ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা

২৭ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:১০

মদিনা সুন্দরীর তালাকনামা ও জনতার উপলদ্ধি

8186_Mahi.jpg
শেষ পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পথ চলা শুরু হয়েছে। ফলে বিরোধী দলীয় রাজনীতিতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। এক অত্যাবশ্যকীয় বাস্তবতায় বৃহত্তর ঐক্যের তাগিদ অনুভূত হলেও ব্যক্তিগত মান-অভিমান, অনুরাগ-বিরাগ, পছন্দ-অপছন্দ, জিদ-ইগো নিয়ে তা অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যেই পড়েছিল। বিশেষ করে কারো না পাওয়ার ব্যথা, আবার কারো পেয়ে হারানোর ব্যথা পুরো ঐক্য প্রক্রিয়াকে লেজেগোবরে অবস্থায় ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু সকল বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যাত্রা শুরু হয়েছে। যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরোধী শক্তির  সবচেয়ে বড় অর্জন বলেই মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল তার মধ্যমণি ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরী ও তার ছেলে মাহী বি চৌধুরী। কিন্তু তারা এতে সফল হননি বরং বিশেষ পক্ষকে তামাদিতে ফেলতে গিয়ে নিজেরাই তামাদি হয়েছেন।  ‘ওপর দিকে থুথু’  আর ‘চোখ বন্ধ করে লম্ফ’ দিলে যা হয় তাদের কপালে তাই জুটেছে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে খোদ বিকল্প ধারাতেই বহিস্কার পাল্টা বহিস্কারের মত ঘটনা ঘটেছে। অবশ্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পথচলা কতখানি বন্ধুর বা মসৃন হবে তা অবশ্যই সময়ই বলে দেবে। তবে এই ঐক্য প্রক্রিয়া  যে প্রাথমিকভাবে সফল এবং জনমনে একটা আশাবাদের সৃষ্টি করেছে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
মূলত জামায়াতকে কেন্দ্র করেই ঐক্যফ্রন্ট গঠনে জটিলতাটা সৃষ্টি হয়েছিল। বিকল্প ধারা জামায়াতের সাথে যেকোন ধরনের ঐক্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। কিন্তু অতীতে বি চৌধুরীর জামায়াত ঘনিষ্ঠতা নিয়েও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক তা উপেক্ষা করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে মুখও খুলেছেন।  জামায়াতকে জোটভূক্ত  প্রতিবাদে দল ত্যাগ করা উচিত ছিল বলে তিনি অনুতাপও করেছেন। এজন্য তিনি বিলম্বে হলেও জাতির কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন। কিন্তু তার দাবিকে তিনি প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন নি। বিষয়টি নিয়ে ভেদে মারেফত ফাঁস করে দিয়েছেন কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম। তার ভাষায়, জামায়াতকে জোট ও মন্ত্রী সভায় অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে সরাসরি ভূমিকা পালন করেছিলেন খোদ বি চৌধুরী। তাদের ভোট নিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতিও নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে বি চৌধুরীর সাম্প্রতিক দাবি খুব একটা হালে পানি পায়নি। 
২০ দলীয় জোট ঐক্যফ্রন্টের বাইরে একটি আলাদা জোট। তাই সে জোটে কে থাকবে আর না থাকবে তা নিয়ে পিতা-পুত্রের শিরোপীড়াটা কেউই ভাল চোখে দেখেন নি। মূলত এই ইস্যুতে বি চৌধুরী হিংসুটে নারীর মতই আচরণ করেছেন। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। একজনের ঘর ভাঙ্গতে গিয়ে নিজের ঘরই এখন ছত্রখান। তিনি সে ভাঙ্গাঘর জোরা লাগানোর স্বপ্নে এখনও বিভোর।  ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিতে পিতা-পুত্রের দেড়শ আসন দাবিকে ‘আকাশকুসুম’ বলেই মনে করা হচ্ছে। কেউ কেউ এই দাবিকে বিএনপি ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি সে দাবি আদায়ের মাধ্যমেই ঐক্যফ্রন্টে থাকার দিবাস্বপ্ন দেখছেন। বিষয়টি ময়মনসিংহ গীতিকার মনসুর বয়াতির দেওয়ানা মদিনা পালার মদিনা সুন্দরীর তালাকনামার সাথেই সঙ্গতি পূর্ণ মনে করছেন রসিকজনরা। তালাকনামা হাতে পাওয়ার পর মদিনা সুন্দরীর অভিব্যক্তি গীতিকবি মনসুর বয়াতি বেশ চমকপ্রদভাবেই উপস্থাপন  করেছেন-
‘তালাকনামা পাইল যখন মদিনা সুন্দরী
হাসিয়া উড়াইয়া দিল বিশ^াস না করি
খসম মোর না ছাড়িব পরাণ থাকিতে
চালাকি করিল মোর পরখ করিতে ’।
মদিনা সুন্দরীর তালাকনামা ছিল তার কল্পনার বাইরে। বি চৌধুরী ও তার তনয়ের ক্ষেত্রেও এমনটিই ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বি চৌধুরী অনেক লম্বা-চওড়া কথা বললেও পিতাপুত্র যে একেবারে কুপোকাত তা নিয়ে কারো ভিন্নমত নেই। মূলত ক্ষমতাকেন্দ্রীক ও উচ্চাভিলাষী রাজনীতির কারণেই আমাদের দেশের রাজনীতির কক্ষচ্যুতি ঘটেছে। রাজনীতির সূচনা মানুষের কল্যাণে হলেও তা এখন একশ্রেণির মানুষের কামনা-বাসনা ও উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার মাধ্যমে পরিণত করা হয়েছে। নির্বাচন আসলেই একশ্রেণির রাজনীতিকদের মুখে জনগণের কল্যাণের কোরাস শোনা গেলেও দেশের জনগণকে বারবার আশাহতই হতে হয়েছে। ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে একশ্রেণির সুবিধাভোগী আঁতেলদের।  গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক  মূল্যবোধ, সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। সে লক্ষ্য অর্জনে স্বাধীন হয়েছি কিন্তু  লক্ষ্য অনেকটাই অধরায় থেকে গেছে। এমনকি এখন বিশেষ রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা লাভ ও ক্ষমতাকে নানা ছলছুতায় প্রলম্বিত করাকেই মুক্তিযুদ্ধের চেনতা বানানো হয়েছে। সরকার বিরোধীতা ও গঠনমূলক সমালোচনাকেও রাষ্ট্রদ্রোহীতার সাথে এককার করা হচেছ। ফলে দেশের প্রচলিত রাজনীতি সম্পর্কে জনগণের মোহভঙ্গ হতে শুরু হয়েছে বেশ আগেই।  
আগামী ডিসেম্বর মাসের শেষেই একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটা ভাঙ্গা-গড়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।  উভয় পক্ষের মধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে একেবারে সমান্তরালে। ফলে আগামী নির্বাচন  ৫ জানুয়ারির আদলে হবে না তা মোটামোটি নিশ্চিত হওয়া  গেছে। তাই সরকার যেকোন মূল্যে ক্ষমতা রক্ষার জন্য আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও নীতিনৈতিকতার কোন তোয়াক্কায় করা হচ্ছে না বলে বিরোধী মহলে অভিযোগ রয়েছে। সরকার নির্বাচনের আগেই বিরোধী দলকে শুধু ময়দান ছাড়া নয় বরং ঘর ছাড়া করার জন্য ভৌতিক মামলাকে কাজে লাগাচ্ছে বলেও অভিযোগটা বেশ জোড়ালো। বয়োবৃদ্ধ ও মৃত ব্যক্তির নামেও মামলা দেয়া হচ্ছে বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি সরকার সারাদেশে নির্বিঘেœ নির্বাচনী প্রচারাভিযান চালালেও পুলিশি অনুমতির বেড়াজালে বিরোধী দলকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকোচিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ আছে।
 
সরকার মুখে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পক্ষে বললেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন হওয়ার পর তাদের উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো যাতে নির্বাচনে অংশ না নেয় সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে দেশে নতুন আঙ্গিকে রাজনৈতিক সংকট তৈরি আশঙ্কাও বেশ প্রবল হয়ে উঠেছে। তাই দেশে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হওয়ারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহল একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সংলাপে অংশ নেয়ার আহবান জানালেও বিরোধী দল ইতিবাচক স্বত্ত্বেও সরকার পক্ষ তা বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। সরকার আবারও একটি পাতানো নির্বাচন চায় বলে বিরোধী মহলে গুঞ্জন রয়েছে। এমনকি স্বীকৃত বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচনের বাইরে রাখার জন্যই নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি প্রত্যাখ্যান ও বিতর্কিত ইভিএম ব্যবহারে পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সরকারি প্রটোকল নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং মন্ত্রী-এমপিদের বিষয়টি কমিশন বেশ লুকোচুরিই খেলছে। যা নির্বাচনী ময়দানকে অসমতল করে তুলছে।
সরকার বোধহয় পরাজয় আতঙ্ক পেয়ে বসেছে। ফলে তারা বাঁকা পথেই অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে হচেছ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা নিশ্চিত নয় এমন কোন নির্বাচনে যেতে চায় না সরকার। তাই তারা আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে  রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়েও দলীয় লোক দিয়ে মামলাও ঠুকে দিয়েছেন। বিএনপিকে যেকোন মূল্যে নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখার জন্যই বিএনপির নিবন্ধন বাতিল চেয়ে রিট পিটিশন করার প্রস্তুতিও সরকার সংশ্লিষ্টরা নিয়ে রেখেছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে। অবস্থা বেগতিক হলে এই অপশনগুলো সার্থকভাবে কাজে লাগানো হবে বলে মনে করছেন রাজনীতি সচেতন মানুষ। ফলে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদৌ হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ-সংশয়টা বেশ জোড়ালো।
 
রাজনীতি, রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অভিযাত্রা গণমানুষের কল্যাণে শুরু হলেও তা এখন আর আপন কক্ষপথে চলছে না । তাই আমাদের দেশের প্রচলিত রাজনীতি এখন গণমানুষের কল্যাণের পরিবর্তে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ উদ্ধারের মোক্ষম হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। আগের দিনের রাজনীতিতে মেধাবীদের দেখা গেলেও হালে সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। প্রচলিত রাজনীতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে স্বল্পমেধা সহ প্রায় মেধাহীনরা। রাজনীতিতে যে একেবারে মেধাশুণ্য হয়ে পড়েছে একথা বলা যাবে না। তবে স্বল্পমেধা ও মেধাহীনদের প্রাবল্যে মেধাবীরা রাজনীতিতে কোটঠাসা ও সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছেন। ফলে প্রচলিত ধারার রাজনীতি দেশ ও জাতির কল্যাণ করতে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হচ্ছে।
রাজনীতি হচ্ছে সরকার পরিচালনার নিমিত্তে সমাজের ভিতর থেকে উদ্ভুত বিজ্ঞান ভিত্তিক সংস্কৃতি, যার দ্বারা একটা নির্দিষ্ট সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনা করে। রাজনীতি-যার সরল অর্থ, নগর বিষয়ক নীতিমালা বা বিষয়, যার দ্বারা মানব গোষ্ঠী কর্তৃক পরিচালিত হয় রাষ্ট্র বা রাজ্য। যা সমাজের মানুষের মাঝে আন্তসম্পর্ক সৃষ্টি করে ও ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করে। রাষ্ট্রের নীতি কেই রাজনীতি বলা হয় । কিন্তু আমাদের দেশের রাজনীতি জনগণের সে আশা-আকাঙ্খা পুরো অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছে। ফলে জনগণের মধ্যে হতাশাসহ তিক্ত অভিজ্ঞতার জন্ম নিয়েছে। 
খুব সঙ্গত কারণেই আমাদের দেশের প্রচলিত রাজনীতিকে জনগণ মদিনা সুন্দরীর মত তালাক দিতে শুরু করেছে বলেই মনে হচ্ছে। একশ্রেণির রাজনীতিকদের কারণে রাজনীতির মাথায় যেভাবে পচন ধরেছে তাকে তার সাথে দেশের মানুষ ঘর-সংস্কার করা আর সঙ্গত মনে করছেন না। যার প্রমাণ মিলেছে গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমেই। সে নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বাকি আসনগুলোতেও ভোটার উপস্থিতি ৫ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহল মনে করে। সে নির্বাচনে শুধুমাত্র ঢাকা সিটিতেই ২৯ টি ভোট কেন্দ্রে কোন ভোটার ভোট প্রদান না করায় একথায় প্রমাণিত হয়েছে যে দেশের রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে জনগণের আগ্রহটা একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের। সাম্প্রতিক সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনেও একই ঘটনার পুরনাবৃত্তি ঘটেছে। জনগণ ভোট কেন্দ্র যায়নি। কিন্তু রাজনৈতিক টাউট-বাটপার ভোট ডাকাতির মাধ্যমে বাক্সভর্তি করছে। বস্তুত নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই জনগণ যে রাজনীতি বিমূখ হতে শুরু করেছেন তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
মূলত রাজনৈতিক ব্যর্থতায় এখন রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার রূপ নিয়েছে। রাষ্ট্রকে অবশ্যই সমাজের সামগ্রিক উন্নতি, নাগরিকদের নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশে কল্যাণমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। জননিরাপত্তার বিষয়টি রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে খুবই স্পর্শকাতর।  পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুসারে ২০০৯ সালে ২৯৫৮ টি, ২০১০ সালে ৪০১৭টি, ২০১১ সালে ৩৯৮৮টি, ২০১২ সালে ৩৯৮৮টি, ২০১৩ সালে ৪৫৮৮টি, ২০১৪ সালে ৪৫২৩টি, ২০১৫ সালে ৪০৩৫টি, ২০১৬ সালে ৩৫৯১টি, ২০১৭ সালে ৩৫৪৯টি এবং ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত ২৬৫৭টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। ফলে রাষ্ট্র যে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ সে বিষয়টি খুবই স্পষ্ট। মূলত রাজনীতিতে ইতিবাচক ধারার অনুপস্থিতির কারণেই রাষ্ট্র জনগণের সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারছে না।
সঙ্গত কারণেই সাধারণ মানুষের মধ্যেই এই উপলদ্ধি জন্মেছে যে, প্রচলিত রাজনীতি তাদের কোন কল্যাণে আসছে না। মূলত দেশের রাজনীতি ও রাজনীতিকদের ওপর জনগণ আস্থা এখন প্রায় শুণ্যের কোটায় নেমে আসতে শুরু করেছে। তাই এই নেতিবাচক বৃত্ত থেকে বেড়িয়ে এসে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক প্রয়াসের মাধ্যমে যদি জনগণের আস্থা ফেরানো যায়, আর রাজনীতিকরা যদি জনগণকে আস্থায় নিয়ে রাজনীতি না করেন তাহলে আমাদের ভাগ্যে যে ভাল কিছু অপেক্ষা করছে না তা নিশ্চিত করে বলা যায়।
লেখকঃ কথাসাহিত্যিক ও কলামিষ্ট।