ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

আলমগীর মহিউদ্দিন

৩১ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:১০

উষ্ণতার মূল্য

সমাজবিজ্ঞানীরা একটি বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তারা বলেন, ভাষা মানুষের মানসিকতাকে নিয়ন্ত্রণ করে, কখনো বা তাকে নির্মাণ করে। তারা এ বক্তব্য দিয়েছেন নানা অনুসন্ধান ও আলোচনার পর। কারণ, দেখা যায় বিভিন্নতা যেমন ভাষার ব্যবহারে সামনে আসে, তেমনটি মানুষের অন্য ব্যবহারে আসে না। ভাষা গোষ্ঠী নির্মাণ করে এবং সমাজের অন্যতম ভিত্তি। এ কারণেই এ দেশের মানুষ এই ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে।

আবার অনেক সত্যই বিতর্কিত হয়। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠতে পারে, সত্য কেন বিতর্কিত হবে। এর জবাবও সবার জানা। তা হলো, সত্য অবশ্যম্ভাবী প্রকৃত অবস্থাকে সামনে আনে, যা সমাজবন্ধনসহ নানা বিশেষণে সিক্ত মানুষ কামনা করে না। তাই একে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য করে নানা অপ্রকৃত আয়োজন। এই বিপরীতধর্মী অবস্থাকেই আমরা বলি মিথ্যা। এ জন্যই মিথ্যা এত ব্যাপক ও ক্ষমতাবান।

আসলে প্রকৃতি স্বাভাবিকভাবে নির্মম। মানুষ এই নির্মমতাকে বারবার ব্যবহার হতে দিতে চায় না। তাই নানা ফন্দি খোঁজে, পালিয়ে যাওয়ার পথের সন্ধানে ব্যস্ত থাকে। জন্মের পরের মুহূর্তেই মানুষ এর মুখোমুখি হয়। সে জন্যই হয়তো বা শিশু যে শব্দটি প্রথমে করে সেটি ‘না’ বলে মনে হয়। বিশ্বের সব ভাষা ও স্থানের শিশুদের এই উচ্চারণ এক। কেউ কেউ বলেন, শিশু এই যন্ত্রণাদায়ক পৃথিবীতে আসতে চায় না বলেই এই প্রতিবাদের চিৎকার। আর এই চিৎকারের রেশ সে সারা জীবন বয়ে চলে। কখনো সিক্ত হয় শীতলতায়। কখনো বা উষ্ণতায়। আজকের আলোচনা এই উষ্ণতা নিয়ে।

উষ্ণতা করো পক্ষে পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব নয়। এ জন্যও হতে পারে, এটা জটিল জীবনের এক অংশ। উষ্ণতা নিয়ে তাই ভীতি ও রোমান্টিকতার শেষ নেই। কোনো রাজনীতিবিদ তার দলবলের সাথে মিলছেন, তখন বলা হবে তার জনগণের সাথে উষ্ণ সম্পর্ক। এমনকি নারী-পুরুষ একটু একান্তে তাদের মধ্যে আলোচনা করল, তখন বলা হবে তাদের উষ্ণ সম্পর্ক।

তবে আজকে উষ্ণতার আলোচনা আবহাওয়া নিয়ে, যা মানুষের জীবনের প্রতি ঝুঁকি হিসেবে এগিয়ে আসছে। প্রকৃতি সব সময়ই মানুষের অবস্থানের বিপরীতে ছিল, আছে ও থাকবে। তাই নিরন্তন চেষ্টা চলে এ অবস্থা থেকে কেমনভাবে মুক্তি পাওয়া যায়। আবার এই মুক্তির প্রচেষ্টার ফলে হয় সঙ্ঘাত ও সংঘর্ষ। আসলে প্রকৃতির এই আবেষ্টনী থেকে যেমন মুক্তির কোনো উপায় নেই, তাই রবাহূত যন্ত্রণা থেকেও মুক্তি নেই। কেননা মানুষ নিজেই এগুলো সৃষ্টি করছে, কখনো ইচ্ছে করে, কখনো বা অনিচ্ছায়।

এই প্রাকৃতিক উষ্ণতার বিষয় মানবচিন্তার এক বিশেষ অংশ। এখন প্রশ্ন একটু বেশি নাড়া দিচ্ছে। এ জন্য যে, সত্য ও প্রকৃত অবস্থার চিত্র একটু করে সামনে আসছে। যতই অনুসন্ধান এগোচ্ছে, এর ভয়াবহ দিকটিও উন্মোচিত হচ্ছে।

এই অনুসন্ধানকারীরা এখন এক ভয়ঙ্কর চিত্রের উল্লেখ করেছেন। এক বাক্যে তা হলো, মানুষ যেমনভাবে জীবন যাপন করছে। সে পথ থেকে ফিরে না এলে তাদের জীবনধারণের অবস্থা মাত্র ১২ বছর পরে এক অসম্ভব দিকে চলবে। যার পরিণতি হবে মানবজীবনের বিলুপ্তি। অর্থাৎ হাতে সময় মাত্র ১২ বছর। কিভাবে? এর আলোচনা করা যাক।

এই অনুসন্ধানকারীদের একজন হলেন নোয়াম চমস্কি। তিনি কয়েক মাস আগে এক নিবন্ধে প্রশ্ন করেন, ‘বর্তমান বিশ্বের এই সংগঠিত জীবনব্যবস্থা কি টিকে থাকবে?’ এ প্রশ্ন সবারই। চমস্কি বলেছেন, এ প্রশ্ন অনেক দূরের ভবিষ্যৎ নিয়ে নয়, বরং অনেক কাছের। তিনি বলেছেন, এ প্রশ্নের উদয় হয় ৬ আগস্ট ১৯৪৫। জাপানের হিরোশিমা শহরের দুই লাখ অধিবাসী নিজেদের কাজে ব্যস্ত। হঠাৎ করে বিকট শব্দ হলো। তারা সবাই চিরতরে হারিয়ে গেল। শব্দটি ছিল বিশ্বের সর্বপ্রথম আণবিক বোমার বিস্ফোরণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই মহাধ্বংসী বোমার ব্যবহার করে। বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়েছিল এ জন্য যে, জাপান-জার্মানি পরাজয় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছিল। আত্মসমর্পণ করার পরে বিচার হয়, শান্তি আসে। একতরফা যুদ্ধ চলে না, কিন্তু মার্কিনিরা তা চালিয়ে যাচ্ছিল। কারণ, তারা যে মহাধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করেছিল, তার পরীক্ষার প্রয়োজন ছিল। এই প্রয়োজনের রসদ হলো জাপানের দু’টি শহরের জনগণ।

আসলে, ক্ষমতাবান যুদ্ধবাজদের কাছে জীবনের মূল্য নেই, নৈতিকতা অপ্রয়োজনীয়, যার প্রমাণ দু’টি বিশ্বযুদ্ধ এবং বর্তমানের কয়েকটি চাপিয়ে দেয়া সঙ্ঘাত, যা সারা বিশ্বকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে ফেলেছে।

দু’জন বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ- অ্যাডাম স্মিথ ও ডেভিড রিকার্ডো এখন বেঁচে থাকলে অর্থনীতির বর্তমানের ব্যবহারে বিস্মিত না হয়ে পারতেন না। এখন সবাই সীমাহীন উন্নয়নের খপ্পরে পড়ে গেছে। রিকার্ডো তার গুরু ধনতন্ত্রবাদের পিতা অ্যাডাম স্মিথের সাথে সুর মিলিয়ে বলেছিলেন, ‘উৎপাদন বৃদ্ধি কখনোই সীমাহীন নয়। একপর্যায়ে এসে স্থির হয়ে যাবে।’ কিন্তু বর্তমানের ভোক্তাবাদীরা এটা মানতে রাজি নয়। এর মূলে শিল্প বিপ্লব। তাদের মধ্যে এই বিপ্লব ধারণা সৃষ্টি করল যে, উৎপাদনের শেষ নেই। ফলে বিশ্ব প্রাকৃতিকভাবে ক্রমান্বয়ে দরিদ্র হতে থাকল এবং উষ্ণতা বাড়তে থাকল।

সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘের আবহাওয়ার ওপর যে বিজ্ঞানী গোষ্ঠী কাজ করছেন, তার এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন। ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) ৭০০ পৃষ্ঠার এক বিশাল রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন। এটি প্রথম প্রামাণিক একটি প্রতিবেদন। এখানে এক ভয়াবহ অবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে মহাশূন্যের অনেক দূর পর্যন্ত আবহাওয়া উত্তপ্ত হয়ে পড়ছে। এটা বর্তমান হারে চলতে থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে উত্তাপ অসহনীয় পর্যায়ে যাবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই ভয়ানক অবস্থা শুরু হবে। বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, বিশ্বের উষ্ণতা যদি ২.৭ ডিগ্রি (সেলসিয়াস) বাড়ে এবং ধারণা করেছিলেন, তা বাড়বে ২০৫০ সালের মধ্যে, তাহলে এই ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হবে। এখন তারা বলছেন, উষ্ণতা বৃদ্ধির দ্রুততা আগের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় এটি ২০৩০ সালের আগেই এসে পড়তে পারে। এ রিপোর্ট প্রণয়ন করেছেন ৪০টি দেশের ৯১ জন বিজ্ঞানী তাদের এবং অন্যদের ছয় হাজার অনুসন্ধানী তথ্য থেকে।

এটা প্যারিস অ্যাগ্রিমেন্ট বলে খ্যাত। এ প্রতিবেদনে বলা হয়, শিল্প বিপ্লবের সময়ের তাপমাত্রার চেয়ে ৩.৬ ডিগ্রি উত্তাপ বাড়লে এমনটি হবে। অশান্ত আবহাওয়া অতি অল্প সময়ে এমন ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে। এখন বিজ্ঞানীরা এর মাত্রা ২.৭ ডিগ্রিতে রেখেছেন। অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, অর্থাৎ ডিগ্রির হেরফের এমন কী বিশাল ব্যাপার। বিজ্ঞানীরা এর সহজ জবাব দিয়েছেন প্রতিদিনের অবস্থার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে। ড. কোরাল ডেভেনপোর্ট আইপিসিসির রিপোর্টের বর্ণিত প্রাকৃতিক ও অন্যান্য ক্ষতির মূল্যায়ন করে লিখেছেন- ‘এর পরিমাণ হবে ৫৪ ট্রিলিয়ন (লাখ কোটি) ডলার।’

এ ক্ষতিগুলো হবে বন্যা, খরা ও উৎপাদনহীনতার কারণে। অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, বিশ্বে উত্তাপ যখন ১.৫ ডিগ্রি থেকে বেড়ে ২ ডিগ্রি (সেন্টিমিটার) পৌঁছে, তখন বিভিন্ন স্থানে খরা দেখা দেয়। এই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, ১.৮ ডিগ্রি (সেলসিয়াস) উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১.২ শতাংশ জিডিপি (সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি) কমে যায়।

জাতিসঙ্ঘ আইপিসিসিকে নিয়োগ করে বিশ্বের তাপমাত্রা ১.৫ সে. রাখতে কী ব্যবস্থা নিতে হবে; এটা আলোচনা ও অসুন্ধানের জন্য একটা দল গঠন করা হয়। এই দলে সেই উল্লিখিত ৪০ দেশের বিজ্ঞানী এবং তাদের প্রায় এক হাজারটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়।

শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই নয়, এর প্রভাব পড়বে নানাভাবে বিশ্বের সব দেশের ওপর। যেমন- খরা, সমৃদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ, চীন, মিসর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ফিলিপাইন, ভিয়েতনামের পাঁচ কোটি (৫০ মিলিয়ন) সমুদ্রকূলের মানুষ। এটা ২০৪০ সালের মধ্যে হতে পারে বলে রিপোর্টটিতে সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। এসব মানুষ কোথায় যাবে? অবশ্যই তারা দেশের অভ্যন্তরে যেতে চাইবে জীবন রক্ষার জন্য। সেখানে স্থান কোথায়? জীবিকা কোথায়? অর্থাৎ এক বিশাল অভাবিত অবস্থার সৃষ্টি হবে।

মার্কিন লেখক উইলিয়াম হাউইস (ডিসিডেন্ট ভয়েসের লেখক) তার নিবন্ধে বলেছেন, মানুষ নিজেই তার বাসস্থানসহ প্রকৃতিকে ধ্বংস করছে। তিনি লিখেছেন- ‘আজকের দেশ, করপোরেশন, শাসকগোষ্ঠী এবং শিল্পসভ্যতা মানুষের স্বাস্থ্য বা সামগ্রিক ভালো ভাবে না। তারা প্রথমে সংখ্যাগরিষ্ঠকে বাদ দেয় এবং তাদের প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। তারা শুধু অভিজাতদের সেবা করে। এই অভিজাতেরা, যারা সমাজের মজ্জা-ঘিলু সব চুষে খাচ্ছে।’ হাউই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, পশ্চিমা প্রযুক্তিভিত্তিক উন্নয়নের মডেল হলো প্রকৃতিকে লুট করে নিজের জন্য তথাকথিত সুখের সন্ধান করা, যা একসময় মানবসভ্যতাকেই ধ্বংস করবে। কারণ, প্রকৃতি সদাপ্রস্তুত তার প্রতিশোধ নিতে। তাই মানুষের মঙ্গল হবে প্রকৃতির সাথে সমঝোতা করে জীবনকে শান্তিপূর্ণ করা, যা একদিন ছিল।

হাউইর আরেকটি মন্তব্য আজকের বিশ্বের সচেতন মানুষদের বক্তব্য। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘কোনো রাষ্ট্রই মহান হতে পারে না। অন্য দেশকে পদানত বা শোষণ করে।’ তিনি পশ্চিমা শক্তির নেতৃত্বের বর্তমান বিশ্বের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, ‘তাদের দাবি যে তারাই উন্নয়নের মডেল এবং সবাইকে তাদের অনুসরণ করতে হবে, তা হবে শুধুই ভুল নয়, মানবসভ্যতা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পথ।’ বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, বর্তমানের সঙ্ঘাত-সংঘর্ষের মূলে এই পশ্চিমা বিশ্ব। তাদের ভালোটুকু তারা বিশ্বের সাথে ভাগাভাগি করে না। তিনি এক মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য যে ‘হয় আমরা আছি, নতুবা কেউ নয়’-এর সমালোচনা করে এ মন্তব্য করেন। অতীত ইতিহাস টেনে তিনি বলেছিলেন, এমন মনোভাবের বিরুদ্ধে প্রকৃতিই কাজ করেছিল এবং মানবসভ্যতা বিলীন হয়ে গিয়েছিল। আজকের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য ৯৫ শতাংশ মানুষ দায়ী বলে তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন- ‘সময় অনেক আগেই ফুরিয়ে গেছে ফিরে যাওয়ার। তবুও এখনই ফিরতে হবে যদিও অভীষ্ট লক্ষ্য সরে গেছে অনেক দূরে এবং সরে যাচ্ছে অতিদ্রুত। প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে রেখে এগোতে হবে। অন্যকে দখল বা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য নিয়ে নয়।

নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক উইলিয়াম লর্ডহস তার বই ‘ক্লাইমেট ক্যাসিনো’তে দেখিয়েছেন- ‘প্রকৃতি গত ১০ লাখ বছরের মধ্যে বর্তমান কালের সাত হাজার বছর শান্ত ছিল। এ সময়েই প্রকৃতির সম্পদ উৎপাদিত হয়। বর্তমান সভ্যতার জন্ম এই সময়ে।’ উৎপাদিত প্রাকৃতিক সম্পদের মূল্য ধরা হয়েছে ৫০০ ট্রিলিয়ন ডলার (২৩০ ট্রিলিয়ন ডলার জমি ও সম্পত্তি, ২০০ ট্রিলিয়ন ডলার ধার, ৭০ ট্রিলিয়ন ডলার অন্যান্য লগ্নি)। লর্ডহস জাতিসঙ্ঘের রিপোর্ট উল্লেখ করে লিখেছেন, বিশ্বের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি (সে.) বাড়লে ক্ষতি হবে ৬৯ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ৩.৭ ডিগ্রি বাড়লে সে পরিমাণ হবে ৫৫১ ট্রিলিয়ন ডলার। অথচ গত সাত হাজার বছরে যে প্রাকৃতিক সম্পদ সৃষ্টি হয়েছে, তার মূল্য ৫৫১ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্য কথায় বিশ্বের প্রাকৃতিক সম্পদ এই উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য ধ্বংসের মুখোমুখি হবে।

বিজ্ঞানীরা প্যারিস আবহাওয়া সামিটে যে তথ্য দেন তার মধ্যে হলো ১৯৬০-২০১০ সালে ১৬৫টি দেশের অবস্থা থেকে জানা যায়, যখনই উত্তাপ বেড়েছে তখনই কৃষি উৎপাদনসহ জীবনের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে বিষুব রেখা বরাবর গরিব দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। তবে বর্তমানের শীতকালীন কয়েকটি দেশ এই উত্তাপ বৃদ্ধিতে সামান্য উপকৃত হবে, তা সামগ্রিক ক্ষতির কাছে নগণ্য।

মার্শাল বার্ক বলেছেন, যদি প্যারিস সম্মেলনের আহ্বান বাস্তবায়ন হয় তাহলে বিশ্ব ৩০ ট্রিলিয়ন ডলার লাভবান হবে এখনই। মার্শাল বার্ক স্টার্নফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ। বর্তমানে যে হারে গ্রিন হাউজ গ্যাস আবহাওয়ায় যাচ্ছে, তা চলতে থাকলে উত্তাপ ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছবে দ্রুত, হয়তো ২০৪০ সালের আগেই। এ গতির আরেকটি ভয়াবহ দিক হলো উত্তরের বরফগুলো গলবে হঠাৎ করে এবং ফলে যে অবস্থার সৃষ্টি হবে, যা এখনই পরিমাপ বা আন্দাজ করা সম্ভব নয়।

তিনি সতর্ক করে বলেছেন সবার মনের কথা, তা হলো আবহাওয়া পরিবর্তন আরেক রাজনৈতিক গল্প নয়। অথবা তিনি বলেছেন রিপোর্ট নয়। এটা একটা বাস্তবতা, যা সবাইকে ছুঁয়ে যাবে। এর জন্য যারা দায়ী তাদের নেতৃত্বে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ শিল্পোন্নত দেশগুলো। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শিল্পগুলো যার প্রায় ৪৩ শতাংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত, এ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এখান থেকে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব, কারণ এসব দেশই পৃথিবীকে শাসন করছে। তাদের যদি বোধোদয় হয়, তবে বিশ্ব থমকে দাঁড়িয়ে পেছনে ফিরতে পারবে। নতুবা ধ্বংসের পথের গতি থামবে না।