ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

স্টাফ রিপোর্টার

১৬ আগস্ট ২০১৮, ১১:০৮

বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ঘিরে গণগ্রেফতার চলছে

6163_human.jpg
বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ঘিরে গণগ্রেফতার চলছে বলে মন্তব্য করেছে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সরকার ভিন্নমত দমন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে সংস্থাটি নির্বিচারে গ্রেফতার বন্ধ, ভিন্নমত প্রকাশের দায়ে আটককৃতদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি ও শিার্থীদের ওপর সহিংস হামলার ঘটনায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

বিবৃতিতে সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, বাংলাদেশে সাংবাদিক ও শিার্থীদের মুখ বন্ধ করার জন্য একটি অস্পষ্ট আইনের ব্যবহার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করে ইতোমধ্যেই কর্তৃপ সরকারের সমালোচনা করার দায়ে কয়েক ডজন মানুষকে আটক করেছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী লীগ সমর্থকরা রামদা, লাঠি ও রড দিয়ে হামলা চালানোর ঘটনায় শেখ হাসিনা সরকার কোনো সমালোচনা সহ্য করছে না।

আন্দোলনকারী শিার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর চালানো সাম্প্রতিক গণগ্রেফতারে আতঙ্কজনক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা বাকস্বাধীনতাকে ব্যাপকভাবে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ব্র্যাড অ্যাডামস আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত এটা মেনে নেয়া যে, সমালোচনা হলো ক্রিয়াশীল ও সুষ্ঠু গণতন্ত্রের একটি অংশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিবাদী তরুণেরা নিরাপদ সড়ক, প্রশাসনের জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেটের শিকার হন। মতাসীন দল আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা তাদের ওপর সহিংসতা চালায়। আন্দোলনকারী শিার্থীদের ওপর সরকার সমর্থকদের হামলার সময় পুলিশ পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। পরে এই সহিংসতার বিষয়ে যেকোনো ধরনের সমালোচনা বন্ধ করতে উদ্যোগী হয় প্রশাসন। বিপুল বিশ্ববিদ্যালয় শিার্থী থাকেন, শহরের এমন একটি অঞ্চলে অভিযান চালায় ঢাকার পুলিশ। শিার্থীরা জানিয়েছেন, পুলিশ সব বাসাবাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ততা খুঁজতে তারা দ্বারে দ্বারে গিয়ে মোবাইল ফোন চেক করেছে।

আটককৃতদের একজন বিখ্যাত আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলমকে ৯ দিন ধরে বন্দী করে রাখা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, পুলিশ কাস্টডিতে তাকে মারধর করা হয়েছে। ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর দায়ে গত ৪ আগস্ট নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদের জামিন নামঞ্জুর করে কাস্টডিতে রাখা হয়েছে। প্রায় সব প্রেফতারই করা হয়েছে ৫৭ ধারায় আইসিটি আইনে।