ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

স্টাফ রিপোর্টার

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:০৯

৩ লাখ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৪ হাজার ‘কাল্পনিক’ মামলার তদন্তে কমিশন চেয়ে রিট

7043_351264_115.jpg
সারাদেশে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী, আইনজীবীসহ ৩ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রায় ৪ হাজার মামলার তদন্ত করতে উচ্চ পর্যায়ের কমিশন চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। ‘গায়েবী ও কাল্পনিক’ এইসব মামলা দায়েরের সঙ্গে জড়িতদের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

আজ রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রাক্তন সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, প্রাক্তন মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া এ রিট দায়ের করেন।

আগামীকাল বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।

সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন, মওদুদ আহমদসহ সিনিয়র আইনজীবীরা এই রিটের ওপর শুনানি করবেন বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

এ বিষয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আইনজীবীরা যাতে খালেদা জিয়ার মামলা না করতে পারে এবং আগামী নির্বাচনের সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা যাতে ঘরে না থাকতে পারে সে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য এসব মামলা করা হয়।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্যান্য দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত যত গায়েবি মামলা দেয়া হয়েছে সেগুলোর তদন্ত বন্ধ এবং এ গায়েবি মামলাগুলোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করে ঘটনার তদন্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে যেন এ ধরণের মামলা দেয়া না হয়, তার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অগুণিত নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশি ক্ষমতা অপব্যবহার করে গায়েবি বা আজগুবি মামলাকে দায়ের করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, রিটে সে বিষয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, পুলিশের আইজি, ডিএমপি কমিশনার, ডিএমপি রমনা জোনের ডেপুটি ও অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার, রমনা, পল্টন ও শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ মোট নয়জনকে এই রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট দায়েরের পর খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে ঢালাওভাবে এ ধরণের কাল্পনিক মামলা করার উদ্দেশ্যে হচ্ছে বিরোধী দলকে চাপে রেখে বিরোধী নেতাকর্মীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করা।

তিনি বলেন, এ ধরণের মামলা সঠিক হয়েছে কিনা তা তদন্ত করতে একটি উচ্চ পর‌্যায়ের কমিশন গঠন করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরণের কাল্পনিক মামলা করে যেন হয়রানি না করা হয় তার নির্দেশনা জারির আবেদন করা হয়েছে। যারা এ ধরণের মামলা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়েও আবেদন করা হয়েছে।

রিট আবেদনে, সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন পত্রিয়কায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে আবেদনকারী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অগণিত মানুষের বিরুদ্ধে ‘কাল্পনিক’ মামলা করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এই ধরণের ‘কাল্পনিক’ মামলাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এ মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

এ রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় আবেদনকারীসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে এ ধরণের মামলা দায়ের থেকে বিরত থাকতে এবং এ ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি (যার মধ্যে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের প্রতিনিধি রাখা) গঠনের নির্দেশনা জারির আবেদন করা হয়েছে।

এছাড়াও রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে করা এসব মামলার তদন্ত থেকে বিরত থাকে নির্দেশনা জারির আর্জি জানানো হয়েছে আবেদনে।