ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

স্টাফ রিপোর্টার

১ অক্টোবর ২০১৮, ১২:১০

ইটিএলের সমালোচনায় বিশ্লেষকরা

7302_evence-textile.jpg
লভ্যাংশ দেয়ার সক্ষমতা থাকার পরও ইভিন্স টেক্সটাইল লিমিটেডের (ইটিএল) পরিচালনা পর্ষদ সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে (১ জুলাই’২০১৭ - ৩০ জুন’২০১৮) শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ এই সিদ্ধান্ত নেন। এর পর পরই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপে ইটিএলের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করতে থাকেন।

সে সময় কোম্পানিটির চেয়ারম্যান আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ মোবাইল ফোনে বলেন, ভবিষ্যতের জন্য যা ভালো আমরা সেই সিদ্ধান্তই নিয়েছি। এদিকে ইটিএল চেয়ারম্যান এমন কথা বললেও এখন কোম্পানিটির কঠোর সমালোচনা করেছেন শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা।

বেসরকারি একটি টেলিভিশনে শেয়ারবাজার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এ সমালোচনা করেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রকিবুর রহমান, ডিএসই ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক এবং শেয়ারবাজার বিশ্লেষক ড. শাহজাহান মিনা।

বিশ্লেষকরা বলেন, ইভিন্স টেক্সটাইলের পরিচালনা পর্ষদ লভ্যাংশ নিয়ে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তাই কোম্পানিটির পর্ষদকে শাস্তির আওতায় এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা দরকার।

ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ক্যাপিটাল গেইন ও পে-আউটের জন্য বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে। কিন্তু একটি কোম্পানির মুনাফা সত্ত্বেও লভ্যাংশ না দেয়া হঠকারী সিদ্ধান্ত। বিনিয়োগকারীরা চায় কোম্পানির গ্রোথ ও পে-আউট।

তিনি বলেন, ব্যবসা সম্প্রসারণের নামে ইভিন্স টেক্সটাইলের পর্ষদের লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্তটি খুবই ইন্টারেস্টিং। এটা কোনো যুক্তি হতে পারে না। তারা যা চাইবে তাই হবে? এখানে কি কোনো জবাবদিহিতা নেই?

'তাদের এমন সিদ্ধান্তে শেয়ারটির দর পড়ে গেছে। এতে হাজার হাজার বিনিয়োগকারী ক্ষতির কবলে পড়েছে। কিন্তু উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি। তারা কম দামে আরও শেয়ার কিনে নেবে। দেখা যাবে পরবর্তী বছরে বা অন্তবর্তীকালীন লভ্যাংশ দিয়ে শেয়ারটি বেশি দামে বিক্রয় করবে' বলেন রকিবুর রহমান।

তিনি বলেন, এই যদি প্রবণতা হয়, তাহলে আর যাই হোক সুস্থ ক্যাপিটাল মার্কেট হতে পারে না। এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য। অনেক কোম্পানির নগদ লভ্যাংশ দেয়ার সক্ষমতা থাকলেও বোনাস দেয়। তারা এক্ষেত্রে ব্যবসায় সম্প্রসারণসহ নানা ধরনের যুক্তি দেখায়। এ নিয়ে তাদের বিশাল পরিকল্পনার কথা বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে কিছুই না। এটি হল প্রতারণা।

এ সময় তিনি কোনো প্রতিষ্ঠান নগদ লভ্যাংশ না দিলে, সেটিকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে না রাখার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রতি অনুরোধ জানান।

মোস্তাক আহমেদ সাদেক বলেন, ইভিন্স টেক্সটাইলের পর্ষদকে ‘নো ডিভিডেন্ড’ এর জন্য শাস্তি দেয়া দরকার। একই সঙ্গে তারা কেন এ ধরনের খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার ব্যাখ্যা প্রয়োজন। তাদের যা মন চেয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা। তাদের এমন সিদ্ধান্তে শেয়ারটির দর প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, লভ্যাংশ নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা উচিত। যাতে পরিচালকেরা লভ্যাংশ নিয়ে খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত নিতে না পারে।

ড. শাহজাহান মিনা বলেন, ইভিন্স টেক্সটাইলের পর্ষদ একবছর ৩০ শতাংশ, পরের বছর ১০ শতাংশ এবং এর পরের বছর ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণা করেছে। এর অর্থ কোম্পানিটি ফেয়ার না। এর ম্যানেজম্যান্টও ফেয়ার না। যাতে বিনিয়োগকারীরা প্রতারিত হয়েছে।

তিনি বলেন, লভ্যাংশ না দিয়ে পরিচালকদের কারসাজি শেয়ারবাজারে বিদ্যমান। তারা লভ্যাংশ না দিয়ে শেয়ার দর ফেলে দেয়। পরে নিজেরা শেয়ার সংগ্রহ করে এবং পরবর্তী বছরে লভ্যাংশ দিয়ে শেয়ার দর বাড়িয়ে বিক্রি করে দেয়। এক্ষেত্রে বিএসইসির দায়বদ্ধতা আছে। তাদের কাজ হলো বাজারকে সুস্থ রাখা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা।