ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

আবু কাওছার আহমেদ, টাঙ্গাইল থেকে

১৫ আগস্ট ২০১৮, ১৯:০৮

বেপরোয়া ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ!

6152_vasani.jpg
টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীকে পেটানোসহ সাংবাদিকদের পেটানো ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। তাদের মনমত না হলে ডেকে নিয়ে গিয়ে পেটানোসহ বিএনপি, জামায়াত-শিবির বানানোও অভিযোগ রয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ওমর ফারুককে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয় বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগ সজীব তালুকদারের সমর্থক সুমন আহম্মেদ ও তার সহযোগীরা।

সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম গেটের পাশে রিয়া-দিয়া ছাত্রীনিবাসের প্রবেশের রাস্তায় ওমর ও তার সহযোগিরা গণিত বিভাগের ২য় বর্ষ ১ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী লামিয়া এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায়। ওমর ও তার সহযোগিরা এ অবস্থা দেখে তাদের জিজ্ঞাসা ও বকাবাজি করে তাড়িয়ে দেয়। এরপরে ওমর তার রুমে ফিরে যায়। পরে সে জিয়া হলের সামনে বসে। এর মধ্যেই লামিয়া তার বন্ধু সুমনকে ঘটনাটা ফোনে জানায়। এ সময় সুমন তার দলবল নিয়ে ওমরকে পেটাতে থাকে। এতে ওমরের শরীরে জখম ও কাধ থেকে হাতের হাড় সরে যায়। পরে আহত অবস্থায় ওমরকে টাঙ্গাইল জেনারেল  হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে ওমর ফারুক বলেন, ‘আমি আগেও ছাত্রলীগের সক্রিয় সমর্থক ছিলাম এখনও আছি। আমি নিবিড়ি পালের সমর্থক বলে আমাকে পদ দেয়া হয়নি। অন্যায় দেখে বাধা গিয়ে আমার এই পরিণতি। এদের মত ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া ছাত্রলীগকে কলুষিত করছে। আমি দোষীদের বিচারের আওয়াত এনে জোড় শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

এছাড়াও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ডেকে ডেকে পেটানোর অভিযোগ রয়েছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ফুড টেকনোলজি এন্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের আবির আহম্মেদ বিবিএ বিভাগের তৌসিফ, আই.সি.টি বিভাগের সায়েমসহ অনেককে হলের রুমে ডেকে নিয়ে গিয়ে পিটায় তারা।

অপরদিকে সাধারণ শিক্ষার্থী ছাড়াও সাংবাদিকদের পেটানো ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ রয়েছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করায় ভোরের কাগজ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এম.এন মন্ডলকে ডেকে পাঠায় ছাত্রলীগ সভাপতি সজীব তালুকদার। এম.এন মন্ডল তার  সাংবাদিকতার আইডি কার্ড দেখালে সজীব তালুকদার তার আইডি কার্ড ছুড়ে ফেলে দেয় এবং দলবল দিয়ে পেটাতে থাকে। আর এই পেটানোর কথা বাইরে বললে ছাত্রত্ব থাকবে না বলেও হুমকি দেয়।

সাংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি ও ভোরের ডাক পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সাইফুল মজুমদার হলে প্রতি রুমে ৪ জনের যায়গায় ৫ জন তোলার প্রতিবাদ করলে ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদার সাইফুলকে তার রুমে ডেকে পাঠায়। সাইফুল গেলে তার সাথে অশোভন আচরন করে ও হুমকি প্রদান করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে গত সোমবার বিশ্বদ্যিালয়ে প্রধান প্রকৌশলীর পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ করে ছাত্রলীগ। তাদের দাবি ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলী বিএনপি জামায়াতের এজেন্ট। তিনি তার কক্ষে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি লাগান না। ছাত্রলীগ এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলী বলেছেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ^াসী না, বঙ্গবন্ধুর ছবি টানালে আমার অফিসের অবমানা হয়।

অথচ এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদারের কাছে বক্তব্য চাইলে বলেন, প্রকোশলী ও আমাদের মাঝে কিছু ভুল বুঝাবুঝি ছিল। এখন সমাধান হয়ে গেছে।

পরবর্তীতে খোজ নিয়ে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান হলের পাশে প্রায় ৬০ লাখ টাকার মাটি ফেলার কাজ করছে ছাত্রলীগ সভাপতি সজীব তালকদার ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান। মাটি না ফেলে জোড়পূর্বক বিল চাইলে, প্রকৌশলী বিল না দেওয়ায় তারা এ ধরনের নাটক সাজায়।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি সজীব তালকদার বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। এছাড়া আমরা সাংবাদিকদের সাথে কোন খারাপ আচরণ কিংবা মারধোর করেনি। এছাড়া নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় আমরা কোন শিক্ষার্থীকে পেটায়নি। বরং কয়েকজন শিক্ষার্থী ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী এবং ছাত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে কটুক্তি করেছিল, তাদেরকে আমরা চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবগত করেছি।’