ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

স্টাফ রিপোর্টার

৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:১১

ঢাকা-নেপিদোর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রস্তুত

8469_7......jpg
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। উভয়পক্ষই আগামী ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে হবে বলে প্রত্যাশা করেছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর বা সরকারপ্রধান অং সান সু চি। এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

ঢাকায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চায় উভয় পক্ষ। মিয়ানমারের কাছে ইতোমধ্যেই ৪৮৫টি পরিবারের ২২৬০ জন রোহিঙ্গার একটি তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রথম ধাপে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। এছাড়া ২২ হাজার ৪৩২ জন রোহিঙ্গার আরো একটি তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে মিয়ানমারকে। ওই তালিকা থেকে যাচাই বাছাই শেষে ধাপে ধাপে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে।

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে গিয়ে প্রথমে ট্রানজিট ক্যাম্পে থাকবে। সেখান থেকে অস্থায়ী বাড়িতে থাকবে। তারপর ধীরে ধীরে তারা নিজ গ্রামে ফিরে যাবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আগে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা ট্রানজিট ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। এছাড়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া তদারকি করবে ইউএনএইচসিআর, ইউএনডিপি ও আইসিআরসি।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্বেচ্ছামূলক ও নিরাপদে হবে বলে প্রত্যাশা করেছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর সু চি। গত ৫ নভেম্বর নেপিদোয় সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণনের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন। রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরত নিতে মিয়ানমার আগ্রহী বলেও সেই বৈঠকে জানান সু চি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে জাতিসংঘ। এ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া যেন নিরাপদে হয়, সে দিকেই নজর রাখবে সংস্থাটি। এছাড়া নানা ধরনের সহায়তা দেবে জাতিসংঘ। তবে বাংলাদেশ-মিয়ানমার যখন রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াং হি লি এক বিবৃতিতে বলেছেন, রাখাইনে এখনো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি মিয়ানমার সরকার। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

গত ৬ নভেম্বর ওই বিবৃতিতে ইয়াং হি লি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের রাখাইনে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে সেখানে যে রোহিঙ্গারা আবার সহিংসতার শিকার হবে না, মিয়ানমার সরকার থেকে সেই নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। এছাড়া মিয়ানমার সরকার থেকে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির জন্য কোনো পদক্ষেপও নেই বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সামনে রেখে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক ৬ নভেম্বর চীন গেছেন। সেখানে তিনি চীনের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়েও চীন সরকারকে জানাবেন তিনি। কেননা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় চীন অন্যতম ভূমিকা পালন করছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয় পক্ষের মধ্যেই প্রস্তুতি চলছে। ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও প্রত্যাশা করেছেন তিনি।

গত ৩০ অক্টোবর ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আগামী ১৫ নভেম্বর প্রথম দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় উভয় পক্ষ।