ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

আবু কাওছার আহমেদ, টাঙ্গাইল থেকে

৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৪:১১

প্রায় কোটি টাকা মূল্যের অ্যাম্বুলেন্স এখন শিশুদের খেলনা গাড়ি

8358_ttttt.jpg
অযতœ, অবহেলা আর মেরামতের অভাবে দীর্ঘদিন যাবত নষ্ট হয়ে পরে আছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দু’টি । ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীর স্বজনদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। দুর্ঘটনা কবলিত ও গুরুত্বর অসুস্থ রোগীদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা রোগী নিতে হয় সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক অথবা ব্যক্তিগত ভাড়া করা গাড়ির মাধ্যমে। যার কারনে রুগীর স্বজনদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নষ্ট দু'টি অ্যাম্বুলেন্স বাহিরে পড়ে আছে। আর সেই অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে উঠে ৪-৫ জন ছেলে খেলনা গাড়ির মতো খেলা করছে। তারা বার বার গাড়ির ভেতরে প্রবেশ করছে আর বের হচ্ছে। তাদের দেখে বোঝার উপায় নেই যে তারা সত্যি কোন গাড়ি নিয়ে খেলা করছে, নাকি খেলনা কোন গাড়ি নিয়ে খেলা করছে। তাদেরকে বাধা দেয়ার যেন কেউ নেই। শিশুদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রায় প্রতিদিন এসে নষ্ট অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে খেলা করে। তাদেরকে কেউ কোন প্রকার বাধা দেয়না।

জানা যায়, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০০৯ সালে একটি অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট হওয়ার পর ২০১০ সালে নতুন আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করে কর্তৃপক্ষ। যার মূল্য ৮০'লাখ টাকার বেশি। তখন থেকেই আগের অ্যাম্বুলেন্সটি পরে থাকে পরিত্যক্ত অবস্থায়। কয়েক বছর চলার পর নতুন অ্যাম্বুলেন্সটিও বিকল হয়ে যায়। এর পরে মেরামত না করায় এক বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে সেটিও। অ্যাম্বুলেন্স দু’টি মেরামতের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার উদ্যোগই গ্রহণ করছে না। ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। ভূঞাপুর উপজেলার ৩ লাখ জনগোষ্ঠীর জন্য ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতাল।

এছাড়াও এই হাসপাতালের অধীনে রয়েছে ঘাটাইল উপজেলার কিছু অংশ। মুমূর্ষু রোগী পরিবহনে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স সরকারিভাবে বরাদ্দ থাকলেও তা দীর্ঘদিন যাবৎ নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় জনগণের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্ঘটনা কবলিত ও গুরুত্বর অসুস্থ রোগীদের টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা রোগীদের নিতে নানান ভোগান্তির শিকার হয়। অনেক মুমূর্ষু রোগী অক্সিজেনের অভাবে রাস্তাতেই মৃত্যু করেছে বলেও জানা গেছে । জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামত অথবা একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্সের দাবি জানান এলাকার সচেতন মহল ও চিকিংসা নিতে আসা রোগিরা ।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা  ডা. আবু সামা বলেন, অ্যাম্বুলেন্সটি বিকল হওয়ার পর থেকেই আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি প্রথম ও ১৫ই অক্টোবর চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ না দিলে আমাদের কিছুই করার নাই। প্রতিনিয়ত আমরা যোগাযোগ করছি। তবে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন। তিনি অতি তারাতারি এই হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স দেয়ার দাবি জানান ।