ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি ডেস্ক:

১৬ আগস্ট ২০১৮, ০৮:০৮

রয়েছে ঝুঁকি

অস্ত্রোপচারে প্রস্তুত রাবেয়া-রোকেয়ার পরিবার

6156_4....jpg
ঝুঁকি থাকলেও অস্ত্রোপচারের জন্য প্রস্তুত রাবেয়া-রোকইয়ার পরিবার। রাবেয়া-রোকাইয়ার মা তাসলিমা খাতুন বলেন, “অস্ত্রোপচারের প্রতিটি ধাপ ঝুঁকিপূর্ণ, তবুও আমরা তৈরি। আমি এবং ওদের বাবা অনেক ভেবেছি, অনেক কথা বলেছি। তারপরই চিকিৎসার বিষয়ে এগিয়েছি।”

মেয়েদের নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কথাগুলো বলেন তাসলিমা খাতুন। দুই মেয়েকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বেড়িয়েছেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন রাবেয়া-রোকাইয়ার বাবা রফিকুল ইসলাম।

বার্ন ইউনিটের তৃতীয় তলার এক চিলতে খোলা জায়গায় ওদের ছেড়ে দেওয়া হয়। রফিকুল ইসলাম বলেন, ছেড়ে দাও। ওরা একাই হাঁটতে পারবে। তাসলিমা খাতুন মেয়েদের হাত ছেড়ে দেন, মুখ ভর্তি হাসি নিয়ে পায়ে পায়ে এগিয়ে যায় জোড়া শিশু রাবেয়া-রোকাইয়া।

দুই বছর দুই মাস বয়সী রাবেয়া-রোকাইয়া দৌড়ায়, খিলখিল করে হাসে। ওদের সঙ্গে হাসেন রফিকুল ইসলাম আর তাসলিমা খাতুন। তাসলিমা খাতুন জানালেন, গতকাল ১৪ আগস্ট তারা হাসপাতালে এসেছেন।

পাবনা জেলার চাটমোহরের অমৃতকুণ্ডু গ্রামে জন্ম নেয় জোড়া মাথার শিশু (প্যারাসিটিক টুইন্স) রাবেয়া-রোকেয়া। তাদের চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন হবে আগামী ১৯ আগস্ট। এর আগে রাবেয়া-রোকাইয়ার জোড়া মাথার ভেতরে রক্তনালি আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল। ওইদিন পরীক্ষা করে দেখা হবে রক্তনালি ঠিক আছে কি না, রক্তনালি ঠিক মতো কাজ করছে কি না।

ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ খোন্দকার বলেন, এই ধাপটিকে আমরা একটি ফলোআপ এনজিওগ্রাম বলছি। এই ধাপটি সম্পন্ন করতে পারলেই আমরা পরবর্তী ধাপে যাব। কারণ, আগে করা এনজিওগ্রামটি ছিল ওদের চিকিৎসার জন্য একটি ‘ব্যারিয়ার’।

শিশু দু’টির ফলোআপ এনজিওগ্রাম নিয়ে বৈঠক করেন ডা. সাজ্জাদ খোন্দকার, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. হোসাইন ইমাম, ডা. শারমিন সুমি, ডা. নুরুন্নাহার লতাসহ অন্যরা।

ডা. হোসাইন ইমাম বলেন, রাবেয়া-রোকাইয়ার চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন হাঙ্গেরি এবং জার্মানির কয়েকজন চিকিৎসক। তাদের মধ্যে এবার হাঙ্গেরি থেকে ইন্টারভেনশন নিউরোলজিস্ট ইস্তাভান হুদাক এবং নিউরোসার্জন এন্ড্রু চকে আগামী ১৯ আগস্ট ভোরে ঢাকায় এসে পৌঁছাবেন। সেদিনই রাবেয়া-রোকাইয়ার ফলোআপ এনজিওগ্রাম হবে। উপস্থিত থাকবেন ঢামেক হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম এবং বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, রাবেয়া-রোকাইয়ার চিকিৎসার প্রত্যেকটি ধাপ ঝুঁকিপূর্ণ, প্রত্যেকটি অস্ত্রোপচার ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কিছু রাবেয়া-রোকাইয়ার বাবা-মাকে বলা হয়েছে, সবাইকে বলা হয়েছে। রাবেয়া-রোকাইয়ার অভিভাবকের অনুমতি নিয়েই আমরা আগাচ্ছি, বাকিটা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা।

একই কথা জানিয়েছেন রাবেয়া-রোকাইয়ার মা তাসলিমা খাতুন। তিনি বলেন, ‘এটা অনেক রিস্কি, অস্ত্রোপচারের প্রতিটি ধাপ ঝুঁকিপূর্ণ। অস্ত্রোপচার করলে মেয়ে দু’টির প্যারালাইসিস হতে পারে, ব্রেইন ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে- এমনকি হতে পারে মৃত্যুও। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই অপারেশন হবেই।’

এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাবেয়া-রোকাইয়ার চিকিৎসার প্রথম ধাপ এনজিওগ্রাম শেষে হওয়ার পর রাবেয়া-রোকাইয়ার চিকিৎসায় গঠন করা মেডিকেল বোর্ডের অন্য সদস্য ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এ প্রক্রিয়াতে অনেকগুলো ধাপ রয়েছে। হাসপাতালের কয়েকটি বিভাগের চিকিৎসকরা একসঙ্গে টিম করে কাজ করছে।’

‘ওদের ব্রেইন এক হয়ে আছে’ জানিয়ে তিনি বলেন, দুই শিশুর চিকিৎসার পরবর্তী ধাপগুলো আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও বিপজ্জনক। মাথার শিরা ধাপে ধাপে বন্ধ করা হবে। আমরা স্বাভাবিকভাবে রক্ত চলাচলের রাস্তা পরীক্ষা করে দেখব বিকল্প শিরা রয়েছে কি না। প্রথমে তাদের রক্তনালি আলাদা করার পর ‘স্ট্রাকচারাল সেপারেশন’ অর্থ্যাৎ মাথা আলাদা করা হবে। আমরা শিরা বন্ধ করে দেখতে চাই শিশু দু’টি কমর্ফোটেবল থাকে কি না। এ জন্য আমরা সময় নেব।

রাবেয়া-রোকাইয়ার বিষয়ে ‘চিকিৎসকরা কতটুকু আশাবাদী’ এমন প্রশ্নে বার্ন ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম বলেন, ‘এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে আগে যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো তাতে মৃত্যু হার ছিল ৮০ শতাংশের মতো। কিন্তু বর্তমানে দুইটি পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। একটি হলো ‘স্ট্রাকচারাল সেপারেশন’ অন্যটি ‘ফাংশনাল সেপারেশন।’ স্ট্রাকচারাল সেপারেশন কনসেপ্টে এই ধরনের শিশুদের অস্ত্রোপচারে ভালো ফল আসা সম্ভব। রাবেয়া-রোকাইয়ার বেলায় আমাদের সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।

যদি তাদের মাথা আংশিক জোড়া থাকত তাহলে চিকিৎসার বিষয়টি অনেক সহজ হতো। কিন্তু ওদের মাথা পুরোটাই জোড়া লেগে রয়েছে। তাই ওদের বিষয়টি ‘কমপ্লেক্স অ্যান্ড কমপ্লিকেটেড’, বলেন ডা. আবুল কালাম।

গত বছরের ২০ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু দু’টিকে নিয়ে আসেন তাদের বাবা রফিকুল ইসলাম ও মা তাসলিমা খাতুন। তার আগে বেশ কয়েকবার তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন।