ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

মসিয়ার রহমান কাজল, বেনাপোল প্রতিনিধি

১ নভেম্বর ২০১৮, ১৩:১১

র্শাশায় বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফলের চাষ

8327_4.jpg
শত অভাবের গন্ডি পেরিয়ে রাশেদুল (৪০)ড্রাগন ফল বানিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে।

সে অভায় নগর থানার ছিদ্দীক পাশা গ্রামের মৃাত,গোলামরসুল বিস্বাসের ছেলে।

পেশায় কৃষক হলেও সে শিক্ষিত এইচএসসি পাশ।লেখাপড়া শোষ করে চাকুরী না পেয়ে প্রথমে সে অভায়নগর থানার ছিদ্দীক পাশা নীজ গ্রামে পানের চাষ শুরু করে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অভাব
তার পিছু ছাড়েনি দেনার দায়ে এলাকা ছেড় চলে যান কুষ্টিয়া। সেখানে ২০ বিঘা চরের জমিতে আম, কাঠাল, কুল চাষ শুরু করে এখানেও লাভের মূখ দেখার আগেই নদী ভাঙ্গনে ক্ষতি গ্রস্ত হয়ে পথে বসে।

এসময় তার শশুর মশাই পাশে দাড়ায়।চলে আসে যশোরে শার্শা থানার ডিহি ইউনিয়নের ফুলসারা গ্রামে শশুর বাড়িত।বর্তমান সে ডিহি ইউনিয়নের শালকোনা গ্রামের বাসিন্দা। শশুরের কথামত শুরু করে ড্রাগন ফল আর থ্রাই পিয়ারা জাতের চাষ।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার জানান, উপজেলায় ২০ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে তিনজন চাষি ড্রাগন চাষ করলে ও ফসলি জমি কিম্বা বাসাবাড়ির ছাদে অন্তত ১৫০-২০০ সৌখিন চাষি ড্রাগন ফলের চাষ করেছেন।

তিনি বলেন,অন্যান্য কৃষি কাজে যেমন রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় ড্রাগন চাষে তা খুব একটা নয়। একটু পরিমানে বেশী পরিচর্যা করেই গাছে ফল আনা যায়। ১৫ থেকে ১৮ মাস বয়স হওয়ার পর গাছে ফল আসতে শুরু করে । ৩০ থেকে ৩৫ দিন পর পাকা ফল সংগ্রহ করা যায় । বাজারে ড্রাগন ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে । প্রতি কেজি ফল বাজারে চারশ থেকে সাতশ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান হিরক কুমার।
ড্রাগন চাষি রাসেদুল ইসলাম বলেন, তার নয় বিঘা জমিতে ২৭ শ’ ড্রাগন ফলের খুটি আছে।প্রতি খুটিতে বছরে ৭শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’ খরচ হয়।এক একটি খুটিতে প্রতি বছর ১৮-২০ কেজি ‘ড্রাগন ফল ধরে।চৈত্র মাসে গাছে ফুল আসে বৈশাখ মাস থেকে ফল ধরা শুরু হয়।শীতের সময় ড্রাগন গাছে ফুল আসে না।ড্রাগন ফল গাছ একবার রোপন করলে তা ২০ থেকে ২৫ বছর ধারাবাহিকভাবে কম বেশী ফল ধরে থাকে।

যা প্রতি খুটিতে বছরে গড়ে ১৮ থেকে ২০ কেজিতে দাড়ায়।দুই বছরে ২৭শ’ খুটিতে ড্রাগন চাষ করতে রাসেদুলের সর্বমোট খরচ হয়েছে ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

দুই বছর শেষে তার ড্রাগন ফল বিক্রি হয়েছে ১ কোটি টাকার উপরে।

তিনি আরোও বলেন,গত দুই বছর আগে ময়মনসিংহ কৃষি গবেষনা কেন্দ্র থেকে ১ হাজার পিস ড্রাগনের চারা ৬০ টাকা দরে কিনে এনে পরীক্ষামুলক ভাবে ড্রাগন চাষ শুরু করি।এ বছর ফল আসতে শুরু করেছে।আজ আমি স্বাবলম্বী।

এটি একটি লাভজনক চাষ। তবে প্রথম অবস্থায় টাকা পয়সা খরচ একটু বেশি হওয়ায় লাভ একটু কম হয়েছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে এ চাষ দ্রুত বিস্তার লাভ করবে পাশাপাশি আমার দেখদেখি অন্যরা ও ড্রাগন ফল চাষে আগ্রহী হবে বলে মনে করেন রাসেদুল।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুখেন্দু কুমার মজুমদার জানান, ড্রাগন চাষে প্রতি বিঘা জমিতে ১ থেকে ৩ লাখ টাকার উপরে লাভ করা সম্ভব। ড্রাগন চাষে নিয়মিত পর্যবেক্ষণসহ চাষিদের প্রশিক্ষণে উৎসাহ ও পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি বিভাগ।
আগামীতে চাষিদের আরো সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ বাড়ানো হবে বলে জানান হীরক কুমার সরকার।