ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

শহীদুল ইসলাম

২৮ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:১০

পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্যরোধে প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ

8225_bus.jpg
জাতীয় জীবন বা জনজীবনে পরিবহন সেক্টর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।গাড়িতে না চড়ে আমরা কেউই জীবনকে সচল রাখতে সক্ষম নই।সুতরাং আমরা সবাই নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা চাই। নিরাপদে গন্তব্যে পৌছতে চাই।সেজন্য প্রয়োজন এই সেক্টরের নৈরাজ্য দুর করা।প্রয়োজন যাত্রী নিরাপত্তা,পথচলার নিরাপত্তা,সড়কের নিরাপত্তা,গাড়ির নিরাপত্তা।পরিবহন সেক্টরকে প্রকৃত অর্থেই সেবাখাত হিসেবে গন্য করতে হবে। সেক্ষেত্রে এই ব্যবসায়ের সাথে জড়িত পরিবহন মালিকের জন্য সম্মানজনক ব্যবসা এবং চালক,সহকারি শ্রমিকদের সম্মানজনক ও দায়িত্বশীল পেশায় পরিনত করতে হবে।দিতে হবে তাদেরও নিরাপত্তা।তবেই দুর হবে এই সেক্টরের নৈরাজ্য।সড়কে শৃংখলা আনতে হবে। এটা সবার দাবি। তবে শৃংখলার নামে পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকদের উপর যদি খড়গ নেমে আসে তাহলে কেউ এই ব্যবসায় যেমন আসবেনা তেমনি ড্রাইভার হেল্পার হতেও কেউ আসবেনা। তাই প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ আইন এবং তার নিরপেক্ষ প্রয়োগ।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮' জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন,পরিবহন মালিক সমিতি,যাত্রী কল্যাণ সমিতি,নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনসহ সবাই দীর্ঘদিন ধরে যুগোপযোগী আধুনিক ও উন্নত সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়নের দাবি করে আসছে। সেই দাবি বিবেচনায় নিয়েই সরকার আইন পাস করেছে।তবে এর বেশকিছু ধারা শ্রমিক স্বার্থের বিরুদ্ধে করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ করেছে পরিবহন শ্রমিকরা।যে কারণে পরিবহন শ্রমিকদের চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এ নিয়েই ক্ষোভ ।তা থেকেই শুরু হয়েছে ধর্মঘট।এ ছাড়া আইনে সড়ক দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে গণ্য না করে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে জামিন অযোগ্য করা হয়েছে। প্রনিধানযোগ্য যে,দুর্ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটে না। কিন্তু অপরাধ পরিকল্পিতভাবেই ঘটে।গাড়ি চালকরা মানুষ মারার উদ্দেশ্য নিয়েই কি গাড়ি চালায় ? এ ধরনের প্রশ্ন আসতেই পারে।৮ দফা দাবিতে ৪৮ ঘন্টার ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। দাবি না মানলে সামনে আরো বড় ধরনের কর্মসূচী আসবে বলেও শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন।

পরিবহন শ্রমিকদের আট দফা দাবি হলো : ১. সড়ক দুর্ঘটনায় মামলা জামিনযোগ্য করতে হবে; ২. শ্রমিকদের অর্থদন্ড ৫ লাখ টাকা করা যাবে না; ৩. সড়ক দুর্ঘটনা তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে; ৪. ড্রাইভিং লাইসেন্সে শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি করতে হবে; ৫. ওয়েটস্কেলে (ট্রাক ওজন স্কেল) জরিমানা কমানোসহ শাস্তি বাতিল করতে হবে; ৬. সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করতে হবে; ৭. গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের সময় শ্রমিকদের নিয়োগপত্র সংশি¬ষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সত্যায়িত স্বাক্ষর থাকার ব্যবস্থা করতে হবে; ৮. সব জেলায় শ্রমিকদের ব্যাপক হারে প্রশিক্ষণ দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করতে হবে এবং লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।

পরিবহন শ্রমিক নেতারা জানান,সংসদে সদ্য পাস হওয়া আইন বলবৎ থাকলে যারা এই পেশায় আছে তারা থাকবেনা এবং ভবিষ্যতে গাড়ি চালানোর লোকও পাওয়া যাবেনা। কেউ গাড়ির মালিকও হতে চাইবেনা।কারণ দুর্ঘটনাকে হত্যাকান্ড হিসেবে গন্য করা হয়েছে এবং মালিকদেরকেও জেল জরিমানার শাস্তির বিধান করা হয়েছে।হত্যাকান্ড ঘটানোর উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ ড্রাইভিং সিটে বসেনা।৫ লাখ টাকা জরিমানা দেয়ার সামর্থ থাকলে সে এই পেশায় আসেনা। ৮ম শ্রেণী  ব্যক্তিরা ড্রাইভার হবে যদি এই পেশাটাকে সম্মানজনক মনে করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা তার উল্টো।

এবার আসি পরিসংখ্যানে।অ্যাক্সিডেণ্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউট (এআরআই) বুয়েটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর ১২,০০০ মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় এবং ৩৫,০০০ আহত অবস্থায় জীবন কাটায়।২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় সাত হাজার ৩৯৭ জন নিহত ও ১৬ হাজার ১৯৩ জন আহত হয়েছে বলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে চার হাজার ৯৭৯টি দুর্ঘটনায়।দেশের মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৮ শতাংশ খবর গণমাধ্যমে এলেও তার ৪০ শতাংশ প্রকাশ পায়।দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদের আলোকে তৈরি করা সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়, গেল বছর ছোট-বড় চার হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩ হাজার ৫৯০ জন যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিক হতাহত হয়েছে।এর মধ্যে বাস দুর্ঘটনা এক হাজার ২৪৯টি, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান দুর্ঘটনা এক হাজার ৬৩৫টি, হিউম্যান হলার ২৭৬টি, কার-জিপ-মাইক্রোবাস ২৬২টি, অটোরিকশা এক হাজার ৭৪টি, মোটর সাইকেল এক হাজার ৪৭৫টি, ব্যাটারিচালিত রিকশা ৩২২টি ও নছিমন-করিমনে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৮২৪টি।

এক বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে ৩৩৪৯টি। ২০১৭ সালের এসব দুর্ঘটনায় সারা দেশে নিহত হয়েছেন ৫৬৪৫ জন এবং আহত হয়েছেন ৭৯০৮ জন। গড়ে প্রতিদিন ১৫ জন নিহত হয়েছেন।সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত প্রশিক্ষিত চালকদের মাঝে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন নিরাপদ সড়ক চাইর প্রতিষ্ঠাতা চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

 ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, দেশে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলছে ৬০ লাখ। এসব গাড়ির চালকের মাধ্যমেই যত্রতত্র পরিবহন দুর্ঘটনা ঘটছে। ২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ ছিল তুলনামূলক কম। এ বছর সারা দেশে ২৬২৬টি দুর্ঘটনায় ৫০০৩ জন নিহত ও ৬১৯৭ জন আহত হন। ২০১৬ সালে আরও কমে ২৩১৬টি দুর্ঘটনায় ৪১৪৪ জন নিহত ও ৫২২৫ জন আহত হন। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা নিরসন করতে হলে প্রথমে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্ঘটনার জন্য জেল-জরিমানাতে সমাধান নয়, সমাধান এর কারণ উদঘাটন করে তা লাঘব করা। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ, ত্রুটি সংশোধন ও চালককে দক্ষ করে গড়ে তুলতে ইনস্টিটিউশনের বিকল্প নেই। এমন কিছু অপরাধ আছে যা সংশোধনের মাধ্যমে সমাধান করা যায়। এমনিতেই আমাদের  দেশে চালকের সংকট রয়েছে, সেক্ষেত্রে শুধু শাস্তি দিলেই সমাধান হবে না। সংশোধনের মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ দিতে হবে।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ আইনে সব বিষয় উঠে আসেনি। সেখানে শুধু শাস্তির বিষয়গুলোতে গুরুত্ব  দেয়া হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সবার আগে গাড়িচালক ও যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। এজন্য ট্রাফিক পুলিশকে আরও বেশি দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। পথচারীদের ওভারব্রিজ ব্যবহারে আগ্রহী করতে হবে।
উল্লেখ্য,গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় ঢাকা সেনানিবাসস্থ শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দু’জন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে ফেটে পড়ে।এ দুর্ঘটনার পর সরকারের এক মন্ত্রীর হাসি ও তার কিছু মন্তব্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবি আদায়ের লক্ষ্যে লাগাতার আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলনে শিশু বয়সের শিক্ষার্থীরা চোখে আঙ্গুল দিয়ে আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছে তার বাস্তবায়ন সম্ভব হলে এই সেক্টরের বিরাজমান নৈরাজ্য বন্ধ হতে পারে।ইদানীং গণপরিবহন সেক্টরে নিত্যনৈমিত্তিক এমন সব ঘটনা ঘটে চলেছে, যা শুনলেও গা শিউরে ওঠে। এসব ঘটনা এখন আর সড়ক দুর্ঘটনায় সীমাবদ্ধ নেই; নারী ধর্ষণ থেকে শুরু করে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড পর্যন্ত তা গড়িয়েছে।

ঢাকা মহানগরীতে যাত্রীর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য এক বাসের সঙ্গে অন্য বাসের যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, তাতেও অনেক যাত্রীর প্রাণহানি বা অঙ্গহানি হচ্ছে। একের পর এক এ রকম ঘটনা ঘটে গেলেও এর প্রতিকারের কোনো লক্ষণ চোখে পড়ে না।দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব দুর্ঘটনাকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের উগ্র নেতারা দুর্ঘটনার আসল কারণ বের করে, তা সমাধানের পরিবর্তে বিভিন্ন বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চোখে পড়া অনিয়মগুলো জাতিকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।তাতে সড়কের অনিয়ম এবং দূর্ঘটনার কারণগুলো উঠে এসেছে। তাদের দেখানো পথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে হয়তো নৈরাজ্য বন্ধ হবে।তবে এর সাথে জড়িত রয়েছে কতকগুরেপা সেক্টর যা মেরামত করা জরুরি।বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশ, থানা ইত্যাদি ।তাদেরকে সন্তুষ্ট না করে ঢাকা শহরে কোন গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। সাপ্তাহিক কিংবা মাসিকভিত্তিক অর্থকড়ি যথাসময়ে ‘ওনাদের’ পকেটে পৌঁছে দিতেই হয় বাস মালিকদের।

বিআরটিএ হলো পরিবহন সেক্টরের একটি মাদার অর্গানাইজেশন।চালকের লাইসেন্স প্রদান থেকে শুরু করে গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন,ফিটনেস,ট্যাক্স টোকেনসহ যাবতীয় কাগজপত্র দিয়ে থাকে সড়ক পরিবহন মন্ত্রনালয়াধীন এই সরকারি সংস্থা।কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটি দূর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত। ঘুষ এবং দালাল ছাড়া এখানে কোন কাজ হয়না।লাইসেন্স প্রদানের জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস নেই।ফলে দক্ষ দালালের মাধ্যমে যারা উৎকোচ নিয়ে যেতে পারে সে গাড়ি চালাতে না জানলেও লাইসেন্স পায়।এই তরিকা যার জানা নেই সে যত ভাল ড্রাইভারই হোক সে লাইসেন্স পায়না।ফিটনেসের ক্ষেত্রে দালাল ছাড়া গেলে গাড়ি নিয়ে গিয়ে দিনের পর দিন ঘুরেও ফিটনেস পাওয়া যায়না।এই সমস্যা সেই সমস্যা বলে ঘোরাবে।কিন্তু দালালের মাধ্যমে গেলে বড় অংকের টাকা নিয়ে ফিটনেস দিয়ে দেয় একদিনেই ।

রাস্তায় স্পিড ব্রেকার আছে কিন্তু মার্কিং বা সতর্ককারি চিহ্ন বা সাদা দাগ দেয়া নেই অধিকাংশ রাস্তায়। আবার আছে খানা খন্দকে ভরা।এসব দেখার কেউ নেই।এটা দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারণ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নজরে সেটা এলেও যারা এসব রাস্তার অথরিটি তারা সব সময়ই থাকেন বেখবর।

রাস্তায় গাড়ি চালনায় যাত্রী ধরার জন্য রয়েছে অসম প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতার ফলে দূর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। ট্রাফিক সার্জেন্টরা একটু আন্তরিক হলেই সিরিয়ালে গাড়ি চালাতে চালকদের বাধ্য করতে পারে। কিন্তু রাস্তায় তাদের দেখা যায় নিরাপদ একটি জায়গায় দাড়িয়ে গাড়ি থামিয়ে উৎকোচ আদায় অথবা মামলার কোটা পূরনে তারা ব্যস্ত। জনদুর্ভোগ রোধ করতে তাদের তেমন কোন ভুমিকা দেখা যায়না।নতুন আইন সংসদে পাস হওয়ার পর রাস্তায় পুলিশের অত্যাচার উঠেছে চরমে।কোটা তো আছেই এখন আবার মামলা করলে নাকি সংশ্লিষ্ট সার্জেন্ট ৩০% কমিশন পান। ফলে এখন অবৈধ নগদ আদায়ের পাশাপাশি এখন মামলার সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমনি টাকার অংক বেড়েছে কয়েকগুন। কারণ অংক বড় হলে কমিশন বেশি পাওয়া যাবে।এখন পুলিশ সার্জেন্টদের মামলার ভারে জর্জরিত গাড়ির মালিক শ্রমিকরা। সব কাগজ ঠিক থাকলেও তাদের মতে অপরাধ এবং ধারার কোন শেষ নেই। শ্রমিকরা জানিয়েছেন,বর্তমানে ঢাকা শহরে চলমান গাড়িগুলোতে কোন কাগজ নেই। সব কাগজ পুলিশের কাছে। আর গাড়িতে আছে শুধু মামলার স্লিপ।

লাইনে গাড়ি চালনা,ওভার টেক না করা এবং ইমার্জেন্সি লাইন রাখার শিক্ষা দিয়েছিল আমাদের শিশুরা। মুমুর্ষূ রোগি যানজটে আটকা পড়ে মরছে অহরহই। অযান্ত্রিক আর যান্ত্রিক যানবাহন চলছে এক সাথে। যে রাস্তায় বাস আসে সেখানে লেগুনাও চলে। সুন্দর গণপরিবহন ব্যবস্থা হলে আমার মনে হয় ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার প্রবনতাও কমে যেত।

এবার আসুন মহাসড়কের কথা। মহাসড়কে শৃংখলা মোটেও নেই। মানুষের পারাপারের নিরাপদ জায়গা নেই। মহাসড়কে লেইনের কোন শৃংখলা নেই। ওভার টেকিং এর আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই।অযান্ত্রিক এবং নি¤œগতির যানবাহন একসাথেই চলছে।আলাদা লেইন আমাদের দেশে রোড সিস্টেমেই নেই। সেই সাথে রাস্তার উপরে রয়েছে হাট বাজার এবং যত্রতত্র যাত্রী উঠা-নামা।এমন মহাসড়ক ব্যবস্থা আমাদের চেয়ে দরিদ্র দেশ নেপাল বা ভুটানেও আমার চোখে পড়েনি।

এসবের জন্য আসলে প্রয়োজন গোটা সিস্টেমেই পরিবর্তন আনা যা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার ।তবে এর সাথে যারা সরাসরি জড়িত তারা যদি আন্তরিক হোন তবে এক সময় গোটা সিস্টেমেই পরিবর্তন আসবে এবং সড়কে লাশের মিছিল কমবে।তবে একটা কথা স্মরন রাখতে হবে উন্নত দেশগুলোতে এসব সিস্টেম থাকা সত্তেও দুর্ঘটনা ঘটে।সেখানেও মানুষ মারা যায়।পার্থক্য হলো সেখানে কোন কিছু ঘটলে সংশ্লিষ্টরা তার কারণ অনুসন্ধান করতে আইন প্রয়োগকারি সংস্থাকে সহযোগিতা করে,আইন নিজের হাতে তুলে নেয়না।একটি অপরাধের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আরেকটি অপরাধ করেনা,গাড়ি ভাংচুর,অগ্নিসংযোগের মত ঘটনার অবতারনা করেনা।বিচারহীনতা থেকেই হয়তো আমাদের দেশের মানুষ দুর্ঘটনা ঘটলেই এহেন অপরাধে লিপ্ত হয়ে পড়ে। গোটা সিস্টেমে যেমন পরিবর্তন আনা প্রয়োজন তেমন প্রয়োজন আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে বরং সহযোগিতা করা।