ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

মিজানুর রহমান

১৮ অক্টোবর ২০১৮, ১৪:১০

আইয়ুব বাচ্চুর যতো অ্যালবাম

7881_bbb.jpg
ব্যান্ড সংগীতের জগতে কিংবদন্তি নাম আইয়ুব বাচ্চু। গিটার হাতে মাতিয়েছেন পাড়া-মহল্লা, কাঁপিয়েছেন মঞ্চ। অগণিত স্রোতার ভিড়ে তার দরাজ কণ্ঠ মাতাল আবেশ ছড়িয়ে দিয়েছে সবসময়। ১৯৯১ থেকে যাত্রা শুরু করা এই মানুষটির জীবন গাড়ি থেমে গেল হঠাৎ। তাকে নিয়েই আজকের এ আয়োজন-

আইয়ুব বাচ্চু ১৯৯১ সালে এলআরবি ব্যান্ড গঠন করেন। এই ব্যান্ডের সাথে তার প্রথম ব্যান্ড অ্যালবাম ‘এলআরবি’ প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। এটি বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত অ্যালবাম। ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যান্ড অ্যালবাম ‘সুখ’ ও ‘তবুও’ বের হয়। ১৯৯৫ সালে তিনি বের করেন তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’। একই বছর তার চতুর্থ ব্যান্ড অ্যালবাম ‘ঘুমন্ত শহরে’ প্রকাশিত হয়।

এছাড়া তিনি অনেক বাংলা ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন। এটি তাঁর গাওয়া প্রথম চলচ্চিত্রের গান। ২০০৯ সালে তার একক অ্যালবাম ‘বলিনি কখনো’ প্রকাশিত হয়। ২০১১ সালে এলআরবি ব্যান্ড থেকে বের করেন ব্যান্ড অ্যালবাম ‘যুদ্ধ’। ছয় বছর পর তার পরবর্তী একক অ্যালবাম ‘জীবনের গল্প’ ২০১৫ সালে বাজারে আসে।

বলতে গেলে তিনি একক ও ব্যান্ড- দুই ধরনের অ্যালবামই বের করেছেন। সেগুলো হল-

একক অ্যালবাম

১. রক্তগোলাপ (১৯৮৬)
২. ময়না (১৯৮৮)
৩. কষ্ট (১৯৯৫)
৪. সময় (১৯৯৮)
৫. একা (১৯৯৯)
৬. প্রেম তুমি কি (২০০২)
৬. দুটি মন (২০০২)
৭. কাফেলা (২০০২)
৮. রিমঝিম বৃষ্টি (২০০৮)
৯. বলিনি কখনো (২০০৯)
১০. জীবনের গল্প (২০১৫)

ব্যান্ড অ্যালবাম

১. এলআরবি (১৯৯২)
২. সুখ (১৯৯৩)
৩. তবুও (১৯৯৪)
৪. ঘুমন্ত শহরে (১৯৯৫)
৫. ফেরারী মন (১৯৯৬)
৬. স্বপ্ন (১৯৯৬)
৭. যুদ্ধ (২০১১)

নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী

১. লাল বাদশা (১৯৯৯)
২. গুন্ডা নাম্বার ওয়ান (২০০০)
৩. ব্যাচেলর (২০০৪)
৪. চোরাবালি (২০১২)

গিটারের জাদুকর খ্যাত গুণী এই শিল্পী বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আমরা তার বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করছি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১৬ অক্টোবর রাতে এলআরবি ব্যান্ড নিয়ে রংপুরে সংগীত পরিবেশন করেছেন আইয়ুব বাচ্চু। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সকালে তারা ঢাকায় ফেরেন। কিন্তু বাসায় যাওয়ার পর থেকে অস্বস্তি বোধ করছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। সকাল ৮টার দিকে বাসায় স্ট্রোক করেন তিনি। তড়িঘড়ি তাকে স্কয়ার হাসপাতালে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

২০১২ সালের ২৭ নভেম্বর ফুসফুসে পানি জমার কারণে স্কয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। বেশ কিছুদিন চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে আবারও গানে ফেরেন। কিন্তু এবার হুট করেই নিভে গেলো তার জীবনপ্রদীপ।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক। গিটারের জাদুকর হিসেবে আলাদা সুনাম ছিল তার। ভক্তদের কাছে তিনি ‘এবি’ নামেও পরিচিত। আইয়ুব বাচ্চুর নিজের একটি স্টুডিও আছে। ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত এই মিউজিক স্টুডিওটির নাম এবি কিচেন।