ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি, চট্টগ্রাম:

১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:০৯

বখাটের বাসাতে মিলল নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ

6876_schoolgirl-tuhin.jpg
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা সদরে বখাটের হাতে খুন হয়েছে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তাসনিম সুলতানা তুহিন (১৩)। রোববার রাতে হত্যার অভিযোগে বখাটে মুন্নাকে আটক করেছে পুলিশ। তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় তুহিনের গলিত লাশ। তিন দিন আগে তুহিনকে হত্যা করে লাশ গুম করে রাখে মুন্না তার বাসায়। যে বাসায় তুহিনরা নিচতলায় থাকে, সেই বাসার চারতলায় থাকে মুন্নার পরিবার।

এ হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীসহ এলাকার সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে। সোমবার প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী হাটহাজারী উপজেলা পরিষদের সামনে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে যান চলাচল। মুন্না ও তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন বক্তারা। তা ছাড়া এলাকায় যারা মাদক সেবন ও বিক্রি করছে, চিহ্নিত এসব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

তুহিনের নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাটহাজারী গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও হাটহাজারী পার্বতী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, হাটহাজারী সরকারি কলেজ, হাটহাজারী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী মানববন্ধনে অংশ নেয়। প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ সময় যোগ দেন উপজেলা সদরের বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা।

এদিকে মুন্নাকে হাটহাজারী মডেল থানা থেকে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তুহিনের ভাই আকিব জাবেদ বাদী হয়ে মুন্না, তার বাবা পল্লী চিকিৎসক মো. শাহজাহান এবং মা নিগার সুলতানার বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় মামলা করেছেন। সোমবার উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নে গ্রামের বাড়িতে বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তুহিনের লাশ।

সোমবার সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পিবি আইয়ের একটি টিম। পুলিশ পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে পিবি আই টিম ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। জানতে চাইলে পিবি আই পুলিশ পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক জানান, নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে আমরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করেছি।

হাটহাজারী পৌরসভার ফটিকা গ্রামের শাহজালাল পাড়ার নিজ বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর স্কুলছাত্রী তাসনিম সুলতানা তুহিনের গলিত লাশ রোববার রাতে উদ্ধার করে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ। সালাম ম্যানশন নামে পাঁচতলা একটি ভবনের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। সে ওই ভবনের মালিক উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের নেয়ামত আলী সারাং বাড়ির আবু তৈয়বের মেয়ে এবং হাটহাজারী গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন তুহিন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তুহিন বাসা থেকে নিখোঁজ হয়। রোববার সন্ধ্যায় পৌর এলাকা থেকে পুলিশ শাহনেওয়াজ মুন্না নামে মাদকসেবী এক বখাটে যুবককে আটক করে। ওই যুবকের স্বীকারোক্তি মোতাবেক রাত ৯টার দিকে পুলিশ তুহিনের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশের হাতে আটক মুন্না পৌরসভার চন্দ্রপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহজাহানের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে মুন্নার পরিবার তুহিনদের বাড়ি সালাম ম্যানশনের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়ায় থাকে।

স্থানীয়রা জানান, চিহ্নিত একটি মাদকসেবী গ্রুপ নিয়ে এলাকায় আড্ডা দেয় মুন্না। প্রকাশ্যে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন করে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের নাম ব্যবহার করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করত। এলাকার ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হলেও সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের নাম ব্যবহার করায় মুখ বুজে সহ্য করত তারা। তুহিনকে হত্যার পর এলাকার সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে।

হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শামিম শেখ বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি হওয়ার পর ঘটনার ক্লু বের করতে তৎপর হই আমরা। রোববার সন্ধ্যায় পৌর সদর থেকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত শাহনেওয়াজ মুন্না নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক রাত ৯টায় সালাম ম্যানশনের চতুর্থ তলায় ড্রয়িং রুমের একটি সোফাসেটের নিচে প্লাস্টিকে মোড়ানো অবস্থায় তুহিনের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।