ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি ডেস্ক

১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৭:০৯

নির্বাচনকালে এমপিদের ক্ষমতা-মর্যাদা কী হবে

6839_sangsod-nirbachon.jpg
সব ঠিক থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরুর কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগের তিন মাস দায়িত্ব পালন করবে ক্ষমতাসীন সরকারই। বর্তমান সংসদের সদস্য তথা এমপিরাও তাদের পদে বহাল থাকবেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ হয়ে যাওয়ায় সেই সময় এমপিদের ক্ষমতা কিংবা মর্যাদা কী হবে, তা নিয়ে রয়েছে মতপার্থক্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সময়ও এমপিদের সব ক্ষমতা রয়েছে। কারণ সংবিধানে বলা আছে, প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী না আসা পর্যন্ত তার দায়িত্ব তিনি পালন করে যাবেন। এতে করে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। আমরা বলেছি, নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হলে প্রধানমন্ত্রীসহ সকল এমপিদের পদত্যাগ করতে হবে।’

সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকারের সময় এমপিদের দায়িত্ব কী থাকবে, সে বিষয়ে সংবিধানে কিছুই বলা নেই। পরবর্তী এমপিরা শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান এমপিদের শপথ বহাল থাকবে। এমপিরা তাদের মর্যাদা নিয়েই থাকবেন।’

‘নির্বাচনের সময় একজন এমপি তার এলাকায় গিয়ে উপস্থিত থাকলে প্রশাসন তাকে দেখে প্রভাবিত হবে, বায়াসড (পক্ষপাতদুষ্ট) হবে। এমপিরা এলাকায় গিয়ে নিজের দলের ভোটের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন। এ জন্য আমরা বলছি, নির্বাচনের সময় হয় সংসদ ভেঙে দিতে হবে, অন্যথায় তাদের ক্ষমতা নিয়ে নিতে হবে।’

ডেইলি অবজারভার অনলাইনের প্রধান ও আইনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কাজী আবদুল হান্নান বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এমপিদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আগের মতোই থাকবে। তবে কৌশলগত কোনো সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারবেন না এবং এই সময়ে সংসদ অধিবেশন বসবে না।’

প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও আইনবিষয়ক কলাম লেখক মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘নির্বাচনের সময় এমপিদের দায়িত্ব ও কর্তব্য এমন হওয়া উচিত, যেটি অস্ট্রেলিয়া এবং ইউকের (যুক্তরাজ্য) এমপিরা যে রকম দায়িত্ব পালন করেন, আমাদেরও সে রকম হওয়া উচিত।’

অস্ট্রেলিয়ায় নির্বাচনকালীন সরকারের আচরণবিধিতে বলা হয়, জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া নীতিগত কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে না এই সরকার। তারা বড় কোনো নিয়োগ দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে নিয়োগ দিতে পারবে।

আওয়ামীপন্থী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এমপিরা তাদের দৈনন্দিন কার্য সম্পাদন করতে পারবেন। কোনো পলিসিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। তারা নিয়মিত অফিস করবেন।’

‘অফিশিয়ালি দৈনন্দিন যে কাজগুলো আছে, সেগুলো তারা নিয়মিত চালিয়ে যাবেন। কিন্তু প্রশাসনিক বা নির্বাহী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারবেন না।’

দৈনন্দিন কাজ কী জানতে চাইলে শাহ মঞ্জুরুল বলেন, এর মধ্যে রয়েছে সরকারি কোনো বৈঠক, অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া, মাসিক আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভায় যোগ দিতে পারবে।

এ সময়ে কোনো এমপি অন্য এমপির পক্ষে ভোট চাইতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে এই আইনজীবী বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ-১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনী কাজে দায়িত্ব পালন করতে তার কোনো বাধা থাকবে না।’

জনস্বার্থবিষয়ক রিট করে আলোচিত আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী এমপিরা তাদের শপথ নেওয়ার পাঁচ বছর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। যদি পাঁচ বছর শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন হয়, তাহলে এমপিরা তাদের পূর্বের মর্যাদা নিয়েই দায়িত্ব পালন করবেন।’

সংবিধানের ৫৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন না। এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়িত্বে থেকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করবেন। সংবিধান অনুযায়ী তিনি উত্তরাধিকার হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেবেন। উত্তরাধিকার মানে হলো নিজে দায়িত্ব না নিয়ে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া।

এ বিষয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ইসির কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের সময় সরকারি একটি সিদ্ধান্ত হবে। সেই সিদ্ধান্তে এমপিরা কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারবেন বা পারবেন না, সে বিষয়ে এখনই মন্তব্য করতে চাই না।’