ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:০৯

জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের চক্রান্তঃ আওয়ামী লীগের প্রক্সি দিচ্ছেন বি চৌধুরী ও মাহি চৌধুরী -মোবায়েদুর রহমান

7155_bchow.JPG

বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ভবিষ্যত নিয়ে অত্যন্ত ডিস্টার্বিং রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে। গত সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) ঐক্য প্রক্রিয়ার একটি বিশেষ বৈঠক নাকি ড. কামালের বেইলি রোডের বাসায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ড. বি চৌধুরী নাকি সেখানে যেতে অস্বীকার করেন। ফলে সেই মিটিংটি বি চৌধুরীর বাসায় অনুষ্ঠিত হয়। এই মিটিংয়ে আবার ড. কামাল হোসেন যাননি। বি চৌধুরীর বাসায় যে মিটিং হয় সেখানে বিকল্প ধারার মাহি চৌধুরী ছাড়াও আসম রব ও মান্না এবং বিএনপির অবজার্ভার হিসাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। এই বিশেষ সভাটি কেন ডাকা হয়েছিল সেটি পরিস্কার নয়। কিন্তু সভা শুরুর কিছুক্ষণ পর বিকল্প ধারার তরফ থেকে সভায় উপস্থিত সকলের হাতে একটি প্রস্তাব ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঐ প্রস্তাবে বিকল্প ধারা দ্ব্যর্থহীন ভাবে জানিয়ে দেয় যে জামায়াত সহ স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গ না ছাড়লে বিএনপিকে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে স্থান দেওয়া হবে না।

ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর (বি. চৌধুরী) নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারার নেতারা শর্ত দিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামীকে না ছাড়লে জাতীয় ঐক্যে স্থান হবে না বিএনপির। স্বাধীনতাবিরোধী দল ও ব্যক্তিদের সঙ্গ ত্যাগের ঘোষণা দিয়ে বিএনপিকে জাতীয় ঐক্যে আসতে হবে।

মঙ্গলবার 'জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার' নেতাদের কাছে চিঠিতে এ আহ্বান জানানো হয়। শর্ত পূরণের আগে জাতীয় ঐক্যের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট নেতাদের বিএনপির কোনো অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিকল্পধারার নেতারা।
বৈঠকে বিকল্পধারার প্রস্তাবে বলা হয়, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে হলে বিএনপিকে স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি ও দল ছাড়তে হবে।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা জেএসডি, নাগরিক ঐক্য ও গণফোরাম বিএনপি-জামায়াতের জোট নিয়ে নমনীয় অবস্থানে থাকলেও বিকল্পধারা কঠোর ভূমিকায় রয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে জোট থাকলেও বিএনপিকে জাতীয় ঐক্যে অন্তর্ভুক্ত করতে আপত্তি নেই জেএসডি, নাগরিক ঐক্য ও গণফোরামের। তবে বিকল্পধারা শর্ত দিয়েছে, জামায়াত ছাড়লে তবেই বিএনপির সঙ্গে ঐক্য হবে। অন্যকথায় বিকল্প ধারা এবার তাদের সীমা ছাড়িয়ে ২০ দলীয় জোট থেকেও জামায়াতকে বের করে দেওয়ার দাবি করেছে।

শর্ত পূরণের আগে জাতীয় ঐক্যের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট নেতাদের বিএনপির কোনো অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিকল্পধারার নেতারা।

বি চৌধুরীর পুত্র মাহি বি চৌধুরী ঐক্য প্রক্রিয়ায় ভাঙন সৃষ্টির জন্য আওয়ামী লীগের এজেন্ট হিসাবে কাজ করছেন বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে। এব্যাপারে দৈনিক ‘জনকন্ঠের’ ইলেক্ট্রনিক সংস্করণ হিসাবে পরিচিত ৭১ টেলিভিশনকে তাদের ঝঁনাবৎংরাব কাজের বাহন হিসাবে ব্যবহার করছেন মাহি চৌধুরী। আর ৭১ টেলিভিশনের সঞ্চালক মিথিলা ফারজানাও জাতীয় ঐক্য বিশেষ করে বিএনপিকে ঘায়েল করার জন্য তার টকশোতে গত ১০ দিনে অন্তত তিনবার ব্যবহার করেছেন মাহি চৌধুরীকে।

বিকল্প ধারা এখন শুধু মাত্র জামায়াতকে বাইরে রাখার দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তারা দাবি করেছে, বেগম জিয়ার মুক্তির দাবি বৃহত্তর ঐক্যের মঞ্চ থেকে উত্থাপন করা যাবে না। মাহি চৌধুরী ৭১ টেলিভিশনে দ্ব্যার্থহীন ভাষায় বলেছেন যে বেগম খালেদা জিয়া কোনো রাজবন্দী নন। তিনি ফৌজদারী মামলায় দন্ডিত আসামী। বিকল্প ধারার আরো দাবি, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দাবি জাতীয় ঐক্যের মঞ্চ থেকে উত্থাপন করা যাবে না। 
বিকল্প ধারার এই ধ্বংসাত্মক দাবিকে গতকাল ফলাও করে প্রচার করেছে অন্তত ৪টি দৈনিক পত্রিকা। এগুলো হলো ইত্তেফাক, ডেইলি স্টার, সমকাল এবং নিউ এজ। ইত্তেফাক প্রথম পৃষ্ঠার প্রধান সংবাদ হিসাবে বড় বড় টাইপে শিরোনাম দিয়েছে, “বৃহত্তর ঐক্যের বড় হোঁচট”। খবরের ইন্ট্রোতে বলা হয়েছে, “ঐক্যে যুক্ত হতে হলে জামায়াতকে ছেড়ে আসতে বিএনপিকে লিখিত শর্ত বিকল্পধারার। ড. কামালের বাসায় বৈঠক হবার কথা থাকলেও মতপার্থক্যের কারণে হয়েছে বি চৌধুরীর বাসায়। অসুস্থতার কথা জানিয়ে বৈঠকে যাননি ড. কামাল, বিএনপি নেতাদের মধ্যে গেছেন শুধু টুকু। বিএনপির শনিবারের সমাবেশের পর লিয়াজোঁ কমিটি গঠন”।

ইংরেজি দৈনিক নিউ এজে প্রথম পৃষ্ঠায় প্রধান সংবাদ হিসাবে শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, ''Greater national unity/move falters''. নিউ এজের খবরেও বলা হয়েছে যে, বি চৌধুরী এবং কামাল হোসেনের মধ্যকার বিরোধ ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসার ফল হিসাবে গতকাল কামাল হোসেন বি চৌধুরীর বাসায় অনুষ্ঠিত মিটিংয়ে যোগদান থেকে বিরত থাকেন। অন্যদিকে বিবিসিকে দেওয়া কামাল হোসেনের একটি ইন্টারভিউকে কেন্দ্র করে যুক্তফ্রন্টের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। ঐ ইন্টারভিউতে কামাল হোসেন বলেন যে, বর্তমান সংবিধানের মধ্য থেকেও অর্থাৎ শেখ হাসিনার সরকারের অধীনেও নির্বাচন করা যেতে পারে। অবশ্য পরে কামাল হোসেন বলেন যে তার বক্তব্য বিবিসি সঠিক ভাবে পরিবেশন করেনি। কিন্তু কামাল হোসেনের সেটি ছিল অডিও ইন্টারভিউ যেটি বিবিসি রেডিওতে সম্প্রচারিত হয়েছে। সুতরাং সেখানে বক্তব্য ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার কোনো সুযোগই নাই।

গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতে যখন বি চৌধুরীর বারি ধারার বাসভবনে সভা চলছিল তখন মাহি চৌধুরী হঠাৎ বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তিনি তার পিতাকেও বাইরে নিয়ে যান। এরপর বি চৌধুরী ফিরে এসে বলেন যে যাদের কাছে মোবাইল ফোন আছে তাদের সকলকে তাদের মোবাইল ফোন পাশের ঘরে রেখে আসতে হবে। সেখানে একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে সভায় যারা অংশ নিচ্ছিলেন তাদের কারো একজনের মোবাইল ফোনটি লন্ডনের সাথে সংযুক্ত আছে। লন্ডনে কে যুক্ত আছেন তার নাম বলা না হলেও সকলেই পরিস্কার বুঝতে পারেন যে সেখানে তারেক রহমানকেই বুঝানো হয়েছে।

ডেইলি স্টারের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত ডাবল কলাম খবরে বলা হয় যে, গত রাত্রে অনুষ্ঠিত মিটিংয়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়নি। কারণ বিএনপি বলেছে যে ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য বিএনপির জনসভার পর তারা এসম্পর্কে আলোচনায় বসবেন।

অত্যন্ত বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে যে, বিকল্প ধারা বিশেষ করে বি চৌধুরী এবং মাহি চৌধুরীর এসব কার্যকলাপে বিএনপির হাই কমান্ড এবং নির্বাহী কমিটিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক সিনিয়র সদস্য মনে করেন যে বিকল্প ধারার এসব শর্ত বিএনপির জন্য অপমানজনক। সারাদেশে খুঁজলে যাদের ১০০ জন সদস্য পাওয়া যাবে না তারা দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপিকে ডিকটেট করতে শুরু করেছে। এখন বিএনপি বিকল্প ধারার এই স্পর্দ্ধা কত দিন সহ্য করে সেটিই দেখার বিষয়।

পরিস্থিতিকে অধরা রেখে আজ রাতে ১০ দিনের জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন ড. কামাল হোসেন। তিনি ফিরবেন ৬ অথবা ৭ অক্টোবর।

ফেসবুক লিংক