ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা

৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:১১

চীন-ভারত উত্তেজনার শেষ কোথায় ?

8480_China.jpg
গণচীনের ক্রমবর্ধমান উত্থান বিশ^ রাজনীতিকে একটা বড় ধরনের নাড়া দিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। উদীয়মান শক্তি হিসেবে এশীয় এই দেশটির অগ্রযাত্রা শুধু বিশ^পরাশক্তির নয় বরং আঞ্চলিক রাজনীতিতেও রীতিমত মাথা ব্যাথার কারণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের এই অগ্রযাত্রাকে ভালভাবে নেয় নি। মূলত আগামী দিনে চীনকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রধান প্রতিপক্ষ হিসাবে মনে করছে। অর্থনীতি, সামরিক ও প্রযুক্তিতে চীনের ক্রমবর্ধমান অগ্রযাত্রা প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের জন্যও উদ্বেগের। কারণ, একদিকে চীন আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে, অন্যদিকে জন্ম শত্রু পাকিস্তানের সাথে দেশটির সখ্যতা ভারতের জন্য মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়। তাই চীনকে মোকাবেলা করার জন্য মার্কিন-ভারত ঐক্য আরও জোরদার হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। আর চীনও উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলার  জন্য পরিক্ষিত বন্ধু পাকিস্তানের সাথে আগের তুলনায় পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। ফলে দেশ দু’টি যে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
চীন-ভারতের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ও অস্ত্র প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়। কিন্তু প্রতিযোগিতাটা  প্রাতিষ্ঠানিকতা পেয়েছে ১৯৬২ চীন-ভারত সামরিক সংঘাতের পর থেকে। এই যুদ্ধে চীনের কাছে ভারত বেশ পর্যুদস্ত হলেও চীন বরাবরই এ বিষয়ে সতর্ক। ফলে এই যুদ্ধের পর থেকে উভয় দেশের মধ্যে সামরিক প্রতিযোগিতা বেড়েছে। কারণ, উভয় দেশের মধ্যে আস্থাহীনতা এখন বেশ প্রকট। তাই একে অপরকে মোকাবেলা করার জন্যই উভয় দেশের সমর প্রস্তুতি ক্রমবর্ধমান। মূলত উভয় দেশের মধ্যে এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।
আসলে আস্থাহীনতাই উভয় দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার মূল কারণ। যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুগপৎভাবে চীনের উত্থানবিরোধী এবং ভারতের মিত্র শক্তি। তাই এই উত্তেজনায় মার্কিনীরা একটি নিয়ামক অনুসঙ্গ। বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগরের জলসীমা বিরোধ উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনতার অন্যতম কারণ। ফলে এই ত্রয়ীর মধ্যে একটা মনস্তাত্বিক লড়াই অতীতে ছিল, এখনও আছে এবং আগামী দিনেও থাকবে।
সম্প্রতি  ভারতের সীমান্ত ঘেঁষে আবহাওয়া স্টেশন তৈরি করার বিষয় নিয়ে উভয় দেশের মাধ্য একটা টানাপড়েন শুরু হয়েছে। ভারত-তিব্বত সীমান্তে চীন গড়েছে আবহাওয়া স্টেশন। তিব্বতের এমন দূর্গম এলাকার ইউমাই শহরে আবহাওয়া স্টেশন তৈরি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারত। তারা দাবি করছে যে এতে করে তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘিœত হবে। কিন্তু চীন তা বরাবরই অস্বীকার করছে। তারা বলছেন কোন দেশের নিরাপত্তা বিঘিœত করার জন্য নয় বরং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তারা এই স্টেশন নির্মাণ করেছেন।
ভারতের দাবি, চীন মুখে একথা বললেও মূলত অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত লাগোয়া স্থানীয় আবহাওয়ার গতিবিধি বুঝেই চীনের সেনা সেখানে ঘাঁটি গড়বে। কারণ সীমান্তে নিযুক্ত দু’দেশের সেনার কাছে নজরদারি চালানো সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ইউমাই শহরে এই স্টেশন তৈরি করে ভারতকে কূটনৈতিক স্তরে চাপে রাখতে চাইছে বেজিং। ভারতের কূটনৈতিক মহলও মনে করছেন এটা ভারতের উদ্দেশ্যে চীনের ছুঁড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জ।
মূলত দোকালাম-পরবর্তী বাস্তবতায় অরুণাচল নিয়ে ফের চীন-ভারত সঙ্ঘাতের শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে! সম্প্রতি ভারত সীমান্তে সোনার খনির সন্ধান পাওয়া গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অরুণাচল সীমান্তবর্তী নিজেদের ভূখন্ডে জোরকদমে খননকাজ শুরু করেছে বেইজিং। যেখানে সোনা, রুপোসহ অন্যান্য মূল্যবান খনিজের বিশাল সম্ভারের খোঁজ পাওয়া গেছে। যার আনুমানিক মূল্য ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার। আর এই স্বর্ণখনির সন্ধান অরুণাচলকে কেন্দ্র করে নতুন করে চীন-ভারত সঙ্ঘত উস্কে দিয়েছে। কারণ, উভয় দেশই অরুণাচলকে নিজেদের ভূখন্ড বলে দাবি করে আসছে। আর তা করার পেছনে বড় ধরনের একটা স্বার্থও কাজ করছে উভয় দেশের মধ্যে।
সম্প্রতি আবারও নতুন করে বিবাদে জড়িয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই শক্তিধর দেশ ভারত-চীন। বহু বছর পুরনো সীমান্ত সমস্যা নিয়ে নতুন করে দেশ দ’ুটির মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দুই দেশের প্রশাসনিক পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিরা একে অপরকে হুমকি দেয়ার মধ্যে এখনও সীমাবদ্ধ থাকলেও যেকোনো মুহূর্তে ১৯৬২ সালের পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি যদি সেদিকেই গড়ায় তাহলে তা কোন পক্ষের জন্যই সুখকর হবে না বরং অঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য তা হুমকী হয়ে দেখা দিতে পারে। যা শান্তিপ্রিয় এশীয়বাসীকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে।
মূলত ভারত এবং চীনের মধ্যকার সমস্যা হলো বিতর্কিত সীমান্ত নিয়ে। দুই দেশ বিতর্কিত সীমান্ত ইস্যু নিয়ে নিজেদের মধ্যকার সমস্যা মেটাতে না পারার অন্যতম দুটো কারণের মধ্যে একটি হলো, দুই পক্ষই একের অপরের প্রতি অশ্রদ্ধাশীল এবং অবিশ্বাসী। দ্বিতীয় কারণ হলো, দুই দেশের মধ্যকার আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সঙ্কটাবস্থা সীমান্ত সঙ্কট নিরসনে বাঁধা হয়ে দাড়ায়। বর্তমান যে অবস্থা, তাতে নিকট ভবিষ্যতে এই দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সমস্যা মিটবে বলে মনে হয় না বরং যতই দিন যাচ্ছে উভয় দেশের সীমান্ত বিরোধ বাড়ছে বৈ কমছে না। মূলত আর আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় এর অন্যতম কারণ।
মূলত পিপলস রিপাবলিক অব চীন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিদেশিদের সঙ্গে তৎকালীন সময়ে করা সকল চুক্তি এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ সন্ধিগুলো নতুন করে প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা হয়। সে সময় দক্ষিণ চীন সাগর বিরোধ ছাড়াও ভারতের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে সমস্যার কোনো সমাধান চীনের পক্ষ থেকে করা হয়নি। কিন্তু চীন ওই বিতর্কিত ভূখন্ডের প্রতি তাদের অধিকার ছাড়েনি। ১৯৬২ সালে নিজেদের মধ্যকার অমীমাংসিত সমস্যা নিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে যায় চীন ও ভারত। বিশেষ করে অরুনাচল প্রদেশকে চীন তাদের নিজেদের ভূখন্ড বলে এখনও দাবি করে আসছে। পাশাপাশি তিব্বত সীমান্ত নিয়েও চীন আগ্রাসী ভূমিকা দেখিয়ে আসছে।
চীন যে সীমানার দাবি করে তা মূলত মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের জঙ্গল থেকে কারাকোরাম রেঞ্জ হয়ে ক্রমশ উত্তর দিকে তিব্বত পর্যন্ত বিস্তৃত। ভারত এবং চীনের মধ্যকার ম্যাকমোহন লাইন সংক্রান্ত জটিলতা এতটাই তীব্র যে, চীনের সঙ্গে মোট ১৪টি প্রতিবেশি দেশের ভূমি ও নৌ সীমান্ত রয়েছে এবং ঐতিহাসিকভাবেই সেখানেও সমস্যা রয়েছে। তারপরেও চীন ভারতের কাছে যে প্রধান দু’টি দাবি করে আসছে, তার মধ্যে একটি হলো পশ্চিম সেক্টরের লাদাখ জেলা। অন্যটি হলো পূর্ব সেক্টরের অরুনাচল প্রদেশ। ১৯৬২ সালে এই ভূমি সমস্যা নিয়েই সুসজ্জিত চীনা বাহিনী তুলনামূলক দুর্বল ভারতীয় বাহিনীর ওপর হামলা চালায়।
১৯৮০ সাল পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে, বিশেষত লাইন অব অ্যাকচুয়াল কনট্রোল নিয়ে বেশ কয়েক দফায় চীনের সঙ্গে খন্ডযুদ্ধ হয়েছে। কিন্তু ১৯৮১ সালের দিকে দিল্লি এবং বেইজিং প্রশাসন উভয়েই আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত সমস্যার সমাধানের চিন্তা করে। তবে এরই মধ্যে ভারত অরুনাচল প্রদেশে ধীরে ধীরে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে থাকে। ১৯৮৪ সালের গ্রীস্মে ভারত সুমদুরং চু নদীর ধারে একটি পর্যবেক্ষন পোস্ট তৈরি করে। ১৯৮৬ সালে ভারত সরকার তাদের ৫ মাউন্ট ডিভিশন মোতায়েন করে ওই অঞ্চলে। এরই প্রেক্ষিতে ১৯৮৭ সালে চীন ২০ হাজার সৈন্য মোতায়েন করে ম্যাকমোহন লাইন বরাবর।
এরপর ২০১১ সালে চীনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মধ্যে দক্ষিণ চীনের সানায়া শহরে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর উদ্দেশে বেশকিছু মৌখিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। মূলত সীমান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে সকল পদক্ষেপ নেয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল এবং ২০১৩ সালের ১৪-১৫ জানুয়ারি বেইজিংয়ের সঙ্গে আবারও বসেছিল ভারত।
উভয় দেশের মাঝে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত বিরোধী নিয়ে ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধও হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও বিভিন্ন জায়গায় বিরোধ এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে এবং মাঝে-মধ্যেই সেটি মাথা চাড়া দেয়।
চীন, ভুটান আর ভারতের সিকিম প্রদেশের সংযোগস্থলে একটি উপত্যকার ভেতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করাকে কেন্দ্র করে নতুন বিরোধের সূচনা হয়েছে। চীন চায় সেখানে একটি রাস্তা তৈরি করতে। কিন্তু যে জায়গাটিতে চীন রাস্তা তৈরি করতে চাইছে সেটি ভুটান ও চীনের মধ্যকার একটি বিরোধপূর্ণ এলাকা।
সে উপত্যকাকে চীন এবং ভুটান-উভয় দেশই দাবী করে। এক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান ভুটানের পক্ষে। ভারত মনে করে, চীন যদি এ রাস্তাটি তৈরি করে তাহলে কৌশলগতভাবে ভারত পিছিয়ে পড়বে। এ রাস্তাটি মাধ্যমে চীন এমন একটি জায়গায় পৌঁছে যাবে যেটি ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। চীন এমন জায়গায় সড়ক নির্মাণ করতে চাইছে যার পাশেই ভারতের ২০ কিলোমিটার চওড়া একটি করিডোর আছে।         চীনের সাথে ভারতের উত্তেজনার আরেকটি কারণ রয়েছে। তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাইলামা ভারতে বসবাস করছেন, যেটি চীন মোটেও পছন্দ করছে না।
খুব সঙ্গত কারণেই উভয় দেশের মধ্যে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিনের। আর এই প্রতিযোগিতায় ভারতকে পিছনে ফেলে অনেকটা এগিয়ে ছিল চীন। কিন্তু সামরিক ক্ষেত্রে চীনের সাথে সমতা রক্ষার চেষ্টা ভারতে দীর্ঘ দিনের। কিন্তু সে চেষ্টায় তারা খুব একটা সাফল্য দেখাতে পারেনি। কিন্তু সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে দেশটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বলে দাবি করেছে।   তাদের দাবি মতে, ভারতে পরমাণু ত্রিশক্তি ক্ষেপণাস্ত্র সম্পন্ন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এই শক্তির অর্থ হলো সাগর, স্থল এবং আকাশপথে একইসঙ্গে সমানভাবে পরমাণু শক্তিধর ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করতে সক্ষমতা। ভারতের প্রথম পরমাণু শক্তিসম্পন্ন আইএনএস অরিহন্ত সাবমেরিন সফল ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মহড়ায় সাফল্য অর্জন করে ফিরেছে ভারতীয় পরমাণু শক্তির কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেমের আওতায়। এমনটিই দাবি করতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্র।
এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ডেটারেন্স টহলদারি। অর্থাৎ ভারত এবং আন্তর্জাতিক পানিসীমার বিভিন্ন সমুদ্রপথে সফর সেরে গভীর সমুদ্র অভ্যন্তর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মহড়া দিয়েছে অরিহন্ত। ব্রহ্মস ক্রুজ মিসাইল সিস্টেম থেকে আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের শক্তি অর্জন করার পর এই সমুদ্রগর্ভে আত্মগোপন করে থাকা সাবমেরিন প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রের যেকোনো ভূমি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দক্ষতা অর্জন করল। আর তাতে ভারত বিশ্বের সব থেকে শক্তিধর পাঁচ দেশের সমতুল্য হয়ে উঠল বলে মনে করা হচ্ছে। আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও চীনের কাছে রয়েছে এই ব্যবস্থা। এবার ভারতও প্রবেশ করল বিগ সিক্সের বৃত্তে। এবং আইএনএস অরিহন্তের নিশানায় এসে গেল চীন।
উল্লেখ্য, ডেটারেন্স টহলদারি সফলভাবে সম্পন্ন করে অরিহন্ত ডুবোজাহাজ সমুদ্র বন্দরে ফিরে আসায় ভারতের শক্তি বহুগুণ বেড়ে গেল। এর কারণ স্থলপথে ভারতকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্মুখীন হতে হলেও কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম ধ্বংস হবে না। সমুদ্র অভ্যন্তর থেকে এই আইএনএস অরিহন্ত সম্পূর্ণ গোপনে শত্রুপক্ষের ভূমিতে নিক্ষেপ করতে পারবে ধ্বংসাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র। ২০১৫ সালে অরিহন্তকে নৌবাহিনীর হাতে সমর্পণ করার পর পাঠানো হয়েছিল ডেটারেন্স পেট্রলিংয়ে। তবে তার এক বছর আগেই হয়েছিল সি-ট্রায়াল। এই পরমাণু শক্তিধর সাবমেরিনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল প্রতিপক্ষ দীর্ঘ সময় সন্ধানই পাবে না কোথায় আত্মগোপন করে আছে এই সাবমেরিন। বস্তুত প্রতিপক্ষ শিবিরের স্থলভূমির কাছেই কোনো এক সমুদ্রঅভ্যন্তর থেকে এই সাবমেরিন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম।
আইএনএস অরিহন্ত থেকে নিক্ষেপ করা যাবে ‘কে ফিফটিন’ এবং ‘কে ফোর’ নামক দুটি ক্ষেপণাস্ত্র। প্রায় ৩৫০০ কিলোমিটার ও ৭৫০ কিলোমিটার যার রেঞ্জ। অর্থাৎ ভারতের বিরুদ্ধে যে দু’দেশ সর্বদাই একজোট সেই চীন ও পাকিস্তানের সিংহভাগ শহর ব্যালিস্টিক মিসাইলের আওতায়! পাকিস্তান গত বছরই পরীক্ষা করেছে বাবর ব্যালিস্টিক মিসাইল। এবং ত্রিশক্তি অর্জনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। ত্রিশক্তি পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন হওয়ার এই গোটা প্রক্রিয়াটির কারিগর ভারতীয় নৌবাহিনীর সিক্রেট অ্যাডভান্সড টেকনোলজি প্রজেক্ট। যা ভারতকে প্রদান করল এক বিরল শক্তি। যাকে সামরিক পরিভাষায় বলা হয়, সেকেন্ড অ্যাটাক কেপেবিলিটি!
মূলত আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই চীন-ভারতের মধ্যে সামরিক শক্তি অর্জনের প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিনের। উভয় দেশই সর্বাধুনিক সমরাস্ত্র দিয়ে তাদের সামরিক বাহিনীকে সুসজ্জিত চেষ্ট চালিয়ে আসছে। এ ক্ষেত্রে চীন কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ভারত একেবারে বসে নেই। আর সে প্রচেষ্টায় ভারতীয় নৌ বাহিনীতে যুক্ত হয়েছে ‘অরিহন্ত’ নামীয় পরমাণু অস্ত্র বহণ করতে সক্ষম সর্বাধুনিক সাবমেরিন। ফলে উভয় দেশের মধ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতা আরও বৃদ্ধি ও নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যা উভয় দেশের জন্য যেমন হিতে বিপরীত হতে পারে, ঠিক তেমনিভাবে আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টিও উড়িয়ে দেয়া যায় না।
লেখকঃ কথাসাহিত্যিক ও কলামিষ্ট।