ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

স্টাফ রিপোর্টার

৯ অক্টোবর ২০১৮, ১১:১০

সার কারখানা সংস্কার

কঠিন শর্তের ঋণে ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

7537_sar.jpg
দেশের সার কারখানা আধুনিকায়ন করতে চায় সরকার। এর মাধ্যমে সারের আমদানি নির্ভরশীলতা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও গ্যাস সংকট রয়েই গেছে। এর মধ্যেই জাপানের কিছু বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে কঠিন শর্তের ঋণ নিয়ে ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। এই অর্থ দিয়ে ঘোড়াশাল ও পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা আধুনিকায়ন ও সংস্কার করা হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। একনেকে অনুমোদনের পর প্রকল্পটি অক্টোবর ২০১৮ থেকে জুন ২০২২ সালে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দেখা যায়, গ্যাস সরবরাহ না থাকায় সরকারি সার কারখানাগুলো বছরের সাত থেকে আট মাস বন্ধ রাখতে হয়। ফলে দেশে পর্যাপ্ত সার উৎপাদন না হওয়ায় কৃষকের চাহিদা পূরণে আমদানি করতে হয়। এতে বছরে সরকারের গড়ে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়। তাই আমদানিনির্ভরতা কমাতে এবার ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বছরে ৯ লাখ ২৪ হাজার টন ইউরিয়া সার ও পাঁচ লাখ টনের বেশি অ্যামোনিয়া উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৪৮০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এ জন্য জাপানের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৮ হাজার ৯৮৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা ঋণ নেয়া হবে।

এছাড়া জাপান কমার্শিয়াল ব্যাংক, নিপ্পন এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন্স্যুরেন্স এবং ব্যাংক অব টোকিও-মিৎসুবিসি এ ঋণ দেবে। অবশিষ্ট এক হাজার ৪৯৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। জাপান সরকার বাংলাদেশের উন্নয়নে নামমাত্র সুদে অর্থায়ন করলেও সার কারখানা উন্নয়নে ঋণ নিতে হবে কঠিন শর্তে। কমিটমেন্ট ফি, সার্ভিস চার্জ মিলিয়ে এ ঋণের জন্য বছরে সাড়ে ৪ শতাংশ হারে সুদ গুনতে হবে। ঋণ পরিশোধের জন্য ১৫ বছর সময় পাবে সরকার। এর মধ্যে রেয়াতকাল ধরা হয়েছে ৫ বছর।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, নরসিংদীর ঘোড়াশাল ও পলাশ সার কারখানা পুরনো হয়ে গেছে। ১৯৭০ সালে ঘোড়াশালে স্থাপিত ইউরিয়া সার কারখানার সক্ষমতা ছিল প্রায় পাঁচ লাখ টন। বর্তমানে এ কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা অর্ধেকে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ১৯৮৫ সালে স্থাপিত পলাশ ইউরিয়া কারখানার উৎপাদন এখন ৮০ হাজার টনের নিচে। এ জন্য এ দুই কারখানা আধুনিকায়নের জন্য ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস প্রকল্পটির মতামত দিতে গিয়ে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি (জিইউএফএফএল) এবং পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরিতে আধুনিক, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ইউরিয়া কারখানা স্থাপন করা হবে। দৈনিক দুই হাজার ৮০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি হবে। গুরুত্ব বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।