ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

মিনা ফারাহ

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৩:০৯

বিএনপি যদি জামায়াত ত্যাগ করত...

6936_jamat.jpg
২০০৭ সাল থেকেই যারা ক্ষমতা দখলে রেখেছে, তিন মাসের কথা বলে পাঁচ বছর ক্ষমতা দখলে রাখার দুঃসাহস যাদের, এরপরও কিভাবে ড. কামাল হোসেনদের মতো বুদ্ধিজীবীরা শর্ত জুড়ে দেন বিএনপিকে? ০১. জামায়াত ছাড়তে হবে, ০২. খালেদা এবং তারেক জিয়ার বিষয়ে আন্দোলন করতে হবে নিজস্ব প্ল্যাটফরম থেকে। কূটনীতিকরাও জানতে চান, ‘তারেক ও জামায়াত সম্পর্কে বিএনপির অবস্থান কী?’ মনে হচ্ছে, ৫ জানুয়ারি নয়, তারেক ও জামায়াতই বড় সমস্যা।

ডান-বাম, বিএনপি-জামায়াত, রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাট, কমিউনিস্ট কিংবা পশ্চিমা অ্যাক্টিভিস্টদের ভাষায় বলব, আমি সব দলের; শুধু সে দল নয় যা এখন পার্টির বদলে সন্ত্রাসীদের আস্তানা। কোনো রাজনৈতিক দলই তাদের মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ায় না। ‘৭৫-এর বাকশাল, জনতার মঞ্চ, এক-এগারোর অভ্যুত্থান ঘটানোর মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রমাণিত হয়েছে। সর্বশেষ দুই টার্মে প্রমাণ করা হলো, সংসদে এবং বাইরে এরাই সহিংসতায় কম নয়। পশ্চিমারাও একেই সন্ত্রাস বলে। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কারণ, সবাই মিলে ফায়দা লুটছে।

বলতেই পারেন, কারো পক্ষ নিয়েছি। তবে ‘জনকণ্ঠে’ ১২ বছর লেখার পর, গত আট বছর যেখানে লিখছি, তখন আওয়ামী লীগ না হলে, এখনো কোনো দলেই নই। ঐক্যবাদীরা যাদের মাইনাস করে জোট গঠন করতে যাচ্ছেন, বিএনপি যদি ২০১০ সালেই জামায়াত ত্যাগ করত, কী হতে পারত, সেটাই লেখার বিষয়।

জামায়াত ত্যাগ করলে, পালাক্রমে ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হতেন বেগম খালেদা জিয়া। সেই পথ মেরামত করতে, ১৩তম সংশোধনী বাদ দেয়া হতো না। সরকারপ্রধানের পদে থেকে নির্বাচন করার দুঃসাহস দেখাতেন না। জামায়াত ছাড়লে, ইউরোপ-আমেরিকার মতো না হলেও, ৫ জানুয়ারি কমপক্ষে ভারতের মতো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতো। পালাক্রমে বিরোধী দলে থাকতেন শেখ হাসিনা। শুধু জামায়াত ত্যাগ করলেই তুরুপের তাসখেলা থেকে বেরিয়ে আসতেন প্রণব। সুজাতা সিং তখন বাংলাদেশে এসে দুই দলের সাথে বসে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতেন।

হাসিনার মতো ড. কামালরাও মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করলে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী এনে চারদলীয় জোটকে নির্মূল করা হতো না। বরং পাকিস্তানের মতো তত্ত¡াবধায়ক আরো মজবুত হতো। তা ছাড়া, ২০১৪ সালের নির্বাচনকে ১৯৯৬-এর চেয়েও নিরপেক্ষ করতে দুই নেত্রী একে অপরকে আলিঙ্গন করতেন। সরকারপ্রধানের স্বেচ্ছাচারী চিন্তা ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলতেন। তেমনি হয়তো মনে করা হয়েছিল, স্কাইপ কেলেঙ্কারিতে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মোটিভ জানার পরও জামায়াত ত্যাগ করলে হয়তো মোল্লার ফাঁসি হতো, কিন্তু সাকার ফাঁসি বন্ধ হতো। স্কাইপ রাষ্ট্রের কারসাজি কিংবা সাক্ষী সুখরঞ্জন বালি গুম... ট্রাইব্যুনালে যা-ই ঘটুক, বিএনপির নেতাকে বাঁচিয়ে রাখত, যদি জামায়াত ত্যাগ করা হতো।

যদি তত্ত¡াবধায়ক বিধান বাতিলের পরও, ম্যাজিক্যাল লেডির একটি ফোনকলের জবাবে ম্যাডাম বলতেন, কেমন আছেন? আপনার সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় বসতে চাই..। শুধু তা হলেই ৫ জানুয়ারির সন্ত্রাস বন্ধ করত। গণভবনে এক ঝাঁক সাংবাদিক-ক্যামেরা-লাইট তৈরি রেখে ম্যাডামের কথোপকথন গোপনে টেপ করার বদলে, তত্ত¡াবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের ঘোষণা দিতেন। একটি ফোনকলকে জিম্মি করে, বছরের পর বছর ধানাইপানাই ত্যাগ করা হতো এবং টেলিফোনের পরই ম্যাডামের সঙ্গে বৈঠকের ঘোষণা দিতেন। তখন তৈলাক্ত সাংবাদিকরা তেলমারা বাদ দিয়ে নিউজ করার জন্য গণভবনে আসতেন। এক-এগারোর উত্তরাধিকার ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতেন। শুধু জামায়াত ত্যাগ করলেই ২০১০ সাল থেকে মুহুর্মুহু ২৬ মার্চের বদলে, ১৬ ডিসেম্বরের মতো সুখের সাগরে ভাসতাম। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১-এর মতো.. পার্লামেন্টারি ডেমোক্র্যাসির ঘোড়ার গাড়ি চলত। যদি জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করে তারেককেও মাইনাস করে দিতেন।

এক-এগারোর ধারাবাহিকতা ফাঁস হওয়ার পরও যদি জামায়াতের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেন, ২০০৯ সালেই হয়তো বীভৎস অ্যাটাক থেকে রক্ষা পেত পল্টন-ফিরোজা। ম্যাডামের বিরুদ্ধে জলকামান, বালুর ট্রাক, বাঁশ, টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট, সশস্ত্রবাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হতো না পল্টন-ফিরোজাকে। ম্যাডামকে গৃহবন্দী করতে কয়েক মাইল রাস্তা দখলে নিত না বাহিনীগুলো। হোটেল-মোটেল, বাসাবাড়িতে ঢুকে গণগ্রেফতার, হত্যা, গুম কোনো কিছুতেই জড়াত না সন্ত্রাসী তিন লীগ। চারদলীয় জোটের সাথে চাকরের মতো আচরণ করত না রাষ্ট্রের বাহিনীগুলো। নির্বাচন থেকে দূর করে দিতে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিত না ক্যাডাররা, যদি জামায়াতকে ত্যাগ করতেন ম্যাডাম।

যদি স্কাইপি কেলেঙ্কারির পরও জামায়াতকেই দুষতেন, যদি লন্ডন থেকে নিন্দা জানাতেন তারেক, হয়তো বন্দুকের নল ফেলে দিয়ে, ট্রাক ভর্তি করে গোলাপ পাঠাতেন হাইকমান্ড। ৫ জানুয়ারিতে ভারতীয়দের মতোই দলে দলে ভোট দিত। কোনো ভোটকেন্দ্র সন্ত্রাসীর দখলে যেত না। ৫ জানুয়ারি ভোট কেন্দ্রের ১০ মাইল রাস্তা দখলে রাখত না সন্ত্রাসীরা। শামীম ওসমানদের ঘোষিত পাঁচ শতাংশ ভোটের বৈধ সরকার? চতুষ্পদদের ভিডিও এখনো ইউটিউবে। ইস্! বিএনপি যদি জামায়াতÑতারেককে ছাড়ত! শুধু তাহলেই ৫ জানুয়ারির চেহারা হতোÑ মাইনু-ফখরুর বদলে ১৯৯১, ‘৯৬-এর মতো।

শুধু তা হলেই বিশ্বজিতের খুনিদের মতো বহু সন্ত্রাসী গোপনে বেরিয়ে যাওয়ার বদলে ফাঁসির দড়িতে ঝুলত। বিডিআর হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে ক্রাইমের যে ধারাবাহিকতা, যদি নন্দঘোষ জামায়াতকেই দুষতেন ম্যাডাম, হয়তো নিঃসঙ্গ কারাগারে প্রহর গুনতে হতো না। হয়তো ২৪ ঘণ্টাই জিয়া পরিবারের ওপর সন্ত্রাসের শব্দবোমা নিক্ষিপ্ত হতো না। যদি জামায়াত-তারেককে মাইনাস করতেন ম্যাডাম (তারেকের চেয়ে বড় সন্ত্রাসী নাকি দাউদ ইব্রাহিমও নয়)।

২০১০ সালেই জামায়াত ত্যাগ করলে জিয়া পরিবারও সুখের সাগরে সাঁতরাত। শুধু তা হলেই নির্বাসনে কোকোর মৃত্যু এবং তারেকের এ অবস্থা ঘটাত না কেউ। ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতেই দুই পুত্রসহ থাকতে পারতেন ম্যাডাম। ২০১৪ সালেও জামায়াত ত্যাগ করলে তিন মাস পরই নিয়ম রক্ষা শেষে ‘৯৬ সালের অনুসরণ করত হাইকমান্ড। সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা অবৈধ ঘোষণার পরই নেওয়াজ শরিফের দৃষ্টান্ত হতেন, যদি জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করতেন।

হাজার হাজার ফিন্যান্সিয়াল ক্রিমিনালের রাজত্ব দমন করছে রাজনীতি। সব জেনেও যদি উটপাখির মতো মুখগুঁজে থাকতেন ম্যাডাম, হয়তো সরকারে থেকে নির্বাচনের দুরভিসন্ধি থেকে বেরিয়ে আসত প্রতিপক্ষ। জামায়াত ত্যাগ করলেই হয়তো প্রাণচঞ্চল পল্টনে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ঝড় উঠত। ‘আমার ভোট আমি দেবো’ মিছিলে, গণতন্ত্রের নেত্রীর সুললিত কণ্ঠকে চিরদিনের জন্য স্তব্ধ করে দেয়া হতো না। সাদ্দাম, পাহলভি, গাদ্দাফির মতো পারিবারিক রাজতন্ত্র কায়েম হতো না। বরং ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে খালেদা বিজয়ী হওয়ার পরই বালুর ট্রাক আর বাঁশের বদলে বাহিনীকে পাঠানো হতো গোলাপ ফুল দিয়ে; ঠিক যেমনটি লিখেছিলেন কবি শহীদ কাদরী।

ম্যাডাম যদি জামায়াতকে সন্ত্রাসী দল ঘোষণা দিয়ে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ নিতেন, শুধু তখনই ৫ জানুয়ারি ঘটানো থেকে বিরত থাকত সরকার। শুধু তখনই প্রণব মুখার্জির মতো কুশীলবরা ম্যাডামের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক যুদ্ধে জড়াতেন না। এক-এগারোর কুশীলবদের রেখে যাওয়া বন্দুকের নল, কামান, মেশিনগান, একে-৪৭ ইত্যাদি ধ্বংস করে দিত; যদি জামায়াত ছাড়তেন, সঙ্গে তারেককেও।

হয়তো শুধু তখনই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশ চালানো বন্ধ হতো। আর যাই হোক, ক্যামেরা দিয়ে রাষ্ট্র চালানোর দৃষ্টান্ত পৃথিবীর কোথাও নেই। ড. কামালরা কি এখনো ভাবছেন, জামায়াত ত্যাগ করলে ভিডিও কনফারেন্সে দেশ চালানোর প্রয়োজন হতো না? দুর্গে বাস করার মতো দুর্বিষহ জীবনমুক্ত হয়ে খোলা বাতাসে হাঁটা যেত। আর্মির জিপের ওপর ভর করতে হতো না, যদি জামায়াত ছাড়তেন।

২০১৩ সালেও জামায়াতের সঙ্গ ছাড়লে পারিবারিক উপদেষ্টার অভ্যুত্থান ঘটত না। মাসে এক লাখ ৮০ হাজার ডলার বেতন নেয়া থেকে, ভিডিও কনফারেন্সে দেশ চালানোর পদ্ধতি আবিষ্কার করতে হতো না। গণভবনে সিক্রেট সেল বানিয়ে, ফেইক নিউজের বিস্ফোরণ ঘটাতে হতো না। শুধু তখনই ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রোগ্রাম দেয়ার বদলে ‘৯৬-এর পার্লামেন্টের মতো গণতন্ত্রের গান গাইতেন দুই নেত্রী। জনগণের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতে, স্যাটেলাইটসহ বহু প্রযুক্তির আজগুবি কাণ্ডে লিপ্ত হতো না কেউ। বিদেশীদের জন্য দায়মুক্তির রেজিমেন্টও চালু করত না। সুন্দরবন পুড়িয়ে জোরজবরদস্তি কয়লা-বিদ্যুৎ খাওয়াতে হতো না। জিং পিং, পুতিন, মোদির সঙ্গে মুহুর্মুহু বিলিয়ন ডলারের হ্যান্ডশেকের আড়ালে অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং ভিন্নমতের লাশের স্তূপের ওপর দাঁড়াতে হতো না। দুই রাজপুত্র একসঙ্গে টেনিস খেলতেন। শুধু তখনই স্বঘোষিত হিজড়া পার্টিকে খালেদার সিটে বসে, ‘আমিই সরকার-আমিই বিরোধী দল-আমিই রাষ্ট্্র-আমিই আইন’ বলতে হতো না, যদি জামায়াত ত্যাগ করত।

এমনকি, ২০১০ সালেই তিস্তা থেকে বাংলাদেশে লাফিয়ে পড়ত পানি। ফিন্যান্সিয়াল ক্রিমিনালদের সাথেও কোনোরকম ডিল মেকিং করত না ৫ জানুয়ারি। এমনকি চীনা মাফিয়াদের ক্যাসিনোতে পদ্মা সেতুর ভবিষ্যৎ এবং বাজেট ঘাটতিও ঝুলে যেত না অনন্তকাল। এলএনজি, মেট্রোরেল, কুইক রেন্টাল, অফশোর অ্যাকাউন্টের ভূস্বর্গ তৈরি করতে একনেকের ঘাড়ে চড়ে বসতেন না কেউ; ড. কামালদের মতে, যদি জামায়াত ত্যাগ করতেন ম্যাডাম।

ঐক্যবাদীরা মনে করেন, শুধু তখনই সুন্দরবন পোড়ানো বন্ধ হতো। ২০১৭ সালেই পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চলত। ব্যাংকগুলোতে লাগত না মড়ক। যুদ্ধের আওয়াজ নেই, বিদেশীদের আক্রমণও নেই, আফগান পরিস্থিতিও হয়নি। শুধু জামায়াত ত্যাগ করলেই এ হারে অস্ত্র কিনতে বাধ্য হতো না। মোদিও জনবহুল দেশটির ওপর অতিরিক্ত ১০ লাখ রোহিঙ্গা চাপাতে গোপনে কিছু করতেন না। শুধু তাহলেই তথ্য প্রযুক্তি তস্করদের হাত থেকে রক্ষা পেত কেন্দীয় ব্যাংকসহ সব অর্থপ্রতিষ্ঠান। গভীর সমুদ্রবন্দর, সমুদ্রসম্পদ, সমুদ্রের নিয়ন্ত্রণÑ সব কিছুই দুই বেগমের নিয়ন্ত্রণে থাকত। মহাসচিব ফখরুলকেও রাস্তায় বসে কাঁদতে হতো না। ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টে ম্যাডামের শরীরের ওপর সাদা চাদর ফেলতে হতো না।’ লটবহরসহ রাষ্ট্রপতিকেও বছরে দুইবার বিদেশে মাল্টিমিলিয়ন ডলারের চিকিৎসার নামে অন্যরকমের ইনভেস্টমেন্টে ঢুকতে হতো না।

ওয়ানবেল্টওয়ের সেবাদাত্রী হতে গিয়ে রোহিঙ্গাদের এ দেশে স্থায়ী করতে হতো না। শুধু জামায়াত ত্যাগ করলেই মেগা বাজেট ঘাটতি এবং ব্যাংক ডাকাতি বন্ধ থাকত। চীনাদের সমর্থন বজায় রাখতে গণভবনে ব্যাংক মালিকদের ডেকে পদ্মা সেতুর টাকার জন্য চাপ দেয়া হতো না (এপ্রিলের সব পত্রিকায়)। পাঁচ হাজার টাকার ব্যবসা পাঁচ হাজার কোটি দেখিয়ে, ঋণ খেলাপিদের সঙ্গে বেয়াইয়ের আচরণ করা হতো না। ‘এক্স-মন্ত্রীর ভাই এবং গ্র“পের সিইও আজিজ খান।’ উইকিলিকসে ফাঁস, ১২টি অফশোর অ্যাকাউন্টের মালিক এই পরিবার। সম্পদের পরিমাণ তিন বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে ব্যবসা করে সিঙ্গাপুরে ব্যবসা নিবন্ধন করেছেন। জামায়াত ত্যাগ করলে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় খালেদা নয়, বরং কাশিমপুরে ঢোকানো হতো সিঙ্গাপুরের ৩৪তম ধনী পরিবারকে। এত টাকা তিনি কোথায় পেলেন, কোথায় পাঠালেন?

শুধু তা হলেই গালিগালাজের পরও দোষ-গুণের বিচারে না বসে, একজন মা হিসেবে ম্যাডামকে বুকে জড়িয়ে ধরে ক্ষতে মিল্লাত-বাম লাগাতেন। লেডির হাতের কড়ি কার্ডটি ফাঁস করে একি করলেন তৈলাক্ত সাংবাদিক? জামায়াত ত্যাগ করলে কড়ি কার্ডের গল্প শুনতাম না। কবরে থাকা কঙ্কালকেও টানাটানি করতেন না তৈলাক্তরা। মুক্তিযুদ্ধের পদকের ইজ্জত থাকত। ড. ইউনূস থেকে সিনহাÑ শব্দবোমা থেকে রক্ষা পেত জাতি। মাহমুদুর রহমান থেকে শহিদুল আলম- লেডির ম্যাজিক্যাল কড়ি কার্ড কি তাহলে এ কারণেই? জামায়াত ত্যাগ করলেই কি কবর থেকে বই লেখার কালচার বন্ধ হয়ে যাবে?

২.
ম্যাডাম যদি ২০১৩ সালেই ‘ইয়েস’ বলতেন, ৫ জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হতেন। কারণ এক-এগারোর ধারবাহিকতাকে আওয়ামী লীগ বাদে সবাই প্রত্যাখ্যান করেছিল। আওয়ামী লীগ বাদে এক-এগারোর সামারিক সরকারকে বৈধতা দেয়ার ঘোষণা দেয়নি অন্য কেউ। এদের ধারাবাহিকতায়ই তিন মাসের কথা বলে পাঁচ বছর ক্ষমতা দখলে রাখা। ট্রাইব্যুনাল ও ১৫তম সংশোধনীর কেমিস্ট্রিও ‘১/১১।’ ক্ষমতায় গিয়েই নিজের ১৫টি মামলা খারিজ। এর পর থেকে একটার পর একটা দেশবিরোধী কার্যক্রম চলছেই। চারদলীয় জোটকে রাজনীতি থেকে চিরতরে নির্মূল করার যে প্রক্রিয়া, মানবতাবিরোধী অপরাধের সন্দেহাতীত প্রমাণ। কারাগার কেন ভিডিও কনফারেন্সে দেশ শাসন এবং খালেদাকে ভুয়া মামলায় হত্যার ষড়যন্ত্র? জবরদস্ত মন্ত্রী বলেছেন, ক্ষমতায় না গেলে নাকি লাখ লাখ লোক মারা যাবে।

ড. কামালদেরকে অনুরোধ, ‘বাকশাল এবং ১২ বছর ধরে যা দেখছেন, কমনসেন্স থেকে বলছি, তারেক ও জামায়াতকে মাইনাসে সমাধান নেই।’ বরং সন্ত্রাসীদের বাদ দিয়ে, অন্য সব দলের সাথে ঐক্যজোট করলে অভিশাপমুক্ত হওয়ার ক্ষীণ হলেও সম্ভাবনা আছে। কারণ ওরাই এক-এগারোকে বৈধতা দিয়ে ৫ জানুয়ারি তৈরি করেছে। ১৬তম সংশোধনীর রায় অবমাননা করে জোরজবরদস্তি ক্ষমতায়। অন্যথায়, বৈধভাবে অবৈধদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়ার জন্য দায়ী থাকবেন আপনারাই।

ই-মেইল : farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com