ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১১ আগস্ট ২০১৮, ১১:০৮

নৈরাজ্য কাম্য নয়

গত ২৯ জুলাই রাজধানীতে বাস চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশেই পরিবহণ সেক্টরে অচলাবস্থার সৃষ্টিহয়েছে। দুইজন সহপাঠীর অনাকাঙ্খিত মৃত্যুতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে এসেছে। তারা নিরাপদ সড়কের দাবিতে সরকারের কাছে ৯ দফা দাবি-দাওয়া পেশ করেছে। সরকার অনেকটা তড়িঘড়ি করেই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দাবি-মেনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এতেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি বরং শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির পূর্ণ বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত রাজপথে থাকার প্রত্যয় ঘোষণা করেছে এবং সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথেই আছে।
আমাদের দেশের সবচেয়ে নৈরাজ্যপূর্ণ সেক্টর হলো পরিবহণ সেক্টর। গণপরিবহণের অধিকাংশ যানবাহন শুধু অনিবন্ধিতই নয় বরং মানহীন। রুট পারমিটহীন গাড়ীর সংখ্যাও একেবারে কম নয়। অভিজ্ঞ ড্রাইভারেরও সংকট রয়েছে পরিবহণ সেক্টরে। এমনকি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ড্রাইভারের ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। এদের অধিকাংশই আবার টিন এজার। যাদের জীবন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা এখনও জন্মেনি। মূলত এদের গাড়ী চালানোর মত প্রয়োজনীয় বয়সই হয়নি। সবচেয়ে বড় ভাবনার বিষয় হলো দেশের মটর শ্রমিকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হলো মাদকাসক্ত। আমাদের দেশের পরিবহণ অবকাঠামোও বিশ^মানের নয়।
এসব দুর্বলতা ও প্রতিকুলতা নিয়েই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে আমাদের দেশের গণপরিবহণ। ফলে দুর্ঘটনা আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়েছে। প্রতিদিনই আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। ঝড়ছে তরতাজা প্রাণ। সরকারি হিসেব মতেই আমাদের দেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ৩ হাজারেরও অধিক মানুষ। কিন্তু যাত্রী কল্যাণ সংস্থার পরিসংখ্যানে আরও ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। সংস্থাটির দেয়া তথ্যমতে গত বছর আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৮ হাজার মানুষ। আহত হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার। দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার। যা রীতিমত উদ্বেগজনক।
মূলত যথাযথ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই দেশের পরিবহণ সেক্টরের এই অনিয়মগুলো এখন অনেকটাই অপ্রতিরোধ হয়ে উঠেছে। দেশের পরিবহণ বিভাগ নিয়ে একাধিক স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় থাকলেও যথাযথ উদ্যোগ ও পদক্ষেপের অভাবে আমাদের দেশের পরিবহণ সেক্টর এখন জনবান্ধব ও সময়োপযোগী হয়ে উঠেনি। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। মহাসড়কগুলোতে বেড়েছে লাশের মিছিল। সম্পদহানীও ঘটছে অনাকাঙ্খিতভাবে।
আমারা বিষয়টি নিয়ে এতদিন উদাসীন থাকলেও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। তারা পরিবহণ সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরে আনার জন্য ৯ দফা দাবি পেশ করেছে। সরকারও তাদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে দাবি মানার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু আস্থা-অনাস্থার সংকটের কারণে তা এখনও ফলপ্রসূ হয়নি। তাই আন্দোলত শিক্ষার্থী সহ জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব সরকারেরই। দেশের মানুষ সরকারের কাছে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে।
দেশের পরিবহণ সেক্টরের অচলাবস্থা যেমন কাম্য নয়, ঠিক তেমনিভাবে দাবি আদায়ের নামে নৈরাজ্যও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আন্দোলরত শিক্ষার্থী ও সরকারের মনোভাবের মধ্যে তেমন কোন তফাৎ নেই। একটু আন্তরিক হলেও এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান খুবই সম্ভব। নৈরাজ্য কারো জন্যই কল্যাণকর নয়।