উদ্যোক্তাদের অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই পাটের অতীত গৌরব ফিরে আনা সম্ভব হবে।
পুনশ্চ, পাট আমাদের জাতীয় সম্পদ। তাই এই জাতীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলেই আমরা সোনালী আঁশের হারানো গৌরব ফিরে আনতে সক্ষম হবো। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে। বাড়বে রফতানী আয়ও।