ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

এনএনবিডি ডেস্ক

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:০৯

মোজাম্মেলকে ৪০ মামলায় জড়ানোর হুমকি পুলিশের

6781_6.jpg
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরিকে ৪০ টি মামলায় জাড়ানোর হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি একথা বলেন। সড়ক পরিবহন আইনে যাত্রীস্বার্থ সংযোজনের দাবি নিয়ে তিনি আন্দোলন করতে পারেন, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের একটি গোষ্ঠীর এমন আশঙ্কা ছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন আইন পাস করার জন্য ওই গোষ্ঠী তাঁকে কারাগারে আটকে রাখতে চেয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক এ কথা বলেন। মিরপুর থানায় করা কথিত চাঁদাবাজির মামলায় মোজাম্মেল হকের জামিনের পর কাফরুল থানায় করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তারের আবেদন গত বৃহস্পতিবার নাকচ করেন আদালত। এরপর রাতেই কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান মোজাম্মেল হক।

মোজাম্মেল হক বলেন, তিনি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তথ্য দিয়ে সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও সড়কের অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা রোধে কাজ করায় ও কথা বলায় কিছু পরিবহনমালিক-শ্রমিক ও দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা সম্মিলিতভাবে তাঁকে ঘায়েল করতে চান। তিনি বলেন, ২০০১ সালে যাত্রী কল্যাণ সমিতি বাসভাড়া নির্ধারণ সভায় সরকারের সঙ্গে দর-কষাকষি করে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমিয়ে ১ টাকা ৪৫ পয়সা করতে ভূমিকা রেখেছিল। এতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি মালিক-শ্রমিকদের রোষানলে পড়ে। ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় সময় পরিবহনমালিক-শ্রমিকদের সংগঠন সরকারের প্রিয়ভাজন হয়। তাদের ষড়যন্ত্রের কারণে ২০১৩ সালে যাত্রীস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সভা থেকে যাত্রী কল্যাণ সমিতিকে বিনা নোটিশে বাদ দেওয়া হয়।

মামলা ও মামলার বাদী প্রসঙ্গে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, মিরপুর থানার কথিত চাঁদাবাজি মামলার বাদী মো. দুলালকে তিনি চেনেন না এবং পরিবহন মালিকদের কারও সঙ্গে তাঁর যোগাযোগও নেই। আবার বাদী দুলালও তাঁকে চেনেনই না বলে গণমাধ্যমে বলেছেন। মামলায় বাদী দুলাল বলেছেন, ৩ সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটায় মিরপুর সনি সিনেমা হলের সামনে থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছেন। অথচ তখন বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন বাংলায় তাঁর সাক্ষাৎকার ধারণ করা হচ্ছিল।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, রিমান্ডে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফকির তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। ওসি তাঁকে চাঁদাবাজ-ধান্দাবাজ ও জামায়াত-শিবিরের লোক বলে ধমকান এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান। নিরাপদ সড়কের বিষয়ে গণমাধ্যমে তথ্য দেওয়ায় ওসি দাদন ফকির রিমান্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ৪০টি মামলা দেওয়ার হুমকি দেন। মোজাম্মেল হক তখন ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বলেছেন, তিনি চাঁদাবাজ কিংবা ধান্দাবাজ নন, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি হিসেবে কাজ করছেন।

মোজাম্মেল হক আরও বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মিরপুর থানার একদল পুলিশ সিদ্ধিরগঞ্জের বাসা থেকে ‘ডিসি স্যারের নির্দেশ’ আছে বলে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তখন পুলিশ তাঁকে মামলার যে এজাহার দেখায়, তাতে শুধু তাঁর নাম ছিল, পিতার নাম ও ঠিকানা অজ্ঞাত ছিল। তখন তিনি পুলিশ কর্মকর্তাকে বলেছিলেন, তিনি চাঁদাবাজ মোজাম্মেল নন। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এগুলো সবই ‘ওপরের নির্দেশে’ হয়েছে।

মোজাম্মেলের অভিযোগের বিষয়ে ওসি দাদন ফকির গতকাল রাতে সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা ঠিক নয়। তাঁর সঙ্গে মোজাম্মেলের কোনো বিরোধ নেই। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাও তিনি নন।