ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:০৯

ডেঙ্গু আতঙ্কে নগরবাসী!

6911_photo.jpg
রাজধানীতে নারী-পুরুষ-শিশু কেউই বাদ যাচ্ছে না এই রোগের প্রকোপ থেকে। দিন দিন বেড়েই চলছে ডেঙ্গু রোগী। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার ৩শ’ ৫৭ জন। আর এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৪ জন। এ অবস্থার পরিবর্তনে জনগণকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সতর্ক থাকার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (১৮ সেপ্টেম্বর) ৬৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ৪৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে ৪ হাজার ৩শ’ ৫৭ জন। এরমধ্যে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। যা, ২০১৬ সালের রেকর্ড ছুঁয়েছে। এর আগে ২০০০ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী ৯৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। গতবছর মারা যান ৮ জন।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার দেওয়া স্বাস্থ্যবার্তায় বলা হয়েছে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ভাইরাসজনিত জ্বর, যা এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারণ চিকিৎসাতেই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সেরে যায়। তবে হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর মারাত্মক হতে পারে। এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধের মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধ করা যায়। বর্ষার সময় এ রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই এ সময় বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

হেমোরেজিক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে চারজনের রক্ত নিয়ে এক ইউনিট প্লাটিলেট দিতে হচ্ছে। রোগীর শরীরে পুশ করার জন্য এই রক্ত জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে রোগীর আত্মীয়রা।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার বলেন, আমার হাসপাতালে আজকে (মঙ্গলবার) ২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। এখনও পর্যন্ত কোনও রোগীর মৃত্যু হয়নি। আমাদের হাসপাতালে প্লাটিলেট কাউন্ট করা এবং প্লাটিলেট দেওয়ার সব ধরনের বন্দোবস্ত আছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, আমরা এ পর্যন্ত ৩৩ জন ডেঙ্গু রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিয়েছি। এখন হাসপাতালে কোনও ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নেই।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত আমাদের ১৪৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। ৮৮ জন রোগী ডিসচার্জ হয়েছে। তবে এ মাসে ২ জন রোগী মারা গেছে। আর ৫৫ জন রোগী এই মুহুর্তে হাসপাতালে ভর্তি আছে।

তিনি বলেন, গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৪ শ’১৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ৩৬০ জন রোগী ডিসচার্জ করেছি। এ পর্যন্ত মোট মারা গেছে ৩ জন রোগী।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, আমাদের হাসপাতালে এখন ৩১ জন রোগী ভর্তি আছে। গত জানুয়ারি থেকে ২৪০ জন রোগী ভর্তি হয়েছিল। তবে, আমাদের এখানে কোনও ডেঙ্গু রোগী মারা যায়নি।

বংশালের বাসিন্দা সালমা বেগম গত ১২ সেপ্টেম্বর জ্বর ও বমি নিয়ে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি হন। তার মেয়ে আয়শা আক্তার বলেন, মাকে এক ইউনিট রক্ত দিতে হয়েছে। তার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তিনি কিছুই খেতে পারছিলেন না। পরে ঢামেকের চিকিৎসায় আমার মা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়েছে। তবে তার এখনও দুর্বলতা কাটেনি।

আয়শা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, আমি নিজে একজন স্বাস্থ্যকর্মী, তাই আমার পরিবার সচেতন নয় একথা কেউ বললে আমি মানবো না। আমরা তো বাসা পরিষ্কার রাখি, মশারি খাটিয়ে ঘুমাই। এরপরও তো মা বাজার করতে যায়। বিভিন্ন আত্মীয়ের বাড়িতে যায়। শুধু জনগণকে সচেতন হওয়ার কথা বলে উচ্চপদস্থরা চুপ থাকাটা আমি ঠিক মনে করি না। আমার মতে, প্রশাসনের ডেঙ্গু প্রতিরোধে আরও কঠোর হওয়া দরকার।

একই ধরনের অভিযোগ করেন ডেঙ্গু রোগী সুরাইয়া সুলতানা (১৮) -র মা সানজিদা সুলতানা। তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে যে না আক্রান্ত হয়েছে সে বুঝতে পারবে না এর কষ্ট কী! একবার রক্ত যোগাড় করো। চারজনের রক্ত নিয়ে এক ইউনিট প্লাটিলেট তৈরি করে দিতে হয়। এসব খুবই সময়ের আর কষ্টের ব্যাপার।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এইমাসে গত কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন কমতে শুরু করেছে। আর যদি বৃষ্টি না হয় আশা করছি, ধীরে ধীরে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে যাবে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) থেকে বলা হয়, জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ে। এই সময়কালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আইইডিসিআর’র সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার এ এস এম আলমগীর।