ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

স্টাফ রিপোর্টার

১৩ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:১০

ইলিশ শিকার বন্ধ, তাই অন্য মাছের দাম চড়া

7678_elish.jpg
ইলিশের এখন প্রজনন মওসুম। এ জন্য ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর ইলিশ ধরা ও বিক্রি করা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ কারণে বাজারে অন্য মাছের দাম বেশ চড়া। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাছের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া চলমান ঘূর্ণিঝড় ও নিন্মচাপের কারণে বাজারে গতকাল সবজি ও অন্যান্য কাঁচামালের সরবরাহও ছিল অন্য দিনের চেয়ে কম। স্বাভাবিক কারণে দামও ছিল কিছুটা বেশি।

গতকাল রাজধানী ঢাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, পুলিশি কড়াকড়ির কারণে বাজারে ইলিশ নামেনি বললেই চলে। যেসব ব্যবসায়ীর সংগ্রহে ইলিশ রয়েছে তারাও লুকিয়ে রেখেছেন। বিশেষ পরিচিত ও নিরাপদ গ্রাহক ছাড়া অন্য কারো কাছে বিক্রি করছেন না। ক্রেতাদের মাঝেও লক্ষ করা যায় সচেতনতা। প্রজননের এই মওসুমে ইলিশ খাওয়া থেকে বিরত থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন অনেকে। তবে ইলিশের অনুপস্থিতির কারণে অন্য মাছের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাউকে কাউকে ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা যায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, নিন্মচাপের প্রভাবে দুই দিন থেকে সারা দেশে বৃষ্টি থাকায় বাজারে মাছের সরবরাহ কম। মাছের দাম কিছুটা বেশি থাকার এটাও একটা কারণ। বাজারে গতকাল মাঝারি আকারের প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হয় ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়। একই আকারের রুই মাছের দাম গত সপ্তাহে ছিল ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা। বড় আকারের প্রতি কেজি রুই গতকাল ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হলেও আগের সপ্তাহে দাম ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা কম। প্রতি কেজি পাবদা মাছ ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়। এক সপ্তাহ আগে এই মাছের দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় নেমে এসেছিল। এ ছাড়া প্রতি কেজি টেংরা বাজারভেদে ৪৫০ থেকে ৫৫০, সরপুঁটি ২০০ থেকে ২১০, তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ১৬০, পাঙ্গাস ১৩০ থেকে ১৫০, চাষের শিং ও মাগুর মাছ ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

ইলিশের ব্রিডিং গ্রাউন্ড নিরাপদ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ৩৭টি জেলার সব ক’টি নদীতে ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন মা ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার। এ সময় মা ইলিশসহ সব ধরনের ইলিশ শিকার বন্ধের ব্যাপারে গণসচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় মৎস্যজীবী, মৎস্যচাষি, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে ঘনঘন সমন্বয় সভা করার পাশাপাশি অভিযান চালাছে নৌপুলিশ। কেউ মাছ ধরার চেষ্টা করলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সর্বাত্মক অভিযান চালানো হচ্ছে নদনদী, ঘাট, মৎস্য আড়ত ও হাটবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে।

খুচরা বাজারে গতকাল প্রতি কেজি শসা ৬০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয় ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৩০, বেগুন ৬৫ থেকে ৭০, লাউ ৩০ থেকে ৫০, মিষ্টিকুমড়ার ফালি ২০ থেকে ৪০, কাঁচা পেঁপে ২০ থেকে ২৫, আলু ২৫ থেকে ২৮, ঢেঁড়স ৫৫ থেকে ৬০, পটোল ৫৫, গাজর ১০০ থেকে ১২০, বরবটি ৬০ থেকে ৬৫, বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৫৫, করল্লা ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়।

এ ছাড়া বাজারে প্রতি কেজি লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০, গরুর গোশত ৫২০ থেকে ৫৫০, খাসি ৭০০ থেকে ৮০০, কক মুরগির হালি ৬০০ থেকে ৯০০, দেশী মুরগির হালি এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৮, চিনি ৫০ থেকে ৫৫, পেঁয়াজ ২৮ থেকে ৩৫, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। প্রতি কেজি পাইজাম চাল ৫৪ থেকে ৫৬, মিনিকেট চাল ৪৮ থেকে ৫০, মোটা চাল ৪৪ থেকে ৪৫, পোলাও চাল (চিনিগুঁড়ো) ৯০ থেকে ১০৫, কাটারিভোগ চাল ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।