ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

আবু কাওছার আহমেদ, টাঙ্গাইল থেকে:

২১ জানুয়ারি ২০১৮, ২২:০১

মুসা পাগলার ‘শান্তিবাতি’

648_IMG_4829.JPG
 নাম মুসা। বয়স ৬০ বছর। হাতে ‘শান্তিবাতি’। পরনে লাল ধূতি, লাল ফতুয়া, মাথায় লাল পাগড়ী, গলায় অংসখ্য পাথরের মালা, হাতে আংটি। মানুষের কাছে তার পরিচিতি পাগল মুসা নামেই। প্রতিদিন ‘শান্তিবাতি’ হাতে সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টাঙ্গাইলের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ঘুরে বেড়ান বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। মশা তাড়ানো, ধূপ দেওয়া, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্রেতা বাড়ানো, শান্তি বয়ে আনাসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকেন পাগল মুসা। শহরের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে ডাকে শান্তি বাতিওয়ালা বলেও। আজ ১২ বছর ধরে তিনি এ কাজ করে যাচ্ছেন।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের গালা ফৈইলার ঘোনা গ্রামে পাগল মুসার জন্ম। অ আ ই ঈ এর বাইরে আর পড়ালেখা করতে পারেননি। স্ত্রী নয়ন তারা ও সন্তান নিয়ে ভালোই কাটছিল তার জীবন। টাঙ্গাইল শহরের নিরালা হোটেল এ কাজ করেছেন অনেক দিন। বিভিন্ন হাট-বাজারে ডালের বড়া, টানা, চিফস্ বিক্রি করতেন মুসা। কিন্তু ১৪বছর আগে ধরেরবাড়ী হাট থেকে সাইকেল নিয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে সাইকেল থেকে পড়ে যান। সবাই ধরা ধরি করে বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতে সুস্থ্য হয়ে ওঠলেও মানসিক প্রতিবন্ধি হয়ে যান। ডাক্তার তখন তাকে পাবনা নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরিবারের লোকজন অনেক চেষ্টার পর তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে। ২ বছর পর মুসা কিছুটা স্বাভাবিক হন। তারপর থেকেই বিভিন্ন বাউল গান, বিভিন্ন ফকির-পীর এর দরবারে ঘুরতে থাকেন। একসময় ‘অন্যজগতের’ মানুষের সানিধ্যে চলে যান মুসা। সেই থেকে পাগলা মুসা।

মুসা পাগল প্রগতির আলোকে জানান, আমি স্ত্রী সন্তান নিয়ে অনেক সুখে ছিলাম। কিন্তু আমার ব্রেইন স্টোক এর কারনে আমি কাউকে চিনতে পারিনি। আমার শরীরে কোন বস্ত্র রাখতে পারিনি। তখন আমার পরিবারের লোকজন অনেক চেষ্টা করে পাবনা থেকে আমাকে ভালো করে। তখন থেকেই আমি পাগল ও পীরের সাথে সাথে ঘুরতাম। আমার গুরু মানিকগঞ্জের মোংলা শেকল বাবা। তার কাছ থেকেই আমি সানিধ্য পেয়েছি। তিনিই আমাকে ‘শান্তিবাতি’ হাতে দিয়ে বলেছিলেন এখন থেকে তুই সবাইকে শান্তির পথ দেখাবি। সেই থেকে আমি শান্তিবাতি হাতে ঘুরে বেডাই। আমার কাছে কোন জাত নেই, কোন বড়-ছোটর ভেদাভেদ নেই। সবাই আমার কাছে সমান। আমি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি। দেশের বাইরেও অনেক জায়গায় গিয়েছি। আমার শান্তিবাতি দিয়ে শান্তি ছড়িয়ে এসেছি।

আমি বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়ির মশা তাড়াই, শান্তির জন্য প্রার্থনা করি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেন ক্রেতা বাড়ে সেজন্য ধূপ দেই। শান্তিবাতি হলো মশা তাড়ানোর যন্ত্র। আমার এ শান্তিবাতির মধ্যে নারকেল এর ছোলা, কাঠ কয়লা ও ধূপ ব্যবহার করি। আমার কোন দাবি নাই। আমার এ কাজের জন্য আমার পরিবার বা এলাকাবাসী কেউ কিছু বলে না। সবাই জানে আমি ভালো মানুষ। শান্তিবাতি দিয়ে শান্তি ছড়াই। এ শান্তিবাতি দিয়েই আমার রোজগার হয়। আমি কারো কাছে টাকা পয়সা চাই না। শান্তিবাতি দিয়ে দেই তখন খুশি হয়ে কেউ পাঁচ টাকা, ১০টাকা আবার কেউ ৫০টা দেয়। এ দিয়েই আমার চলে যায়।

প্রতিদিন আমার ৪শত থেকে ৫শত টাকা উঠে। আজ ৬ বছর ধরে আমি টাঙ্গাইলের বাজিতপুর এলাকার একটি মাজারে পাগল আল আমিনের সাথে রয়েছি। সেখানে আমি মাজারের খাদেম। আমার এ পাগল জীবনে আমি খুব খুশি।