ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি ডেস্ক

২০ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:১০

বিমানবন্দরের উন্নয়ন

জিটুজি পদ্ধতিতে যাচ্ছে সরকার

7927_full.jpg
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিএনএস-এটিএম সিস্টেমের (রাডারসহ) আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনতে জিটুজি পদ্ধতিতে যাচ্ছে সরকার।

এজন্য ফ্রান্সের থ্যালাস টেকনোলজি থেকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এসব যন্ত্রপাতি কিনবে। ফ্রান্স সরকারের সঙ্গে এ সংক্রান্ত বিষয়ে চুক্তির কাজও চলছে বলে জানা গেছে। 

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫১ কোটি টাকা। মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর সহকারী সচিব রোকসিন্দা ফারহানা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এর চাহিদা অনুযায়ী সিএনএস-এটিম এর যন্ত্রপাতি কেনার জন্য এ উপকমিটি গঠনা করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রকৌশলী মো. হামিদুল হককে আহ্বায়ক করে ৮ সদস্যে এ ‘টেকনিক্যাল উপকমিটি’ গঠন করা হলো থ্যালাস টেকনোলজি থেকে যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ‘জিটুজি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি’কে কারিগরি সহায়তা করবার জন্য। জানা গেছে, বেবিচক থেকে পাওয়া সিএনএস এটিএম সিস্টেম আধুনিকায়ন প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবের কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলোর যথার্থতা নিরূপণ ও মূল্যায়ন সম্পাদন করবে এ উপকমিটি। পরবর্তী সময়ে এ মূল্যায়ন জিটুজি কমিটির কাছে প্রতিবেদন আকারে দেবে তারা।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জিটুজি পদ্ধতিতে সিএনএস-এটিএম যন্ত্রপাতি কেনার জন্য নয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন হয়। জিটুজি পদ্ধতিতে কোনো দেশের সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের প্রস্তাবিত দ্রব্য বা সেবা ক্রয় করা সমীচীন কিনা তা বাছাই করা ও টেকনিক্যাল কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে প্রকল্পের মূল্য নির্ধারণ করাই এ কমিটির কাজ। জানা গেছে, ইতোমধ্যে সিএনএস-এটিএস সিস্টেম আধুনিকায়ন প্রকল্পের ডিপিপিতে কারিগরি স্পেসিফিকিশনগুলো আন্তর্জাতিক সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশনের ( আইকাও) টেকনিক্যাল কো-অপারেশন ব্যুরোর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। আইএমইডি, পরিকল্পনা কমিশন, বুয়েট ও বেবিচকসহ সংশ্লিস্ট সব বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে প্রকল্পটি দ্রুত সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য।

জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশন্স) উইং কমান্ডার চৌধুরী এম জিয়াউল কবির বলেন, সিএনএস-এটিএন সিস্টেম আধুনিকায়ন প্রকল্প দ্রুত সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের বিশদ প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) মন্ত্রণালয় থেকে যাচাইয়ের পর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিধি মোতাবেক একনেকে উঠবে।

২০০৫ সালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পুরনো রাডার প্রতিস্থাপনে উদ্যোগ নেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে ২০১২ সালে পিপিপির আওতায় রাডার স্থাপনে ৩৩০ কোটি টাকার প্রাথমিক প্রস্তাব দেয় একটি প্রতিষ্ঠান। পরের বছরের সেপ্টেম্বর মাসে অর্থনৈতিক- বিষয় সংক্রান্ত মস্ত্রিসভা কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অনুমোদন দিলে ২০১৫ সালে চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দেয়। বেবিচক তখন প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করিম অ্যাসোসিয়েটসকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করে। কিন্তু তাদের দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে অস্বাভাবিক ব্যয় দেখানোতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় তা গ্রহণ করেনি। সে সময়ে বেবিচকের কাছে কিছু তথ্য জানতে চাওয়া হয় এবং একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন পিপিপি কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়। তথ্য পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় সে মূল্যায়ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এবং গত বছরের ১ মার্চ পিপিপি এর পরিবর্তে সরকারি অর্থায়নে সাপ্লাই ইন্সটলেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন অব মাাল্টি-মোড সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম ( রাডার, এডিএস-বি) এটিএস অ্যান্ড কমিউনিকেশন সিস্টেম শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব অনুমোদন করে। এ প্রকল্পেরই নতুন নামকরণ করা হয়েছে সিএনএস-এটিএম প্রকল্প।

এর আগে মন্ত্রিসভা কমিটিতে পিপিপির প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দর প্রস্তাব করা হয়েছিল এক হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। সে সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান বলেছিলেন, অস্বাভাবিক ব্যয় ও নিরাপত্তাজনিত কারণে পিপিপির পরিবর্তে সরকারি অর্থে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং প্রকল্পটি পিপিপিতে দেয়ার সময় ব্যয় কম হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

টেন্ডার আহ্বান করার পর দেখা যাচ্ছে ব্যয় বেশি হবে। তাই এটি সরকারি অর্থায়নে হবে। মন্ত্রিসভা কমিটির এ সিদ্ধান্তের পর গত বছরের ১৫ মার্চ সরকারি অর্থায়নে সমন্বিত প্যাকেজ আকারে প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।