ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:০৯

রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় আইসিসির তদন্ত শুরু

6917_4.jpg
মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো বর্বর ও নৃশংস অভিযানের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত(আইসিসি)। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসিলমদের উপর নৃশংসতা চালানোর অভিযোগ উঠেছে দেশটির সেনাদের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার সংস্থাটির প্রসিকিউটর ফাতো বেনসুদা জানান, রাখাইনে সেনা নিপীড়নের ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে নামার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নামবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, তদন্তে রোহিঙ্গাদের হত্যা, যৌন নিপীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিতাড়িত করার বিষয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করা হবে।

আইসিসির এই উদ্যোগের ফলে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পথ উন্মোচিত হলো। কয়েক দিন আগেই রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্তে নামার রায় দেয় আইসিসি।
যদিও মিয়ানমারের দাবি, আইসিসির সদস্য না হওয়ায় তাদের নিয়ে বিচারের কোনো এখতিয়ার আইসিসির নেই।

কিন্তু হেগের আদালত বলছে, বাংলাদেশ সংস্থার অন্যতম সদস্য দেশ। তাই এ ঘটনার বিচার করার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে। কারণ আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশের ধরনের জন্যই এই বিচার সম্ভব।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকটি চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের হামলাকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গাদের ওপর সাঁড়াশি অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিসংঘ ওই অভিযানকে জাতিগত নিধন হিসেবে অভিহিত করে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, ভয়াবহ ওই অভিযান থেকে জীবন বাঁচাতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

কিন্তু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও অন্যান্য গ্রুপ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অপকর্মের যথাযথ প্রমাণ হাজির করলেও নেইপিদো বলছে, তারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে।
এদিকে, বার্মিজ আর্মির ওই সাঁড়াশি অভিযানের তদন্ত করতে জাতিসংঘ যে স্বাধীন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন গঠন করে তা গতকাল তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনে উপস্থাপন করেছে। যদিও তাদের প্রতিবেদনের মূল অংশ গত ২৭ আগস্ট প্রকাশ করা হয়।

ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর উদ্দেশ্যেই মিয়ানমার সেনাবাহিনী ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও গণধর্ষণ চালায়। সেইসঙ্গে বার্মিজ সেনাবাহিনীর প্রধানসহ ছয়জন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাকে বিচারের মুখোমুখি করার সুপারিশ করা হয়।

আন্তর্জাতিক মহলের চাপের পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কয়েক মাস আগে একটি চুক্তিও করেছে মিয়ানমার সরকার। কিন্তু নানা অজুহাত দেখিয়ে এখন পর্যন্ত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করেনি নেইপিদো।