ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:০৯

ধন্যবাদ সংশ্লিষ্টদের

6357_trafq-big-.jpg
রাজধানীতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনের সময় জরিমানা করছে পুলিশ (ফাইল ছবি)
রাজধানীর রাস্তায় পাবলিক বাসের চালকদের বেপরোয়া গাড়ী চালনা কমেছে বলে মনে হচ্ছে। আগের মতো অহেতুক পেছন থেকে হর্ণ বাজিয়ে ডান দিকে বাম দিকে দুই চারটা ঝাকুনি দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার যে প্রবণতা তা আগের মতো নেই। এজন্যই ধন্যবাদ সংশ্লিষ্টদের।

সম্প্রতি রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় আবদুল করিম ও দিয়া খানম ওরফে মীম নামে দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় রাস্তায় নেমে আসে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তারা একদিকে তাদের সহপাঠির হত্যার বিচার দাবী করে, অপরদিকে রাস্তায় শৃঙ্খলা আনতে নিজেরাই যানবাহন সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পরীক্ষা শুরু করে। এ কর্মসূচীতে শুধুমাত্র পাবলিক বাস বা ব্যক্তিগত গাড়ি নয়, লাইসেন্স না থাকার দায়ে বরং বিব্রত হতে দেখা গেছে সরকারের আমলা, এমপি, এমনকি মন্ত্রীদেরও।

পরিবহন সেক্টর ব্যবস্থাপনার করুণ চিত্র তুলে ধরায় দেশজুড়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতি বাহবা আসতে শুরু হয় ব্যাপকভাবে। সমর্থন আসে সরকার প্রধানসহ বিভিন্ন মহল থেকে। টানা কয়েকদিনের আন্দোলনের পর সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দাবী মেনে নেওয়ার ঘোষণা আসে, শুরুও হতে থাকে তার প্রয়োগের। পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের বলতে শোনা গেছে ‘ছোটরা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।’

আন্দোলনের শুরু, মাঝপথ ও সমাপ্তি সম্পর্কে সকলে অবগত। এটা নিয়ে বাড়তি কথা বলার প্রয়োজন নেই। আহত, নিহত, ধর্ষণ ও গুমসহ নানা অভিযোগ। যদিও এসবের পক্ষে বিপক্ষে তেমন কোন প্রমাণ মেলেনি সেভাবে। তবে উক্ত আন্দোলনের ঘটনায় সাংবাদিক আহতের ঘটনা অত্যন্ত পরিস্কার। মিটিং হয়েছে সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল ইনুর সঙ্গে সাংবাদিক নেতাদের। সেখানে যেভাবে নেতাদের আস্বস্ত করা হয়েছে, তাতে মনে হয়েছে দ্রুত সাংবাদিকদের উপর হামলাকারীরা গ্রেফতার হবে। তথ্যমন্ত্রী চিঠি দিয়ে অনুরোধও করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে।

আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসাভার গ্রহণ করেছে তথ্যমন্ত্রণালয়। এটা ছিল ভাল উদ্যোগ। কিন্তু, সেই ঘটনায় জড়িত কেউ গ্রেফতার হয়নি এখনো। ফলে আজও সাংবাদিকরা আন্দোলনে আছে রাজপথে। আদৌ হামলাকারীরা গ্রেফতার ও তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে কিনা তা পরিস্কার নয় এখনও। এতে আর যাই হোক এমন আন্দোলনের ঘটনা আগামীতে ঘটলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা কেউ কেউ করতে পারে, সেই পথ খোলা থেকে গেল।

রাস্তায় কিছুটা শান্তি ফিরিয়ে আনার ঘটনায় যা কিছুই ঘটুক, ভূমিকা যাদের আছে তারা যে ধন্যবাদ পাবার যোগ্য তাতে কোন সন্দেহ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নির্দেশনায় রাজধানীর সড়কে কিছুটা স্বস্থি এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিবকে প্রধান করে সড়ক নিরাপদ করতে কমিটির সুপারিশ ভাল ফল বয়ে আনবে বলে বিশ^াস করে সাধারণ মানুষ। এখন প্রয়োজন এসবের প্রয়োগ।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, শুধু এভাবে আন্দোলন করে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেই কি অন্যায়ের বিরুদ্ধে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করবে সরকার? নাকি নিজ থেকেই সাধারণ জনগণের ভোগান্তির কথা ভেবে পদক্ষেপ নেবে? সম্প্রতি টিআইবি পরিস্কার বলে দিয়েছে, দুর্নীতি ও অনিয়মে দেশের কোন কোন প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে। টিআইবির এ গবেষণা প্রতিবেদনের সাথে সরকার যদি একমত হয়, তাহলে পদক্ষেপ নিতে হবে দুর্নীতিগ্রস্থদের বিরুদ্ধে এবং অনেক কষ্টে অর্জিত সরকারের সুনাম নির্বাচনের আগ দিয়ে হলেও রক্ষা করতে হবে। আর যদি টিআইবির এমন বক্তব্যের সাথে সরকার একমত না হোন, তাহলে এ বিষয়ে প্রকৃত অবস্থান সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্কারভাবে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।

কোথায় কী হচ্ছে, সেসব বিষয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে সরকারের কর্তাব্যক্তিরা অত্যন্ত পরিস্কারভাবে অবগত। তারপরও যখন প্রতিকার বা প্রতিরোধমূলক কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় না, তখন তা দিনে দিনে ঘনিভূত হতে থাকে। আর এতেই গণমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে ভেসে উঠে ঘটনাপ্রবাহ। সৃষ্টি হয় যে প্রেক্ষাপটের, তা মোটেও কোন মহলের জন্যেই সুখকর হয় না। এজন্য আগেই গোপনে ঘটে যাওয়া অনিয়মের বিষয়গুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সামলে নিতে পারলে থাকবে স্থিতিশীলতা।