ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১৪ নভেম্বর ২০১৮, ২২:১১

ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচন পেছানোর বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস ইসির

8605_2.jpg
একাদশ জাতীয় সংসদে সকল দলের অংশগ্রহনের বিষয়টি মাথায় রেখে নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে বিবেচনায় নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচন কমিশন। ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে আজ বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।
 
ড. কামাল বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) আমাদের নির্বাচনে সাহায্য সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা বলেছেন, নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু হবে। তারা ধৈর্য্য ধরে আমাদের কথা শুনেছেন। আশা করি তারা সহযোগিতা দেবেন।

ড. কামাল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘটিত সংঘর্ষের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, এটি সরকারি বাহিনীর উৎসাহী কাজ।

এ ঘটনায় ইসি দু:খ প্রকাশ করেছে। নির্বাচন পেছানো হবে কি না, সে বিষয়ে কামাল হোসেন বলেন, ইসি বলেছে তারা বিষয়টি বিবেচনা করবে। ব্রিফিংয়ে ইসির বৈঠক নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা নির্বাচন তিন সপ্তাহ পেছানোর দাবিও করেছিলাম। তারা বলেছেন, কমিশন বৈঠকে বসে তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে দলীয় পর্যায়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের তালিকা করা হয়েছে, পত্র পত্রিকার এমন খবরে বিষয়টি আমরা ইসিকে জানিয়েছি। তারা বলেছে এমনটি হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা আমাদের দাবিগুলো তাদের জানিয়েছি। তারা সবই শুনেছেন। এখন তারা যদি তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পূর্ণভাবে পালন করেন, তবেই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে।

মির্জা ফখরুল ব্রিফিংয়ে বলেন, বিরোধী দলের নির্বাচনে টিকে থাকাটা ইসি ও নির্বাচনকালীন সরকারের আচরণের ওপর নির্ভর করছে। আমরা ইভিএম ব্যবহার করতে না করেছি। ইসি বলেছে, তারা সিটি করপোরেশন এলাকায় সীমিত আকারে এসব ব্যবহার করবে। সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে ইসি বলেছে, তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে। তবে প্রতি কেন্দ্রেই সেনা মোতায়েন করা যায় কি না, তা ইসি বিবেচনা করবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, গণভবনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। এটা সরকারি ভবন। এটা প্রধানমন্ত্রী পারেন কি না, সে বিষয়ে আমরা ইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। ইসি বলেছে, তারা এটি খতিয়ে দেখবে।

মির্জা আলমগীর বলেন, গায়েবী মামলা ও হয়রানী বন্ধের বিষয়ে আমরা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়ার দাবি করলে সিইসি বলেছেন, শুধু রাজনৈতিক কারণে যেন হয়রানি না করা হয় সে বিষয়ে তারা পদক্ষেপ নেবেন। বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচনী এজেন্টদের যাতে হয়রানি না করা হয়, সে বিষয়টি ইসি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে নির্বাচনের খবরাখবর সম্প্রচার নিয়ে ইসির সঙ্গে কথা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ইসি আমাদের সব কথা শুনেছে। প্রতিবারই শোনে। তবে তারা কতটা পালন করবে, তা জনগণ দেখবে।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনের তারিখ তিন সপ্তাহ পেছানোর মূল দাবি নিয়ে গতকাল ইসির সঙ্গে বৈঠক করে ঐক্যফ্রন্ট। এতে এই জোটের ১৪ নেতা অংশ নেন। বেলা সাড়ে তিনটায় ইসি কার্যালয়ে ওই বৈঠক শুরু হয়।

সিইসি কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে বৈঠকে তিন নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিব উপস্থিত ছিলেন। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, মওদুদ আহমেদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু,মোকাব্বির খান, জেএসডির আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, এস এম আকরাম, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমদ বৈঠকে অংশ নেন।