ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

এনএনবিডি ডেস্ক

১১ আগস্ট ২০১৮, ১৩:০৮

মার্কিন কংগ্রেসের প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী সদস্য?

6000_16.jpg
রশিদা তালিব
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের এখনো প্রায় তিন মাস বাকি, কিন্তু এরই মধ্যে একজন ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী তাঁর নির্বাচন নিশ্চিত করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদে মিশিগানের একটি শূন্য আসনের জন্য গত মঙ্গলবার ডেমোক্রেটিক পার্টির বাছাইপর্বের নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন রশিদা তালিব। ডেমোক্র্যাটদের জন্য নিরাপদ বলে বিবেচিত এই আসনে রশিদাই একমাত্র প্রার্থী। রিপাবলিকান বা অন্য কোনো দল এই আসনের জন্য কোনো প্রার্থী না দেওয়ায় নভেম্বরের নির্বাচনে তাঁর নির্বাচন নিশ্চিত।

মার্কিন কংগ্রেসে এই মুহূর্তে দুজন মুসলিম সদস্য রয়েছেন—মিনেসোটার কিথ এলিয়াসন ও ইন্ডিয়ানার আন্দ্রে কারসন। কিন্তু রশিদাই হবেন মার্কিন কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম নারী। তিনি একজন ফিলিস্তিনি, সেটিও মার্কিন কংগ্রেসের ইতিহাসে প্রথম।

আইনজীবী ও নাগরিক অধিকারকর্মী রশিদা মিশিগানে কোনোঅপরিচিত নাম নয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের সদস্য ৪১ বছর বয়স্ক রশিদা ২০০৮ সালে মিশিগান রাজ্য আইন পরিষদের প্রথম মুসলিম নারী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান।
মিশিগানে জন্মগ্রহণকারী রশিদার বাবা-মা ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর থেকে আগত অভিবাসী। তাঁর পিতামহী এখনো পশ্চিম তীরে বাস করেন। মঙ্গলবারের নির্বাচনের ফলাফলের জন্য তিনি সারা রাত জেগে ছিলেন, রশিদা নিজেই সে কথা জানিয়েছেন।

‘আমি সব বর্ণবাদী ও বৈষম্যের নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করব। চলতি নিবর্তনমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে,’ রশিদা তাঁর বিজয় পালনের সময় সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন। কোনো সন্দেহ নেই রশিদার এই লড়াই ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর অনুসৃত নীতির বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্পকে মার্কিন শাসনতন্ত্র পড়ে দেখার পরামর্শ দেওয়ায় তাঁকে এক সভা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

অনেকেই রশিদার নির্বাচনকে আলেকসান্দ্রিয়া ওকাসিও-করটেজের সঙ্গে তুলনা করছেন। ২৮ বছর বয়স্ক ওকাসিও-করতেজ জুন মাসে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বের নির্বাচনে নিউইয়র্ক থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন। দলের প্রগতিশীল নেতা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের একজন ঘনিষ্ঠ অনুসারী ওকাসিও খোলামেলাভাবে নিজেকে একজন ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট’ হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। রশিদা নিজেকে ‘সমাজতন্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় না দিলেও যে ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার কর্মসূচি তিনি প্রস্তাব করেছেন, তার সঙ্গে স্যান্ডার্স-ওকাসিও প্রস্তাবিত কর্মসূচির তেমন কোনো প্রভেদ নেই।

কোনো সন্দেহ নেই, কংগ্রেসে ওকাসিও ও রশিদার মতো সদস্যের আগমন ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে বড় ধরনের ঝড় তুলবে। ভাবা হচ্ছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডেমোক্রেটিক পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবে। এঁরা দুজনেই ইঙ্গিত করেছেন, নির্বাচিত হলে তাঁরা স্পিকার হিসেবে ন্যান্সি পেলোসিকে সমর্থন করবেন না। রশিদা মনে করেন, দলে এখন এমন নেতা প্রয়োজন, যিনি পরিবর্তিত সময়ের প্রয়োজন সম্বন্ধে পর্যাপ্ত অবহিত। পেলোসির নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, কী প্রবল দারিদ্র্য ও বৈষম্যের ভেতর সংখ্যালঘু ও অভিবাসী আমেরিকানদের জীবন যাপন করতে হয়, পুরোনো নেতাদের অনেকেই তার খবর রাখেন না।