ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

২৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১১:০১

ইতালিতে হিজাব পরা আইনজীবীকে আদালত থেকে বহিষ্কার

743_8.jpg
আইনজীবী আসমে বেলফাকির
হিজাব খুলতে অস্বীকৃতির জন্য ইতালির একটি আঞ্চলিক আদালতের কক্ষ থেকে মুসলিম এক আইনজীবীকে বের করে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নিজের হতাশা ব্যক্ত করেছেন মরক্কোর বংশোদ্ভূত শিক্ষানবিস আইনজীবী আসমে বেলফাকির।
বোলোগ্নার একটি আঞ্চলিক প্রশাসনিক আদালতে শুনানি চলাকালে বিচারক জিয়ানকার্লো মোজজারেলি মুসলিম আইনজীবী আসমে বেলফাকিরকে তার মাথার হিজাব খুলতে বলেন। অন্যথায় তাকে আদালতের কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
সোমবার এক সাক্ষাৎকারে আসমে বেলফাকির বলেন, ‘ওই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য সব আইনজীবীর সঙ্গে আমিও আদালতের কক্ষে প্রবেশ করি। হঠাৎ বিচারক বলতে শুরু করলেন : ‘আপনি কি খুলতে পারেন?’ তিনি হিজাবের কথা উল্লেখ করেননি এবং আমার দিকে তাকানওনি। আমি ভেবেছিলাম তিনি কাউকে তার বা তাদের কোট খোলার জন্য বলছেন। আমি কল্পনাও করতে পারছিলাম না যে তিনি আমাকে বলছিলেন। তারপর আমি তার দিকে তাকালাম এবং বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারলাম। আমি অবাক হয়ে গেলাম এবং তার কাছে জিজ্ঞেস করলাম, আমার হিজাবের কথা বলছেন?’
তিনি বলেন, ‘আমার কথা শেষ হওয়ার পরক্ষণই তিনি বললেন : ‘হ্যাঁ, আপনি যদি এই আদালতে থাকতে চান, তবে আপনাকে বাধ্যতামূলকভাবে এটি অপসারণ করতে হবে।’ আসমে বেলফাকির বলেন, ‘আমি জবাবে তাকে বলেছিলাম, ‘আমি এটা খুলতে যাচ্ছি না। আমি বাইরে যাচ্ছি।’
তিনি জানান, বের হওয়ার জন্য যেই মাত্র তিনি দরজা খুলেছিলেন, সেই মুহূর্তে বিচারক উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্যই এটি করা হয়েছে।’
গণভোট হলে ফরাসিরাও ইইউ ত্যাগ করত : ম্যাক্রোঁ

স্কাই নিউজ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, তার দেশে গণভোট হলে ফরাসি নাগরিকেরা সম্ভবত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়ার পক্ষে ভোট দিত।
বিশ্বায়ন ও অবাধ মুক্ত বাজার প্রক্রিয়ায় ব্রিটিশ নাগরিকদের আস্থা না থাকাকে ইইউ ছাড়ার পক্ষে যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী করেন ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, ব্রিটেনের ২০১৬ সালের গণভোটের মতো যখন জনগণকে জটিল প্রসঙ্গে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিতে বলা হয়, তখন সবসময় ঝুঁকি থাকে। বিবিসির অ্যান্ড্রু ম্যার শো প্রশ্ন করেছিলেন, ইইউ ছাড়া না ছাড়া সম্পর্কে ফ্রান্সে গণভোট হলে ব্রিটেনের মতো একই ফল হতো কি না। জবাবে ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘হ্যাঁ, সম্ভবত। একই প্রেক্ষাপটে সম্ভবত একই ফল হতে পারত। তবে আমাদের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই এই বিষয়ে আমি কোনো বাজি ধরতে চাই না।’
ইউরোপীয় ঐক্যের জোরদার সমর্থক ম্যাক্রোঁ আরো বলেন, এই জোটের সদস্য থাকা না থাকার ওপর তার দেশে গণভোট হলে ফ্রান্সকে ইইউতে ধরে রাখতে তাকে কঠিন লড়াই করতে হতো। তিনি বলেন, জনগণকে পরিস্থিতি উন্নয়নের পন্থা বলতে না দিয়ে বা উন্নয়নের উপায় ব্যাখ্যা করতে না দিয়ে নিছক হ্যাঁ বা না ভোট দিতে বলার প্রক্রিয়া ভুল। ইইউ ছেড়ে যাওয়ার পক্ষে ব্রিটেনের ভোটের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমার উপলব্ধি হলো, মধ্যবিত্ত ও শ্রমিক শ্রেণী বিশেষ করে বয়স্করা মনে করছেন, সাম্প্রতিক দশকটা তাদের পক্ষে নয়।’ তিনি বলেন, ‘একই সাথে তারা ভেবেছেন, ইইউ ও বিশ্বায়নের ফলে যে মিশ্রণ তৈরি হয়েছে তা তাদের জন্য অনুকূল নয়।’