ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

স্পোর্টস ডেস্ক:

১৬ আগস্ট ২০১৮, ০৮:০৮

উয়েফা সুপার কাপ শিরোপা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের

6154_2.......jpg
রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-২ গোলে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপ জিতল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে সমতায় থাকা খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অ্যাটলেটিকোর হয়ে ২ গোল করেন ডিয়েগো কস্তা। অতিরিক্ত সময়ে একটি করে গোল করেন সাউল ও কোকে। রিয়ালের পক্ষে একটি করে গোল করেন বেনজেমা ও রামোস।

টানা তিনবার চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপাজয়ী রিয়ালের সামনে উয়েফা সুপার কাপ জিতে ইতিহাস গড়ার সুযোগ ছিল। সুযোগ ছিল টানা তিনবার সুপার কাপ জয়ের ইতিহাস। কিন্তু রোনালদোবিহীন রিয়াল পারেনি। অ্যাটলেটিকোর কাছে হেরেছে ৪-২ গোলের ব্যবধানে। উল্টো রেকর্ড বইয়ে নাম তুলেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদই। অ্যাটলেটিকোই প্রথম দল, যারা এ নিয়ে তিনবার উয়েফা সুপার কাপ খেলে তিনবারই জিতেছে। এর আগে ২০১০ ও ২০১২ সালেও সুপার কাপ জিতেছিল স্প্যানিশ এই ক্লাবটি।

বুধবার এস্তোনিয়ার তালিনে লিলেকুলা স্টেডিয়ামে আসা দর্শকদের অনেকে তখনো ইতিউতি নিজের আসনটি খুঁজতে ব্যস্ত। টেলিভিশনের চ্যানেল ঘুরিয়ে আয়েশ করে অনেকে মাত্রই বসেছেন। গোল...বলে চেঁচিয়ে উঠেছেন ধারাভাষ্যকার তখনই। বলতে গেলে একাই রিয়ালের জালে বল জড়িয়ে দেন ডিয়েগো কস্তা।

ডিয়েগো গডিনের বাড়ানো বল মাথা ছুঁয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়েই রিয়ালের গোলপোস্টের দিকে দুর্দান্ত গতিতে ছুটে যান কস্তা। কস্তাকে আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন রামোস। কিন্তু পেরে ওঠেননি। গোলপোস্টের পাশ থেকে কস্তার শটটি ঠেকানোর কোনো উপায় নাভাসেরও জানা ছিল না।

প্রথম মিনিটেই গোল হজম করে খেই হারিয়ে ফেলা রিয়ালকে সমতায় ফেরান ফরাসি তারকা করিম বেনজেমা। ২৭তম মিনিটে গ্যারেথ বেলের অসাধারণ ক্রস আর বেনজেমার নিখুঁত হেডে গোল পায় রিয়াল। যদিও এর আগে গোলের সুযোগ পায় রিয়াল। ১৭তম মিনিটে অ্যাসেনসিওর শট আটকে দেন অ্যাটলেটিকোর গোলরক্ষক।

৬৩তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে রামোস দ্বিতীয় গোল করেন। অ্যাটলেটিকোর ডি বক্সে জুয়ানফ্রানের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজায় রেফারি। রিয়াল–সমর্থকেরা তখন হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন।

গোল শোধ করে খেলায় ফিরে আসে রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু নির্ধারিত সময় ফুরিয়ে যাওয়ার মিনিট দশেক আগে ডিয়েগো কস্তা যে তাঁদের বুকে ছুরি চালাবেন কে জানত! ৭৯তম মিনিটে আবারও কস্তার গোল। সমতায় ফেরে রিয়ালের নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো।

দুই দলই তখন রক্ষণাত্মক খেলার চেষ্টা করে। কৌশল একটাই—পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল দিতে হবে। তবে নির্ধারিত সময়ে সেই গোলের দেখা পায়নি কেউই।

রেফারি জানিয়ে দিলেন, ফলাফলের জন্য খেলতে হবে আরও ৩০ মিনিট। অতিরিক্ত সময়ে খেলায় ফিরে জবাব দেওয়ার বদলে আরও দুই গোল হজম করে বসে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। ৯৮তম মিনিটে সাউলের দুর্দান্ত ভলির গোলে ৩-২ গোলে এগিয়ে যায় অ্যাটলেটিকো।

ঘড়ির কাঁটা ঘুরতে না ঘুরতে ১০৪তম মিনিটে অ্যাটলেটিকোর হয়ে চার নম্বর গোলটি করেন কোকে। ১১৫তম মিনিটে গোল–ব্যবধান কমানোর সুযোগ পায় মদরিচ। কিন্তু অ্যাটলেটিকোকে রক্ষা করেন তাদের গোলরক্ষক। ততক্ষণে আশা ছেড়ে দিয়েছেন রিয়াল খেলোয়াড়েরা। অন্তত তাঁদের শরীরী ভাষায় সেটাই বলছিল!