ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

রংপুর প্রতিনিধি

৪ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:১১

রংপুরেও জামিন পাননি ব্যারিস্টার মইনুল

8373_362298_11.jpg
মানহানির মামলায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন মেলেনি রংপুরের আদালতে। তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে রংপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আরিফা ইয়াসমিন মুক্তা এ আদেশ দেন।

আদালতে হাজির করার সময় রংপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের উপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। বেলা সাড়ে বারোটার সময় আদালত চত্বরে মইনুলের উপর হামলার ঘটনা ঘটে।

এসময় হামলকারীরা তার ওপর জুতা, পচা ডিম ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে ব্যারিস্টার মইনুল আদালত থেকে চলে যাওয়ার সাথে সাথেই হাজিরা দিতে আসা বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় আদালত চত্বর। পরিস্থিতি সামাল দিতে শর্টগান ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা পুলিশকে দায়ী করে। অন্যদিকে মইনুলের জামিন না মঞ্জুর হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার আইনজীবীরা।

আদালতে ব্যারিস্টার মইনুলকে হাজির করার সংবাদে সকাল ৯ টা থেকে রংপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের গেটে অবস্থান নেয় আওয়ামীলীগ এবং সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বেলা ১১টায় রংপুর জেলা যুব মহিলালীগ সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববির নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা ব্যারিষ্টার মইনুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ঝাড়ু মিছিল বের করে।

এসময় তারা মইনুলবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী তুহিন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রনির নেতৃত্বে নেতাকর্মীরাও বিক্ষোভে অংশ নেয়।

এদিকে হাজিরা দিতে আসা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কারমাইকেল কলেজের সাবেক জিএস শহিদুল ইসলাম মিজু আদালত প্রাঙ্গনে জানান, আমাদের হাজিরা আছে। কিন্তু আদালতের গেট দখলে নিয়ে যেভাবে ঝাড়ু মিছিল করা হচ্ছে। তাতে আমরা আদালতে প্রবেশ করতে পারছি না।

তিনি আরো বলেন, এভাবে আদালত প্রাঙ্গনে ঝাড়ু মিছিল করাটা স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় আঘাত বলে আমি মনে করি।

ব্যারিস্টার মইনুলের জামিন শুনানীতে অংশ নেয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী  এ্যডভোকেট মাসুদ রানা পরে এক ব্রিফিংয়ে জানান, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন শুনানীতে অংশ নিয়ে নিজেই আদালতের বিচারক আরিফা ইয়াসমিন মুক্তার কাছে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার কথা তুলে ধরেন। এসময় তিনি আদালতকে বলেন, আমার ওপর আদালতের প্রবেশ পথে সরকার দলীয় লোকজন হামলা করেছে। এতে আমি আহত হয়েছি। এসময় আদালতের কাছে ব্যারিস্টার মইনুল নিরাপত্তা চান। আদালত বক্তব্য শুনে পুলিশকে তার নিরাপত্বা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এই আইনজীবী আরও জানান, বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর নাগরিক এবং সিনিয়ন আইনজীবীকে যেভাবে আদালত চত্বরে সরকার দলীয় লোকজন হামলা চালিয়ে তাকে আহত করেছে, সেটি কোন সভ্য সমাজে হতে পারে না। তিনি ব্যারিস্টার মইনুলের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানিয়ে এ ঘটনার নিন্দা জানান।

তবে এ ব্যপারে রংপুর জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নাছিমা জানান ববি জানান, ব্যারিস্টার মইনুল নারী জাতিকে অপমান করেছে। সেকারণে আমরা নারীরা তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ নিন্দা জানানোর জন্য শান্তিপুর্ণভাবে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছি। কেউ যদি তার ওপর হামলা চালিয়ে থাকে সেটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আমাদের দলের কেউ ওই ঘটনার সাথে জড়িত নয়। তিনি বলেন, আমরা চাই ব্যারিস্টার মইনুলের সর্বোচ্চ শাস্তি।

উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর মধ্যরাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির টক-শোর একপর্যায়ে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন চরিত্রহীন বলে উল্লেখ করেন। এরপর গত ২২ অক্টোবর রংপুর আদালতে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন মিলিমায়া বেগম। ওইদিন সন্ধ্যায়ই ব্যরিস্টার মইনুলকে গ্রেফতার করা হয়।