ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২১ অক্টোবর ২০১৮, ০৬:১০

পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখতে চায় ইউরোপ

7968_3......jpg
ফেডেরিকা মোগেরিনি
পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার জন্য ইউরোপ তার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা যখন আগামী নভেম্বর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তখন ইউরোপের এ পদক্ষেপের কথা জানা গেল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র দফতরের প্রধানের উদ্ধৃতি দিয়ে কোনো কোনো সূত্র জানিয়েছে, ইরানের কাছে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেয়ার জন্য বিভিন্ন রকমের উপায় উপকরণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরি তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি এ ব্যাপারে বলেছেন, "ইরানের সঙ্গে ব্যবসা ঠিক রাখতে দেশটির কাছে অর্থ পৌঁছে দেয়ার জন্য তারা নতুন একটি চ্যানেল তৈরির চেষ্টা করছে যাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়ানো যায়।" মোগেরিনির উদ্বৃতি দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি ওয়েব সাইটে লেখা হয়েছে, "ইউরোপের প্রতিটি দেশ বিশেষ চ্যানেলের মাধ্যমে ইরানের কাছে অর্থ পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা করে পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ বা সময় ইউরোপের হাতে খুব একটা নেই। কারণ আগামী নভেম্বরের মধ্যে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা ও আর্থিক লেনদেন সচল রাখার জন্য ইউরোপকে প্যাকেজ প্রস্তাব তুলে ধরতে হবে যাতে ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে। ফেডেরিকা মোগেরিনি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ব্যাপারে একটি সফল পরিকল্পনা তুলে ধরবে।
এদিকে, ইরানের জ্বালানি সংস্থার উপপ্রধান বেহরুজ কামাল ভান্দি তেহরানে জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারণী পরিষদের প্রধান অ্যান্থিয়ে লিন্ডারসের সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছেন, "যেহেতু ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার দ্বিতীয় দফা নিষেধাজ্ঞার সময় ঘনিয়ে আসছে তাই এ নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইউরোপ কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় তেহরান তার অপেক্ষায় আছে।" জার্মান সংবাদ মাধ্যম 'স্পিগেল অনলাইন' কিছুদিন আগে জানিয়েছিল, জার্মান, ফ্রান্স ও ব্রিটেন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় একটি স্বাধীন অর্থ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ডলারের পরিবর্তে ইউরোর মাধ্যমে লেনদেনের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

বিভিন্ন কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তারা একজোট হয়েছে। এ ব্যাপারে ইউ পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান মোগেরিনি বলেছেন, "ইরান পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী দেশ এবং এশিয়ার দেশগুলোতে আমাদের ব্যাপক স্বার্থ রয়েছে। এ কারণে আমরা পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী।"

ইরানের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক পরিষদের প্রধান কামাল খাররাজি বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার জন্য ইউরোপ এখন পর্যন্ত বেশ কিছু আইন প্রণয়ন করেছে যদিও তা এখনো বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। তিনি বলেন, ইউরোপ যদি ইরানের অধিকার রক্ষা করতে না পারে তাহলে তেহরান পরমাণু সমঝোতা থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়াবে।