ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি ডেস্ক:

২৮ জানুয়ারি ২০১৮, ১১:০১

মুক্তি পেলেন সৌদি প্রিন্স ওয়ালিদ

842_8.jpg
সৌদি প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন তালাল
অবশেষে মুক্তি পেলেন সৌদি প্রিন্স ও ধনকুবের আল ওয়ালিদ বিন তালাল। দ্ইু মাসেরও বেশি সময় আটক থাকার পর গতকাল তিনি মুক্তি পেয়েছেন। তার পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে এ কথা। মুক্তির আগের দিন গত শুক্রবার রিয়াদের বিলাসবহুল রিৎজ কার্লটন হোটেলে আটকাবস্থায় ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কয়েক দিনের মধ্যে মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
গত ডিসেম্বরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে তার মুক্তিপণ হিসেবে ৬০০ কোটি ডলার দাবির কথা বলা হলেও আল ওয়ালিদ জানিয়েছেন এই অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করবেন না তিনি। তবে শনিবার মুক্তি পাওয়ার বিনিময়ে কোনো চুক্তি হয়েছে কি না সে বিষয়ে কোনো পক্ষই তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি।
গত বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সৌদি আরবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে গ্রেফতার করা হয় ১১ প্রিন্সসহ অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছিলেন আল ওয়ালিদও। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, একরাতে ২০০ জনেরও বেশি অভিজাত ব্যক্তিকে আটকের কয়েক দিনের মধ্যে এই সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যায়। এ অভিজাতদের নিয়ে রাখা হয় সৌদি আরবের বিলাসবহুল হোটেল রিৎজ কার্লটনে। পরে ‘দুর্নীতির অর্থ’ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেয়ার শর্তে তাদের মুক্তি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বেশ কয়েকজন রাজপুত্র ওই অর্থ ফেরত দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কিংডম হোল্ডিংয়ের মালিক আল ওয়ালিদ বিন তালালের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানা যাচ্ছিল না।
শুক্রবার দেয়া সাক্ষাৎকারে আল ওয়ালিদ জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনায় তিনি দুর্নীতিতে নির্দোষ থাকার কথা বলে গেছেন। আশা করছেন কিংডম হোল্ডিংয়ের পুরো নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই থাকবে। এর আগে খবর বের হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে চাইছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
রিৎজ কার্লটন হোটেলে বন্দীদের ওপর আটকাবস্থায় নির্যাতন করা হচ্ছে বলে গুজবও ছড়ায়। তবে আল ওয়ালিদ বলেছেন, এই ধরনের গুজব উড়িয়ে দেয়ার অংশ হিসেবেই সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন তিনি। এই রাজপুত্র বলেন, আটক অবস্থায় তার সাথে ভালো ব্যবহার করা হয়েছে।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী আল-ওয়ালিদের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় এক হাজার সাত শ’ কোটি ডলার; তার মুক্তির সম্ভাবনা কিংডম হোল্ডিংসে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। সৌদি এ প্রিন্সের মালিকানাধীন কিংডম হোল্ডিংস টুইটার ও সিটি গ্রুপের শেয়ার হোল্ডার। প্যারিসের জর্জ ফাইভ ও নিউ ইয়র্কের দ্য প্লাজার মতো বিশ্বখ্যাত হোটেলেও প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ আছে। প্রিন্স আল-ওয়ালিদ জানান, ‘তার সাথে সৌদি কর্তৃপক্ষের আলোচনার ৯৫ ভাগ শেষ হয়েছে। ভুলবোঝাবুঝি ছিল, সেটা কাটানো গেছে। এটা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি এখানেই থাকতে চাই, যেন মুক্তির পর স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারি এবং মুক্তির পর সৌদি আরবেই থাকার পরিকল্পনা রয়েছে আমার।’