ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

স্টাফ রিপোর্টার

৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:১১

খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া তফসিল গ্রহণযোগ্য হবে না: ফখরুল

8500_363370_175.jpg
‘আমাদের কথা খুব স্পষ্ট। নির্বাচনের সমান মাঠ তৈরি করতে হবে, সকল দলকে সমান অধিকার দিতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে তাকে কাজ করতে দিতে হবে। অন্যথায় কোনো নির্বাচন, নির্বাচনের তফসিল গ্রহণযোগ্য হবে না।’

একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে জোটের জনসভা থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখ্যপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কথা বলেন।

এই জনসভা থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি মেনে নিতে আবারও সক্ষমতাসীনদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন অসুস্থতার কারণে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে আসতে না পারলেও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জনসভায় তার বক্তব্য শোনানো হয়।  

প্রধান দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার আগে তফসিল ঘোষণা করায় নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তড়িঘড়ি’ তফসিল ঘোষণার এই প্রক্রিয়া ‘গণতান্ত্রের বিরুদ্ধে’।

বিএনপি চেয়ারপারসনের ‍উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে শুক্রবার বেলা ২টায় ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে এ সভার কার্য্ক্রম শুরু হয়।

মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সদস্য সুলতান মো. মনসুর আহমেদ, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ জোটের জ্যেষ্ঠ নেতারা সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

সাত দফা দাবি নিয়ে সিলেট, চট্টগ্রাম, ঢাকার পর রাজশাহীতে এটি ঐক্যফ্রন্টের চতুর্থ জনসভা। খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের মত দাবি রয়েছে ওই সাত দফার মধ্যে।

মাদ্রাসা মাঠে নির্মিত পূর্বমুখী সভামঞ্চের ব্যানারে জোটের ওই সাত দফা দাবির বিষয়টি লেখা ছিল। মঞ্চের দুই পাশে মাঠের দেয়ালের কাছে দেখা যায় জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত বেশ কিছু ডিজিটাল ব্যানার।

এই জনসভায় অংশ নিতে জুমার নামাজের পর থেকেই নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে মাদ্রাসা মাঠে আসতে শুরু করেন। ঐক্যফ্রন্টের এই কর্মসূচি ঘিরে মাঠের চারপাশে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে সাত দফার মূল দাবিগুলো নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় রোডমার্চ করে রাজশাহীর সমাবেশে যাওয়ার কর্মসূচি দিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। তবে পরে রোডমার্চ স্থগিত করে কেবল জনসভা করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। সেখানে ভোটগ্রহণের জন্য ২৩ ডিসেম্বর দিন রাখা হয়েছে।

সমঝোতার আগে তফসিল ঘোষণা না করার দাবি জানিয়ে আসা ঐক্যফ্রন্ট নেতা মির্জা ফখরুল বৃহস্পতিবার রাতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই তফসিলে সরকারের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটেছে।